রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৮
Shadow

ওসির ভুলে নিরপরাধ তরুণ কারাগারে, অতঃপর..

নিজস্ব প্রতিবেদক :

আক্কেলপুর থানার ওসি সিরাজুল ইসলামের একটি ভুলের খেসারত দিতে তাকে কারাবাসের শাস্তি ভোগ করতে হচ্ছে।
অপরাধ না করেও বৃহস্পতিবার থেকে কারাগারে রয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম।

সংশ্লিষ্ট আদালত ও এ মামলার আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকালে মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠানো হয় জেলার আক্কেলপুর পৌর সদরের কলেজপাড়ার তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে এসএম জাহাঙ্গীর আলমকে।

এ বিষয়ে তার আইনজীবী রফিকুল ইসলাম তরুণ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে জামিনের আবেদন করেন। পাশাপাশি আদালতে শনিবার দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত সংবাদসহ বিভিন্ন সংবাদপত্রের কাটিং উপস্থাপন করেন তিনি।

আবেদনের শুনানিতে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোসাম্মৎ ইশমত আরা বলেন, ‘এ আবেদন আদালতে গ্রহণীয় নয় মর্মে এই আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হলো। আপনারা সংশ্লিষ্ট আদালত- ঢাকার মহানগর যুগ্ম পঞ্চম আদালতে গিয়ে এ ব্যাপারে আইনগত প্রতিকারের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন।’

এ ব্যাপারে আদালতের পিপি নৃপেন্দ্রনাথ মণ্ডল রোববার সন্ধ্যায় যুগান্তরকে বলেন, ঢাকার সংশ্লিষ্ট আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা মূলে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর থানার ওসি এবং তার সঙ্গীয় পুলিশ এ মামলার প্রকৃত আসামিকে গ্রেফতার না করে এস এম জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেফতার করেন। ফলে এখন এটি একটি জটিল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে যতক্ষণ না পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ঢাকার আদালত থেকে আইনানুগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করা যাবে, ততক্ষণ তাকে কারাগারেই থাকতে হবে।

উল্লেখ্য,আদালত কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামির নাম,ঠিকানা ও বাবার নামে খানিকটা মিল পাওয়ায় সঠিকভাবে যাচাই না করে জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর থানা পুলিশ গ্রেফতারি পরোয়ানা মূলে এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকারকে (২৪) বুধবার গভীর রাতে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে।

ওই সময় তার স্বজনরা পুলিশের কাছে তাকে আটকের কারণ জানতে চাইলে বলা হয়, সে একজন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি।

পরিবারের অভিযোগ, আটক এসএম জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে সাজা বা জরিমানার কোনো ঘটনা ঘটেনি। সঠিক আসামিকে শনাক্ত করে তাকে গ্রেফতার করতে বললেও ওসি সিরাজুল ইসলাম কারও কথা না শুনে বৃহস্পতিবার জাহাঙ্গীরকে জয়পুরহাট জেলা কারাগারে পাঠিয়ে দেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তখন ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সঠিক জাহাঙ্গীরকেই আটক করে কারাগারে পাঠিয়েছি। আটক জাহাঙ্গীর আলম যে প্রকৃত অপরাধী নয়, সেটা তাকেই প্রমাণ করতে হবে। পলাতক আসামির ঠিকানায় ‘কলেজ গেটে’ বলা আছে। আর আটককৃত জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িও কলেজ চত্বরের পাশে। সে কারণে আমাদের কোনো ভুল নাই।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.