বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২১
Shadow

শিশু পাচারকারী চক্রের মূলহোতা সাহাবুদ্দিন আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক  :

পেশাদার শিশু অপহরণ ও পাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং মূলহোতা সাহাবুদ্দিন ওরফে সাহেদ ওরফে সেলিম ওরফে সোনা মিয়াকে (৪২) আটক করেছে র‌্যাব।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের আদমজীতে অবস্থিত র‌্যাব- ১১-এর সদর দফতরে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল কামরুল হাসান।

এর আগে বুধবার রাত সাড়ে ১১টায় রাজধানীর গুলিস্তান থেকে সাহেদকে আটক করে র‌্যাব।

এ সময় তার কাছ থেকে একটি পাসপোর্ট ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। সাহেদ নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার রামনগর এলাকার মৃত ছাবেদ আলীর ছেলে।

র‌্যাব জানায়, প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে আটক সাহাবুদ্দিন জানান- তিনি পেশাদার শিশু অপহরণ ও পাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য।ট্রাক ও টেম্পুর চালকের ছদ্মবেশে তিনি এ কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

১৯৯৯ সালে তিনি বন্দর থানা এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্রসহ গ্রেফতার হয়ে চার মাস জেল খাটেন। পরে ২০০৬ সালে নিজের নাম পরিবর্তন করে সেলিম ছদ্মনামে পাসপোর্ট করে সৌদি আরব চলে যান।

মাত্র ২৭ দিন পর দেশে ফেরত এসে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন মেট্রো সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে গাড়িচালক হিসেবে চাকরি নেন।

সেখানেও ৪০০ ব্যাগ সিমেন্ট আত্মসাৎ করে অন্যত্র বিক্রি করার অপরাধে ফতুল্লা থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হলে তিনি পালিয়ে চাঁদপুরে তার আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপন করেন।

পরে তার আত্মীয়ের শ্যালিকার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক করে ২০০৭ সালে পালিয়ে বিয়ে করেন। পরবর্তীতে ঢাকায় ট্যাক্সি চালানোর পাশাপাশি শিশু অপহরণ ও পাচারকারী  চক্রের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েন।

সংঘবদ্ধ চক্রের অন্য সদস্য জাকির, টিটু, জেসমিন, বানেছা, বেলু ও আসলামের সঙ্গে পারস্পারিক যোগসাজশে ঢাকার সদরঘাট, কমলাপুর, যাত্রাবাড়ী, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে শিশু অপহরণ করত সাহেদ।

যার মধ্যে বেশ কয়েকটি শিশুকে বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেছেন।

তাকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ২০১৪ সালে তিনি সাহেদ ছদ্মনামে পাসপোর্ট করে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ১৫ মাসে ৬ বার ওমানে যাতায়াত করেছেন। কোনোবারই তিনি এক মাসের বেশি সময় ওমানে অবস্থান করেননি।

এ সময় টাকার বিনিময়ে লাকী, আশা ও শিলা নামের ৩ নারীকে তিনি ওমানে নিয়ে যান। এ ছাড়াও বিদেশ নেয়ার নামে অনেকের টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলেও তিনি জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আরও জানান, জাকির, টিটু, বানেছা ও জেসমিনসহ ওই অপহরণকারী চক্রের কাছ থেকে দুই ধাপে তিনি মোট ৫টি শিশুসহ সাড়ে ৪ লাখ টাকার বিনিময়ে দুইজন নারীর কাছে পৌঁছে দেন।

এই মামলায় এর আগে গ্রেফতারকৃত টিটু, জেসমিন ও বানেছার স্বীকারোক্তিতেও একই ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে। এই কাজের জন্য সাহাবুদ্দিন ২ লাখ টাকা পান বলে জানান তিনি।

আটককৃত সাহাবুদ্দিন সাহেদের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় অস্ত্র ও ডাকাতি এবং ফতুল্লা থানায় ছিনতাইয়ের মামলা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে তিনি বেশ কয়েকটি মামলায় গ্রেফতার হয়ে জেল খেটেছেন বলেও স্বীকার করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.