শনিবার, এপ্রিল ১৭
Shadow

অসময়ে তরমুজের বাম্পার ফলন

নিজস্ব প্রতিবেদক  :

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার শোভনা কদমতলা গ্রামের শুভংকর মন্ডলের মৎস্য ঘেরে অসময়ে তরমুজের ফলেছে। অসময়ে তরমুজের চাষ করতে তার ব্যয় অধিক হলেও ফলন হয়েছে বাম্পার। আশাতীত ফলনে তরমুজে তরমুজে ছেয়ে গেছে ঘেরের দু’পাড়।ডুমুরিয়া উপজেলার শোভনা ইউনিয়নের কদমতলা গ্রামের বাসিন্দা শুভংকর মন্ডল। পেশায় তিনি একজন সরকারি চাকরিজীবী। লোহাগড়া উপজেলায় সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হিসাবে তিনি কর্মরত। পদস্থ কর্মকর্তা হলেও তার গ্রামের বাড়িতে রয়েছে প্রায় ১০ বিঘা জমির ওপর মৎস্য ঘের। সেখানে তিনি মাছ চাষের পাশাপাশি ঘেরের চারপাশ জুড়ে করেছেন উন্নত সবজি চাষ। বরবটি, ঝিঙ্গা, বেগুন, শসা, লাউ, ঢেরশসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফসল রয়েছে সেখানে। তারমধ্যে ব্যতিক্রমী হল তরমুজের চাষ। অসময়ে হলেও ঘেরের ভেঁড়ির বেড় খানিকটা জায়গা জুড়ে তিনি তরমুজের চাষ করেছেন। আর এই তরমুজ চাষ করে তিনি পেয়েছেন বাম্পার ফলন।

ঘেরের দায়িত্বে থাকা ঠাকুরদাস সরদার বলেন, গেল বছরে শখ করি আমরা ভেঁড়ির ওপরে চারটি বীজ রোপন করেছিলাম। পরে দেখি ওই চার গাছেই  ৮/১০টি তরমুজ হয়ছে। পাকার পর কেটে দেখি ভেতরে ভালই লাল আর খেতেও ভাল মিষ্টি। ওই সময়ই আমরা ঠিক করেছিলাম সামনের বছরে বেশি করে তরমুজ লাগাব। তাই এ বছরে প্রায় দুই’শ মান্দা দিয়েছি আর তরমুজও হয়েছে ভাল। ইতোমধ্যে ব্যাপারিরা মণ প্রতি ২২’শ টাকা করে  দাম বলেছে, এখনও আমরা কিছু বলিনি।এটিও শুভংকর মন্ডল বলেন, বছরে প্রায় এক লক্ষ টাকা চুক্তিতে ১০ বিঘা জমি হারিতে নিয়ে সেখানে মাছ ও সবজি চাষ শুরু করেছি। মুলতঃ তরমুজের চাষটি আমি শখের বশেই করেছি। বাঁশ, নেট, সুতা-তার কিনতে আমার অনেক টাকা ব্যয় হয়েছে, শ্রমের পেছনেও গেছে অনেক টাকা। তারপরেও আমি খুব খুশি। তরমুজের ধরন হয়েছে বেশ ভাল।ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ নজরুল ইসলাম বলেন, তরমুজ হল কুমড়া জাতীয় ফসল। বার মাসেই এর চাষ করা সম্ভব। কিন্তু আমাদের এ অঞ্চলে রবি মৌসুমে তরমুজের চাষ হয়ে থাকে। শুভংকর মন্ডলের ফলন ভাল হয়েছে। বৃষ্টি মৌসুমে তরমুজ উৎপাদন হওয়ায় এটি একটি মডেল। আগামীতে অন্যান্য কৃষকদের উদ্বুব্ধ করে ডুমুরিয়া উপজেলায় আরও বেশি করে তরমুজের চাষ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.