শনিবার, এপ্রিল ১৭
Shadow

দ্বিগুণ হলো ওএমএসের চালের দাম

প্রাইম ডেস্ক :

চালের বাজার বশে আনতে সরকার যখন একের পর এক দেশের সঙ্গে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকে সই করে যাচ্ছে তখন মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে কেজিপ্রতি চালের দাম বেড়েছে ৮ টাকা থেকে ১০ টাকা। এদিকে ওএমএসের (খোলাবাজারে বিক্রি) চালের দামও দ্বিগুণ করেছে সরকার। গত মে মাসে সংগ্রহ অভিযানের কারণ দেখিয়ে ওএমএসে বিক্রি স্থগিত করে খাদ্য মন্ত্রণালয়। তখন চালের মূল্য ছিল ১৫ টাকা কেজি। সেটি এখন ৩০ টাকা করা হয়েছে। খাদ্য বিভাগের মহাপরিচালক বদরুল হাসান এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।জানা গেছে, রাজধানীর ১২০টি এবং সারা দেশের ৫৭০টি পয়েন্টে ওএমএসের মাধ্যমে চাল বিক্রি করবে সরকার। তবে এবার সিদ্ধান্ত হয়েছে, ডিলারপ্রতি ২ টনের স্থলে ১ টন করে সরবরাহ করা হবে।

হাওরে আগাম বন্যায় ফসলহানির পর দুই দফা বন্যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে চালের বাজারে; বেড়ে যায় চালের দাম। এটি বেশ কয়েক মাস আগের কথা। গত কয়েক দিনে চালের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। রাজধানীর কারওয়ানবাজার, হাতিরপুলসহ কয়েকটি বাজারে সবজি, মাছ ও মুরগির দাম কয়েক মাস আগেই বেড়েছিল। সরেজমিনে দেখা গেছে, এখন আগের সেই বাড়তি দামেই স্থিতিশীল আছে সবজি, মাছ ও মুরগির দাম। কিন্তু নতুন করে ফের বৃদ্ধি পেয়েছে চালের দাম।খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাড়তি দামে চাল কিনলে বাড়তি দামে বিক্রি করব, এটাই স্বাভাবিক। দাম বাড়ার জন্য বরাবরের মতো এবারও তারা মিলমালিক ও আড়তদারদের দায়ী করছেন। যদিও বাজার মনিটরিংয়ের অভাবে দাম বাড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে অনেক ক্রেতার।চালের খুচরা ব্যবসায়ী মেসার্স ভাই ভাই স্টোরের স্বত্বাধিকারী মাজহারুল ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, মোটা স্বর্ণা ও পারিজা চাল প্রতিকেজিতে ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে বিক্রি হচ্ছে ৫২ টাকা দরে। এ ছাড়া ভালো মানের মিনিকেট চাল কেজিতে ৯ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৬৪ টাকা দরে, সাধারণ মিনিকেট ৬০ টাকা, বিআর-২৮ ৫৮ টাকা, উন্নত মানের নাজিরশাইল ৭০ টাকা, পাইজাম ৫৫ টাকা, বাসমতি ৭২ টাকা, কাটারিভোগ ৭৬ টাকা এবং পোলাও চাল ৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।কারওয়ানবাজারের খুচরা ব্যবসায়ী হাফিজ বলেন, বাড়তি দামে কিনেছি, সে অনুযায়ীই বিক্রি করছি। আড়তদাররাই বাড়িয়ে দিচ্ছে দাম। আমাদের কিছু করার নেই। একই বাজারের পাইকারি চাল ব্যবসায়ী আবদুুল মান্নান বলেন, চালের দাম বাড়ছে, আরও বাড়বে। বন্যার সমস্যা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি মিলমালিকরা। ফলে দাম বাড়ছে।ব্যবসায়ীদের অবৈধ মজুদ ও সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানো প্রসঙ্গে খাদ্যমন্ত্রীর হুশিয়ারি প্রসঙ্গে এ ব্যবসায়ী বলেন, মন্ত্রী তো মন্ত্রীর জায়গা থেকে এসব কথা বলেছেন। তিনি তো আর মাঠে গিয়ে দেখেন না।পাইকারি ব্যবসায়ী আবদুুল মান্নান বলেন, মন্ত্রীর তো শুধু মুখে বললেই হবে না। তারও অনেক দায়িত্ব আছে বলে আমি মনে করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.