রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৮
Shadow

কিন্টার গার্ডেনগুলো ভর্তিক্ষেত্রে নীতিমালা মানছে কি?

একদিকে যখন মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা পরিলক্ষিত এবং অন্যদিকে যখন শিক্ষার সঠিক পরিবেশের কথা এসে যায় তখনই সাধারণত অভিভাবকদের মধ্যে বিদ্যালয় নির্বাচনের ব্যপারটি ভাববার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো শিক্ষাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করলেও ইদানিং দেখা যায় সন্তানদের আরও বেশী মানসম্মত শিক্ষার জন্য অভিভাবকরা সাধারণত কিন্ডার গার্টেন ভিত্তিক শিক্ষার উপর বেশী আস্থাশীল হয়ে পড়ছে। বিভিন্ন অনিয়ম আর পড়াশোনার মানের দিকে গ্রামাঞ্চলের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো অমনোযোগীতার কারণেই মূলত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর প্রতি মানুষের এই আস্থাহীনতা।

সন্তানের কথা চিন্তা করে অভিভাবকরা যেভাবে কিন্টার গার্টেনের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে তাতে কতটকু সফলতা আসছে ? যদি কিন্ডার গার্টেনের ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করা যায় তবে ¯পষ্টভাবে দেখা যায় কিন্ডারগার্টেন শিশুদের প্রাক-বিদ্যালয় বা বিদ্যালয়-পূর্ব উপযোগী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিশেষ। এ শব্দটি জার্মান শব্দ থেকে আগত যার অর্থ হচ্ছে শিশুদের বাগান। ‘কিন্ডারগার্টেন’ শব্দটি বিখ্যাত জার্মান শিশু-শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব ফ্রেডরিখ ফ্রোয়েবল কর্তৃক সৃষ্ট হয়েছে। তিনি ১৮৩৭ সালে ব্যাড বøাংকেনবার্গে শিশুদেরকে বাড়ী থেকে বিদ্যালয় পর্যন্ত গমন এবং খেলা ও প্রাতিষ্ঠানিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষাগ্রহণের ধারণাকে কেন্দ্র করে এ শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল, শিশুরা উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষনের মাধ্যমে প্রতিপালিত হবে এবং ‘শিশুদের বাগান’ হিসেবে কিন্ডারগার্টেনে বাগিচায় রোপিত চারাগাছের ন্যায় পরিচর্যা পাবে। (তথ্য: উইকিপিডিয়া)

শিশুদের বাগান হিসাবে পরিচিত হলেও কিন্ডার গার্টেনে শিশু ভর্তি করানোর পর যে টাকা অভিভাবকদের গুনতে হচ্ছে আমাদের দেশে তাতে করে অভিভাবকদের উপর একটা দশ মনের বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার স্বরুপই বলা যেতে পারে। শহরের আনাচে কানাচে থেকে শুরু করে একেবারে গ্রাম পর্যায়েও গড়ে উঠেছে অনেক কিন্ডার গার্টেন । এটা আমাদের জন্য এবং শিক্ষার জন্য অশার ব্যাপারই তবে প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি এবং টিউশন ফি এর ক্ষেত্রে বাঁধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে যেটা সেটা হল অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কোন নিয়ম না মানা।

সাধারণ একটা কিন্ডার গার্টেনেও ক্লাস নার্সারীতে ভর্তি ফি ধরা হচ্ছে ৫০০০ থেকে ৭০০০ টাকা। এই টাকার পরিমাণ আবার অন্যান্য উপরের ক্লাসে স্থানভেদে আরও বেশীও ধরা হয়। প্র¯েপকটাসে উল্লেখ করা হচ্ছে মাসিক বেতন প্লে, নার্সারিরে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা ।উপরের ক্লাসে স্থানভেদে আরও বেশী। কিন্তু বিপরীত চিত্র কিন্তু দেখা যায় শিক্ষদের বেতনে। এখানে শিক্ষকদের বেতন দেওয়া হয় ২৫০০ টাকা থেকে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত!

যেখানে শিক্ষার্থীরা বেতন দিচ্ছে একেক জন ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা সেখানে একজন শিক্ষকের বেতন কিভাবে ২৫০০ টাকা থেকে ৫০০০ টাকা হয়। আর যদি এ টাকায় কোন শিক্ষক রাখাও যায় তার কাছে থেকে শিশুদের বাগান কল্পনা করা কিন্ডার গার্টেন কতটুকু স্বার্থক হতে পারে বলে মনে করা যায়!

শুধু এখানেই শেষ নয়। কিন্ডারগার্টেন গুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য বইয়ের জন্য কোন ধরাবাধা নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছে না। যে যেকোন বই পড়াতে বাধ্য করে শিক্ষার্থীদের এবং এই বইগুলো কিনতেও হয় স্ব স্ব বিদ্যালয় থেকেই।
একদিকে সন্তানেরা নিচ্ছে বইয়ের ভার অন্য দিকে অভিভাবকরা নিচ্ছে অর্থনৈকিত চাপ। শিশুদের বিকাশ যেমনি বাঁধাগ্রস্থ্য হচ্ছে বইয়ের ভারে তেমনি অভিভাবকরা চাপে পড়ছেন বাড়তি টাকা গুণে !
বর্তমানে শিক্ষার একটি বড় জায়গা জুড়ে যদিও কিন্ডারগার্টেন রয়েছে তবুও এর মান, শিক্ষার ধরণ এবং শিক্ষার পরিবেশ সব কিছু মিলে এর গ্রহন যোগ্যতা শিক্ষার উন্নয়নে কতটুকু ভ‚মিকা রাখছে তা যেমন দেখতে হবে তেমনি একটি সুর্নিদিষ্ট নীতিমালার মধ্যে সকল কার্যক্রম পরিচালনা করার প্রকিয়া চালু করতে হবে। শিক্ষা ক্ষেত্র যদি ব্যবসা ক্ষেত্র হিসাবে ব্যবহার হতে শুরু করে তবে একসময় এর কুফল সারা জাতিরই বয়ে নিয়ে যেতে হবে ।

সাঈদ চৌধুরী
সদস্য, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি
শ্রীপুর, গাজীপুর
মোবা: ০১৭১২-৭৬৮২৪৩

Leave a Reply

Your email address will not be published.