সোমবার, জানুয়ারি ১৮
Shadow

বিপন্ন খালগুলি বাঁচাইতে হইবে

কার্যকর নজরদারি ও সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে রাজধানী হইতে খাল ও অন্যান্য প্রাকৃতিক জলাধারগুলি বিলুপ্ত হইতে চলিয়াছে। সম্প্রতি  প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন হইতে জানা যায়, গত ৪৬ বত্সরে ঢাকার মানচিত্র হইতে নিশ্চিহ্ন হইয়া গিয়াছে ৪৭টি খাল। টিকিয়া থাকা অবশিষ্ট ১৫টির অবস্থাও বিপন্ন হইবার পথে। তন্মধ্যে মাত্র চারটি খালের অংশবিশেষ লেক হিসাবে স্বীকৃতি পাইয়াছে। আর বাকিগুলি দখলে-দূষণে সংকুচিত হইয়া নর্দমার আকৃতি ধারণ করিয়াছে। ঢাকা ওয়াসার হিসাব অনুযায়ী ১৯৭১ সাল পর্যন্ত নগরীতে ৫৪টি খালের অস্তিত্ব ছিল। তখন এইসব খালের সংযোগ ছিল রাজধানীর পার্শ্ববর্তী প্রধান চারটি নদ-নদীর সঙ্গে। এই সকল খাল ও অন্যান্য জলাশয় এখন শুধুই স্মৃতি মাত্র। নানা দূষণে জর্জরিত হইয়া কোনো কোনোটি ব্যবহূত হইতেছে পয়ঃনিষ্কাশনের নালা হিসাবে। আবার অবৈধ দখলের শিকার হইয়া ব্যক্তি মালিকানাধীন বিভিন্ন স্থাপনা গড়িয়া উঠিবার দৃষ্টান্তও ভূরি ভূরি। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই রাজধানীতে নামিয়া আসে জলাবদ্ধতার অভিশাপ। তাহা ছাড়া পরিবেশ দূষণ কিংবা মশক বৃদ্ধিজনিত ভোগান্তিও দিনে দিনে প্রকট হইতেছে বৈকি।
এইসকল খাল ও জলাধার পুনরুদ্ধারে ঢাকা সিটি করপোরেশন, রাজউক ও পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায়শই অভিযান পরিচালনা করিয়া থাকে। কিন্তু কোনো অভিযানই শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশিত সুফল আনিতে পারে নাই। উপরন্তু দখলদারদের সহিত রাজনীতি ও প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা থাকায় অধিকাংশ অভিযানই নিছক প্রহসনে পরিণত হইয়াছে। অন্যদিকে অনুসৃত হইতেছে অভিনব কিছু কৌশলও। প্রথমে খালের পানিতে খুঁটি গাড়িয়া বানানো হয় শত শত বস্তিঘর। তাহারপর ময়লা-আবর্জনা ও উচ্ছিষ্ট ফেলিয়া শুরু হয় খাল ভরাট প্রক্রিয়া। এই ক্ষেত্রে ছোট ছোট বাঁধ দিবার নজিরও চোখে পড়ে। একপর্যায়ে গড়িয়া তোলা হয় পাকা স্থাপনা ও অট্টালিকা। ফলশ্রুতিতে অস্তিত্ব হারায় খাল বা জলাধারটি। নদী ও খাল দখল বন্ধ করিতে না পারিলে ইহার পরিণতি যে ভয়াবহ হইতে বাধ্য তাহা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই রাজধানী ঢাকাসহ নগরগুলিতে এখনো যেইসকল খাল ও জলাশয় অবশিষ্ট রহিয়াছে, তাহা রক্ষায় প্রশাসনকে আরো কঠোর হইতে হইবে। কোনো অজুহাতে বা প্রভাবশালী দখলদারদের কারসাজিতে যেন খাল উদ্ধার অভিযান ঝিমাইয়া না পড়ে, এই ব্যাপারেও সতর্ক থাকা জরুরি। পাশাপাশি নদ-নদী, খাল-লেক অপদখল ও দূষণের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা গড়িয়া তুলিবার ব্যাপারেও উদ্যোগী হইতে হইবে। কেননা, নগরবাসী যদি যথেচ্ছভাবে খালগুলিকে দূষণ করিয়া চলেন, তবে কোনোদিনই হয়ত খালগুলিকে স্বরূপে ফিরাইয়া আনা সম্ভব হইবে না। প্রয়োজনে উন্নত দেশসমূহের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাইয়া খাল ও জলাধার সংরক্ষণে জরুরি ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ অপরিহার্য হইয়া পড়িয়াছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.