শুক্রবার, জানুয়ারি ২২
Shadow

আগাম প্রচারণায় মুখর ময়মনসিংহ

নিজস্ব প্রতিবেদক  :

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো ময়মনসিংহেও চলছে নির্বাচনী প্রস্তুতিমূলক নানা কর্মকাণ্ড। জেলার ১৩টি উপজেলা নিয়ে ১১টি সংসদীয় আসন। সবগুলো আসনই এবার আওয়ামী লীগ জোট নিজেদের দখলে নিতে চায়। অপরদিকে বিএনপি জোট এ আসনগুলো তাদের দখলে নিতে তীব্র লড়াইয়ের মনোভাবে মাঠে নেমেছে। জেলাজুড়ে শুরু হয়ে গেছে আগাম নির্বাচনী প্রচারণা।

নির্বাচন ঘিরে কেন্দ্রের পাশাপাশি মাঠের নেতারাও সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় নিজেদের সম্পৃক্ত রেখে মনোনয়ন প্রাপ্তির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এসব প্রার্থী এরই মাঝে এলাকায় প্রচার-প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন। এলাকায় দলীয় নেতার ছবিসহ নিজের ছবি দিয়ে পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন লাগিয়ে গণসংযোগসহ নানা কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন প্রার্থীরা।
জেলার ১১টি আসনেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে আভ্যন্তরীণ বিরোধ রয়েছে। নির্বাচন আসলে বিরোধ আরো চরম আকার ধারণ করবে। তবে যে দল আভ্যন্তরীণ বিরোধ মিটাতে সক্ষম হবে সেই দলের জয়লাভের সম্ভাবনা বেশি। সম্ভাব্য প্রার্থীরা ব্যক্তিগত যোগাযোগের পাশাপাশি প্রকাশ্যে কর্মীসভা, জনসভা, বিয়ের অনুষ্ঠান, জানাজাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে জামায়াত প্রকাশ্যে না থাকলেও ভিতরে ভিতরে কাজ করছে বলে জানা গেছে।
বর্তমানে ময়মনসিংহ জেলায় বিএনপির সাংগঠনিক দুটি জেলা শাখা রয়েছে। ছয়টি উপজেলা নিয়ে দক্ষিণ জেলা ও সাতটি উপজেলা নিয়ে উত্তর জেলা শাখা। ময়মনসিংহের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে দক্ষিণ জেলা   শাখার ভূমিকাই মুখ্য। এক সময় এই শাখাটির নেতৃত্বে ছিলেন প্রবীণ রাজনীতিক এ কে এম ফজলুল হক এমপি। যিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আমৃত্যু দলটির নেতৃত্ব দিয়েছেন। মুক্তাগাছা থেকে নির্বাচিত সাবেক এমপি ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন এখন দলের কাণ্ডারি। তার সঙ্গে হাল ধরেছেন শাখার সাধারণ সম্পাদক তরুণ রাজনীতিবিদ সাবেক ছাত্রনেতা আবু ওয়াহাব আকন্দসহ অনেকেই।
ময়মনসিংহ জেলায় জাতীয় পার্টির এক সময়ে ভাল অবস্থান ছিল। বিশেষ করে ভোটের রাজনীতিতে জাপা ফ্যাক্টর ছিল। এখন আর সেই অবস্থা নেই। রওশন এরশাদের বাড়ি ময়মনসিংহে হলেও তিনি এলাকায় কম আসেন। কিন্তু ময়মনসিংহ বিভাগ গঠনে তার ভূমিকায় জেলাবাসী খুশি।
প্রসঙ্গত, ময়মনসিংহ জেলায় ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে ১১টি আসনই ছিল আওয়ামী লীগের। ১৯৭৯ সালে বিএনপি আটটি, মুসলিম লীগ একটি, ইসলামী ঐক্য একটি ও একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়লাভ করেন। ১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগ পাঁচটি, জাতীয় পার্টি পাঁচটি ও একটি আসনে মুসলিম লীগ জয়লাভ করে। ১৯৯১ সালে ছয়টিতে বিএনপি, চারটিতে আওয়ামী লীগ ও একটিতে জাতীয় পার্টি জয়লাভ করে। ১৯৯৬ সালে সাতটিতে আওয়ামী লীগ, তিনটিতে বিএনপি ও একটিতে জাতীয় পার্টি জয়লাভ করে। ২০০১ সালে পাঁচটিতে আওয়ামী লীগ, পাঁচটিতে বিএনপি ও একটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়লাভ করেন। ২০০৮ সালে ১১টি আসনেই আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে। তবে ২০১৪ সালে সাতটিতে আওয়ামী লীগ ও চারটিতে জাতীয় পার্টি জয়লাভ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.