বুধবার, মার্চ ৩
Shadow

বিজয়া দশমী

আজ বিজয়া দশমী। অশ্রুসজল নয়নে ভক্তবৃন্দ বিদায় জানাবেন দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গাকে। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে বাঙালী হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় আয়োজন শারদীয় দুর্গোৎসব। দেবী দুর্গা ফিরে যাবেন কৈলাসে। মহালয়ার মধ্য দিয়ে যে দেবীপক্ষের সূচনা হয়েছিল, বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তার সমাপন ঘটছে। আগামী শরতে আবার ফিরে আসবেন আনন্দময়ী দেবী দুর্গা বাঙালী হিন্দুর ঘরে ঘরে এমন প্রত্যাশা নিয়েই মাকে বিদায় জানাবেন ভক্তরা। সনাতন শাস্ত্র মতে, এবার মা দুর্গা এসেছেন নৌকায়, যাবেন ঘোড়ায় চড়ে। নিয়ে আসছেন সুখ-সমৃদ্ধি, সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা রোহিত ধরণী। আর সকল অশুভ শক্তিকে নিয়ে যাবেন ঘোড়ায় চড়ে।

এ দেশ বরাবরই ধর্মীয় সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির এক মেলবন্ধন। সবাই স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করছেন। ধর্ম যার যার উৎসব সবার- এই অধিকার নিশ্চিত করেছে সরকার। প্রতিবারের মতো এবারও পূজাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে আনন্দঘন আবহের সৃষ্টি হয়েছে। দেশব্যাপী বইছে নির্মল সম্প্রীতি থেকে উৎসারিত উৎসবের ফল্গুধারা। সাড়ম্বরে দুর্গোৎসব পালনের মধ্য দিয়ে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও কল্যাণময় পরিবেশের বিকাশ আরও বিস্তৃত এবং বিকশিত হয়। উপরন্তু অশুভ শক্তির পরাজয় ঘটিয়ে মঙ্গলদায়ক, শুভশক্তি ও ইতিবাচক চেতনার সম্প্রসারণ ঘটে। পূজায় এবার দেশের কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সামাজিক সহিষ্ণুতা ও উদারতা এবং রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের তীক্ষè নজরদারি এক্ষেত্রে প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখেছে।

অসুরকুলের দলপতি মহিষাসুরকে বধ করে দেবকুলকে রক্ষা করেছিলেন দুর্গতিনাশিনী দুর্গা। সেই থেকে বিজয় ঘটে শুভশক্তির। দেবীর আগমন ঘটে অন্যায়ের বিনাশ ঘটিয়ে সজ্জনদের প্রতিপালনের অঙ্গীকার নিয়ে, মানুষের মধ্যে নৈতিক আদর্শ জাগ্রত করার জন্য। মানুষের চিত্ত থেকে যাবতীয় দীনতা ও কলুষতা দূরীভূত করার জন্য। এ জন্য দুর্গোৎসব ধর্মীয় উৎসব হলেও তা সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। সম্প্রদায়গত বিভেদের উর্ধে উঠে মানুষকে এক পরম আনন্দের সোপানে দাঁড় করিয়েছে। শারদীয় দুর্গোৎসব সবার জন্য উন্মুক্ত। দেবী দুর্গার আগমনী আনন্দকে সবাই ভাগাভাগি করে নিতে আগ্রহী হয়ে ওঠে। কারণ, বাঙালী জাতি নিরন্তর উন্মুক্ত উৎসবমুখর পথে চলতে পছন্দ করে। এই পছন্দের স্রোতধারায় এই গত কদিন ভিন্ন আমেজ ও ভিন্নতর সুবাতাস বয়ে গেছে দেশজুড়ে।

ধর্ম উৎসব মানুষে মানুষে প্রীতি, প্রেম, সহিষ্ণুতা, ঐক্য ও শান্তির ডাক দিয়ে যায়। তারপরও অসুরের আকস্মিক উন্মত্ততা নষ্ট করে দেয় আবহমানকালের প্রীতিধন্য পারস্পরিক সহাবস্থানকে। ধ্বংস করে দেয় দীর্ঘকালীন হৃদ্যকে। সৃষ্টি হয় বৈষম্য, বিভেদ, হিংসা, অন্যায় ও অকল্যাণ। আর এ জন্যই মঙ্গলদাত্রী দেবী দুর্গার আগমন ঘটে কল্যাণ ও শান্তি সংস্থাপন করার জন্য। তিনি শুভ ও ন্যায়ের উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে যান সবাইকে। এবার হাওড়ে বন্যাসহ বেশ কয়েকটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করতে হয়েছে দেশবাসীকে। তাই দুর্গতিনাশিনী মার কাছে সব ভক্তের আকুল প্রার্থনা সকল প্রকার দুর্যোগ থেকে দেশ ও বিশ্ববাসীকে তিনি যেন রক্ষা করেন। বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যেন অটুট থাকে। দূর হোক সব সঙ্কীর্ণতা ও বিভেদ কল্যাণময়ী মা যেন সেই শক্তি ও সৌহার্দ্য সবার হৃদয়ে ও মনে জাগ্রত করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.