শুক্রবার, এপ্রিল ২৩
Shadow

চাপের মুখে নামেমাত্র রোহিঙ্গা ফেরত নিবে,সাবধান

 

বেশ কয়েকটা আলোচনা রোহিঙ্গা ইস্যুতে আশার আলো দেখাতে শুরু করেছে । প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ এবং রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর এই সংকট সমাধানের আশা অনেকটাই জেগেছে। রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করে বাংলাদেশ থেকে অসহায় রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের প্রতি আন্তর্জাতিক চাপ দিন দিন বাড়ছে। সর্বশেষ মিয়ানমারের অন্যতম মিত্রদেশ চীন ও রাশিয়ার মধ্যে চীনের মনোভাব কিছুটা বদলেছে। এরই মধ্যে চীন রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধানে মিয়ানমারকে বার্তা দিয়েছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়তে থাকায় সংকট সমাধানে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগ্রহ দেখিয়েছে মিয়ানমার। সম্প্রতি জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে মিয়ানমারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা থং টুন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর কাছে প্রথম বৈঠকের প্রস্তাব দেন। পরে রাখাইন রাজ্যের পরামর্শ বাস্তবায়ন কমিটির সঙ্গে বৈঠকে বসে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেল। সেখানে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নিতে একটি ওয়ার্কিং গ্রæপ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মিয়ানমারের এই প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে নিয়ে সু-চির দফতরের ইউনিয়ন কাউন্সেলরকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আজ রোববার রাতে সে আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে অং সান সু চি মন্ত্রী উ কিয়া তিন্ত সোয়ে ঢাকায় আসার কথা রয়েছে। এমন পরিপ্রেক্ষিতে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার আরেক দফা বৈঠক এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। এমন বৈঠকে আপত্তি নেই বাংলাদেশেরও। জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ছয় দফা ও পাঁচ দফাকে ভিত্তি ধরেই প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করছে বাংলাদেশ। আমার মনে হয় সবকিছু এখন আমাদের হাতে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে আগের চেয়ে শক্ত অবস্থান নিতে হবে। স্পর্শকাতর বিষয়। তাই সর্বোচ্চ কূটনৈতিক দক্ষতা প্রয়োগ করতে হবে। কিছুতেই কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব ছাড়া মিয়ানমারের সঙ্গে বসা ঠিক হবে না। এবারই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে হবে। সাধবান থাকতে হবে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পরিস্থিতি শান্ত করতে মিয়ানমার নামমাত্র কিছু রোহিঙ্গা ফেরত নেওয়ার পর অন্যবারের মতো এবারও প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিতে পারে। তাই এবার চুক্তি মানতে বাধ্য করতে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় এবং জাতিসংঘকে রেখে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি করার চিন্তা করতে হকে। যাতে কিছুতেই বিগত সময়ের মতো পিছিয়ে যেতে না পারে।

রাজীবুল হাসান

লেখক:সংবাদকর্মী ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.