সোমবার, জানুয়ারি ১৮
Shadow

রাখাইনে ভুতুড়ে পরিবেশ দেখলেন বিদেশি কূটনীতিকরা

প্রাইম আন্তর্জাতিক :

জাতিগত নিধন চালিয়ে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিতাড়ন করার পর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা জনপদগুলোতে ভুতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করছে।

সহিংসতাকবলিত রাখাইন রাজ্যে বিদেশি কূটনীতিক ও জাতিসংঘের প্রতিনিধিকে পরিদর্শনে নিয়ে গেছে মিয়ানমার সরকার। সোমবার তিনটি দলে ভাগ করে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়। মংডুর জেলা প্রশাসক ইয়ে টুট এ তথ্য জানিয়েছেন।

সোমবার রাখাইনে মংডু সফর শেষে সুইস রাষ্ট্রদূত পল সেগার এক টুইটে লেখেন- ‘মংডু ভুতুড়ে এলাকায় পরিণত হয়েছে।’

মিয়ানমার সরকারের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, সোমবার আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের তিনটি দলকে ভিন্ন ভিন্ন তিনটি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রতিনিধিদলে ছিলেন বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূত, ইউএনএইচসিআর, ইউএনডিওসি এবং বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তারা। তাদের সহিংসতার শিকার মংডুসহ রোহিঙ্গা গ্রাম আহ নোক পিয়েন ও নোরোলাহ ঘুরিয়ে দেখানো হয়।

রাখাইনে গত ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের সঙ্গে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী পুলিশের সংঘর্ষ হয়।

এর জেরে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা গ্রামগুলো লক্ষ্য করে অভিযানের নামে গণহত্যা ও গণধর্ষণে লিপ্ত হয়। তারা চার হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গাকে হত্যা করেছে।

এ পরিস্থিতিতে প্রাণ বাঁচাতে রোহিঙ্গারা দলে দলে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। জাতিসংঘের হিসাবমতে, এ পর্যন্ত প্রায় সোয়া পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে।

জাতিসংঘ মিয়ানমারের বিরুদ্ধে পাঠ্যবইয়ে লিখে রাখার মতো ভয়াবহ জাতিগত নিধন চালানোর অভিযোগ আনে।

রাখাইনে ত্রাণ সংস্থা, সাংবাদিক ও বাইরের কাউকে প্রবেশ করতে না দেয়ায় মিয়ানমার সরকার সমালোচনার মুখে পড়ে। এর মধ্যে গত সপ্তাহে জাতিসংঘের একটি প্রতিনিধিদলকেও রাখাইনে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।

এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক দাবির মুখে সোমবার কূটনীতিকদের রাখাইনে নিয়ে যায় মিয়ানমার সরকার।

তারা কূটনীতিকদের নিয়ে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলায় নিহতদের আত্মীয় ও ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলান। রোহিঙ্গা মুসলমানরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও মংডুর হিন্দু, ম্রো ও ডায়াগনেট সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলাপের ব্যবস্থা করেন।

মংডুর জেলা প্রশাসক ইয়ে টুট জানান, কূটনীতিকদের তিনটি দলে ভাগ করে সহিংসতাকবলিত কয়েকটি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। এর বেশি তথ্য তিনি দেননি।

তবে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা মোয়ে জাউ জানান, সোমবার সকালে কূটনীতিকদের রাথেডাং শহরের আনাউট পাইন গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। এই গ্রামের রোহিঙ্গা মুসলমানরা কূটনীতিকদের জানান তাদের কেউ পালিয়ে যায়নি।

কিন্তু সফর শেষে নিজের টুইটার পেজে সুইস রাষ্ট্রদূত পল সেগার লেখেন- ভুতুড়ে এলাকায় পরিণত হয়েছে মংডু।

Leave a Reply

Your email address will not be published.