হৃদরোগ প্রতিরোধে করণীয়


নিজস্ব প্রতিবেদক :
যেকোনো রোগ প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। বর্তমান সময়ে অনেকেই হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। দিন দিন হৃদরোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এই হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে দৈনন্দিন জীবনে কিছু অনিয়ম করা। নিজের খাদ্যাভ্যাস এবং জীবন ধারণ পদ্ধতিতে কিছু সাবধানতা অবলম্বন করলেই খুব সহজেই হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি এড়ানো যায়। হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে যেসব বিষয়ে সচেতন থাকা দরকার তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-
১) জীবনযাপনে অলসতা পরিহার করে প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম বা শারীরিক কসরত করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
২) লিফটে না চড়ে সিঁড়ি ব্যবহার করার পাশাপাশি অল্প দূরত্বে গাড়ি বা রিকশা ব্যবহার না করে হেঁটে যাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
৩) নিয়মিত খাদ্যাভ্যাসে অতিরিক্ত লবণ পরিহার করতে হবে। উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
৪) মানসিক ও শারীরিক চাপ পরিহার করতে হবে। নিয়মিত বিশ্রাম, সময়মতো ঘুমানো ও শরীরকে অতিরিক্ত ক্লান্তি থেকে বিশ্রাম দিতে হবে ।
৫) মদ্যপান পরিহার করতে হবে।
৬) অতিরিক্ত চা-কফি, ফাস্টফুড ও শুকনো খাবার, কোমল পানীয় বর্জন করতে হবে।
৭) ভুঁড়ি এবং তলপেটের চর্বির আধিক্য হৃদরোগের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ (পুরুষের কোমরের মাপ ৩৭ ইঞ্চির কম ও মহিলাদের ক্ষেত্রে ৩২ ইঞ্চির কম হওয়া উচিত)। বাহুর চামড়ার (হাতের ট্রাইসেপ) পুরুত্ব পুরুষের ২০ মিমি.-এর কম ও মহিলাদের ২৮ মিমি-এর কম হওয়া বাঞ্ছনীয়।
৮) যেকোনো তামাকজাত দ্রব্য যেমন সিগারেট, জর্দা, গুল, সাদা পাতা ব্যবহার বর্জন করতে হবে, মনে রাখবেন অন্যরা ধুমপান করলেও পরোক্ষভাবে আপনি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
৯) ৪০ বছর বয়স হয়ে গেলেই শারীরিক সমস্যা থাক বা না থাক একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের মাধ্যমে নিয়মিত শরীর চেকআপ ও পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে হবে।
১০) প্রচুর পরিমাণে শাক-সবজি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
হৃদরোগের প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধের ব্যাপারে বেশি যত্নবান হতে হবে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে। মনে রাখতে হবে শুধু নিজে নয়, পরিবারের অন্য সদস্যদেরও এ ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। সবাই হৃদরোগের ঝুঁকিগুলো জানুন, ও স্বাস্থ্য সচেতন হোন। প্রত্যেক মানুষের জন্য মৃত্যু অনিবার্য। কিন্তু বেঁচে থাকাটা হোক সুস্থতার। বেঁচে থাকার দিনগুলো হোক সক্ষমতা ও আনন্দের।