শুক্রবার, মে ৭
Shadow

রোহিঙ্গা ইস্যু জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে তোলা হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক :

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা চলমান রোহিঙ্গা ইস্যু জাতিসংঘের আসন্ন সাধারণ অধিবেশনে তুলে ধরার কথা জানিয়ে বলেছেন, এ ইস্যুতে সারাবিশ্ব আজ জেগে উঠেছে। সব দেশ থেকে মিয়ানমারকে অনুরোধ করা হচ্ছে নির্যাতন বন্ধ করে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত নিতে। আমাদের কষ্ট হলেও মানবিক কারণেই মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে খাবার ভাগ করে খাওয়া হবে। কিন্তু তাদের কোনো কষ্ট হতে দেয়া হবে না। কেননা তারা আমাদের আশ্রয়ের জন্য এসেছে। তাদের আমরা ফেলে দিতে পারি না। মিয়ানমারের মতো নাফ নদী কিংবা বঙ্গোপসাগরের দিকে ঠেলেও দিতে পারি না।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার দশম জাতীয় সংসদের সপ্তদশ অধিবেশনের সমাপনি বক্তব্যে রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, অল্প সময়ের জন্য হলেও জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল সংসদের এই অধিবেশন। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয়ে রেজুলেশন নেয়া হয়েছে অধিবেশনে। আমরা গণতন্ত্রের চর্চা করি, সংসদ সদস্যরা জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে। প্রতিটি ইস্যুতে সরকার ও বিরোধী দল আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করবে এটাই নিয়ম। সংসদের মান-মর্যাদা রক্ষা, গুরুত্ব উঠে এসেছে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজের দেশের নাগরিকদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালানো হচ্ছে মিয়ানমারে। কিছু সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দেশটির পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ওপর হামলার পরই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। যারা দোষী তাদের খুঁজে বের করা হোক, শাস্তি দেয়া হোক। কিন্তু নিরীহ মানুষের ওপর এমন নির্যাতন কেন? সেখানে গিয়ে দেখেছি কী করুণ অবস্থা। শিশু, নারী, বয়োবৃদ্ধই বেশি এসেছে। তাদের কাছ থেকে যে ভয়াবহ ঘটনা শুনা যায়, পাকিস্তানের হানাদার বাহিনী যেভাবে আক্রমণ করেছিল সেটিই ফুটে উঠেছে। একাত্তরেও আমাদের এক কোটি শরণার্থী ভারতে গিয়েছিল। এখনো মিয়ানমারে ঘর-বাড়িতে আগুণ জ্বলছে। আমাদের ওপর বিরাট বোঝা হলেও মানবিক কারণে আমরা তাদের আশ্রয় দিতে বাধ্য হয়েছি।

তিনি বলেন, কীভাবে এবং কেমন করে রাখবো সেটাই বড় সমস্যা। ৩ লাখের বেশি মানুষ এসেছে। আরও আসছে। মিয়ানমারকে জানিয়েছি, সন্ত্রাসীদের কাউকে প্রশ্রয় দেব না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবচেয়ে মানবিক দিক হলো শিশুরা। বাবা-মা, ভাই-বোন সবাইকে মেরে ফেলা হয়েছে। অনেক শিশুর আপনজন বলে কেউ নেই। এ ধরণের করুণ কাহিনী সেখানে চলছে। এ দৃশ্য আমার পক্ষে সহ্য করা সম্ভব নয়। কারণ রিফিউজি হিসেবে থাকার কষ্ট আমি ও আমার বোন শেখ রেহানা বুঝি। আমাদের যতই কষ্টই হোক না কেন আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছি। কিন্তু মিয়ানমারকে তাদের নাগরিকদের ফেরত নিতেই হবে। তাদের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published.