মঙ্গলবার, এপ্রিল ২০
Shadow

প্রধান বিচারপতি সুস্থ, দাবি বিএনপি’র

নিজস্ব প্রতিবেদক :প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা সুস্থ আছেন বলে দাবি করেছে বিএনপি। একই সঙ্গে তাকে জোর করে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি।

বুধবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই দাবি করেন। নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধান বিচারপতি অসুস্থ নন। তাকে জোর করে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখা হয়েছে। সর্বোচ্চ আদালতের সর্বোচ্চ বিচারপতির সঙ্গে এমন আচরণ করা থেকে প্রমাণিত হয়, সরকার অস্তিত্ব সংকটের ভীতিতে বেসামাল হয়ে পড়েছে।’

মির্জা ফখরুল দাবি করেন, ষোড়শ সংশোধনীর আপিলের রায়ের জের ধরে ‘আক্রোশমূলকভাবে’ প্রধান বিচারপতিকে এক মাসের ছুটিতে যেতে ‘বাধ্য করা’ হয়েছে, যা দেশের বিচার বিভাগের ‘স্বাধীনতা হরণের ক্ষেত্রে একটি নোংরা দৃষ্টান্ত’ স্থাপন করেছে।

বিএনপি সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ আদালতের বিরুদ্ধে সরকারের এহেন আক্রোশমূলক, ঘৃণ্য আচরণের তীব্র নিন্দা জানাই। শক্তি প্রয়োগের দ্বারা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হরণের মাধ্যমে বিচার বিভাগকে অনুগত করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

ফখরুল বলেন, ‘সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের সর্বসম্মত রায় দেওয়ার পর থেকে সর্বোচ্চ আদালত ও তার সম্মানিত বিচারপতিদের সরকার প্রধান থেকে সরকারের মন্ত্রীবর্গ ও সরকারি দল ও জোটের নেতা-কর্মীরা অসাংবিধানিক, অযৌক্তিক ও কুৎসিত ভাষায় সমালোচনা করে চলেছেন। এমনকি জাতীয় সংসদে যে ভাষায় সর্বোচ্চ আদালত ও তার বিচারপতিদের সমালোচনা করা হয়েছে তা শুধু অভূতপূর্ব নয়, অস্বাভাবিকও।’

তিনি আরও বলেন, ‘সর্বোচ্চ আদালতের রায় পছন্দ না হলে তা রিভিউ করার সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় না গিয়ে সরকার দেশের প্রবীণ বিচারপতিকে নজিরবিহীনভাবে ছুটি নিতে বাধ্য করার যে নোংরা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তার বিরুদ্ধে দেশের আইনজীবী সমাজের পাশাপাশি সচেতন জনগণ প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন।’

সুবিচার পাওয়ার সর্বশেষ ভরসাস্থল উচ্চ আদালতও সরকারের আক্রমণের শিকারে পরিণত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।

প্রধান বিচারপতি ‘সুস্থ আছেন’ দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি মাত্র ক’দিন আগে জাপান ও কানাডা সফর করে এসেছেন। এসব দেশে উন্নত চিকিৎসা থাকা সত্ত্বেও তিনি সেখানে কোনো চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন বলে দেশবাসী জানে না। এমনকি গত পরশুও তিনি সুপ্রিম কোর্টে তার কার্যালয়ে বসে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ফাইল সই করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘নিয়মিত প্রথা অনুযায়ী গতকাল সকল বিচারপতিকে নিয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে পূণর্মিলনী অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তও দিয়েছিলেন। অথচ গতকাল আইনমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেল মিডিয়াকে জানিয়েছেন যে, তিনি নাকি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ছুটি নিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.