সোমবার, জানুয়ারি ২৫
Shadow

স্বামীকে হত্যার পর শয়ন ঘরে পুঁতে রাখল স্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক  :

বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় জাকির হোসেন বিপু (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার পর তার লাশ শয়ন ঘরের মেঝেতে পুঁতে রেখেছে তার স্ত্রী। ঘটনার তিনদিন পর ওই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বানু আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উপজেলার নাড়ুয়ামালা ইউনিয়নের বাহাদুরপুর উত্তর পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাত ১০টায় পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছে।

নিহত জাকির হোসেন বিপু বগুড়া খান্দার বিলপাড়া এলাকার পিতা-মৃত শাজাহান আলীর ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৯ বছর আগে বগুড়া খান্দার বিলপাড়া এলাকায় মায়ের সঙ্গে ভাড়া থাকা অবস্থায় বাহাদুরপুর গ্রামের মৃত শমশের আলীর মেয়ে বানু আকতারের সঙ্গে জাকিরের পরিচয় থেকে প্রেমের সম্পর্ক পরে তাদের বিয়ে হয়। সংসার জীবনে জাকির ও বানু আকতারের ২টি মেয়ে সন্তান রয়েছে একটির বয়স ৮ বছর অপরটির বয়স ২৩ মাস।

বানু আক্তার জানান, বিয়ের পর হতে তাদের মধ্য সাংসারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝগড়া- বিবাদ লেগেই থাকত। মাঝে মধ্য অমানবিক নির্যাতন ও জ্বালা-যন্ত্রণা করত স্বামী জাকির। সহ্য করতে না পেরে তাদের সংসার বিচ্ছেদ হয়েছিল একবার। স্বামী জাকির রং মিস্ত্রির কাজের পাশাপাশি, ইয়াবা ব্যবসা, ছিনতাই ও জিনের বাদশা সেজে মোবাইলের মাধ্যমে প্রতারণা করে টাকা আদায় করত বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে।

হত্যায় দায় স্বীকার করে বানু আক্তার পুলিশকে জানান, গত ২৭ সেপ্টম্বর (বুধবার) রাতের খাবার শেষে নেশাগ্রস্থ জাকির যখন ঘুমিয়ে পড়েন, তখর বানু আকতার ইসবগুলের শরবতের সাথে ৫/৬টি ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে জাকিরকে ঘুম থেকে ডেকে পান করায়। জাকিরের আগে থেকেই ঘুমের ওষুধ ও ইসবগুলের শরবত খাওয়ার অভ্যাস ছিল। রাত ১টায় ঘুমে অচেতন স্বামী জাকিরকে বানু আকতার লোহার পাইপ দিয়ে নাক, মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি নির্যাতন করে। এতেও যখন মৃত্যু হচ্ছিল না, তখন গামছা দিয়ে স্বামী জাকিরের গলায় ফাঁস লাগিয়ে নাক-মুখ চেপে ধরে হত্যা নিশ্চিত করে। এরপর শয়ন ঘরের বিছানা থেকে লাশ টেনে মাটিতে নামিয়ে খাটের নিচে মেঝেতে গর্ত করে পুঁতে রাখে মাটির পল্ট্রি (লেপে) দিয়ে ঘরের মেঝে স্বাভাবিক অবস্থায় রেখে ঘর তালাবন্ধ করে রাখে। বড় মেয়েকে অন্যত্র পাঠিয়ে বানু আক্তার স্বামীকে হত্যার পর থেকে ২৩ মাসের সন্তানকে নিয়ে পাশের ঘরে রাত্রিযাপন করতে থাকে। বাড়িতে বানু আকতার একা থাকার কারণে দুই দিন সে বাড়ির বাইরে বের হয়নি। ৩য় দিন শুক্রবার সন্ধ্যায় ঘর থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হতে থাকলে বানু আক্তার নিজেই গ্রামের লোকজনকে সংবাদ দেয়। স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে জানায়। পরে পুলিশ মাটি খুঁড়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বানু আকতার স্বমী জাকিরকে হত্যার রহস্য বর্ণনা করেন।

এস আই আহসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বানু আক্তারের একার পক্ষে হত্যা করা সম্ভব নয়। এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তা তদন্ত করে প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকেও গ্রেফতার করা হবে। শনিবার গাবতলী মডেল থানায় নিহত জাকির হোসেন বিপুর মা জাকিয়া সুলতানা বাদী হয়ে পুত্রবধূ বানু আক্তারসহ ৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.