মঙ্গলবার, জানুয়ারি ১৯
Shadow

শ্রীপুরে রেলের জায়গায় দোকানপাট বসিয়ে অর্থ বাণিজ্য

সোলায়মান মোহাম্মদ:

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রেলওয়ে প্লাটফর্ম ও সংলগ্ন এলাকায় অস্থায়ী দোকানপাট বসিয়ে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে।
সরকারি বা প্রশাসনিক কোনো অনুমতি ছাড়াই বসানো হচ্ছে এ সমস্ত দোকান। এতে একদিকে অন্যায়ভাবে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা অন্যদিকে রেলে চলাচলকারী যাত্রী সাধারণদের প্লাটফর্মে অবস্থানে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।
সরেজমিনে দেখা যায়, শ্রীপুর রেললাইনের প্লাটফর্মের মধ্যে প্রায় ৮ থেকে ১০ টি এবং প্লাটফর্মের দক্ষিণ ও পূর্ব পাশের্^ প্রায় দু’শতাধিক অস্থায়ী দোকান বসিয়ে এক শ্রেণীর প্রভাবশালীরা হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এছাড়াও যত্রতত্র রেললাইনের উপর চা স্টল ও অস্থায়ী অন্যান্য দোকান থাকায় ঝুকিপূর্ণভাবে অবস্থান নিচ্ছে লোকজন। এতে বিভিন্ন সময় নানা ধরণের দুর্ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছে রেললাইনের যাত্রীরা।
এখানে প্রায় ১ শ টির মতো অস্থায়ী চা পান সিগারেটের দোকান,ফলের দোকান, ছোট ছোট আট দশটি অস্থায়ী খাবার হোটেল,শনিবার ও মঙ্গলবারে ধান এবং গাছের চারার হাট বসে। প্রতি চা ও পানের দোকান থেকে দৈনিক ২০ থেকে ৩০,ফলের দোকান ও হোটেল থেকে ৫০ থেকে ১০০শ টাকা তোলা হচ্ছে। এসবের বিনিময়ে দেওয়া হচ্ছে না টাকার কোনো রসিদ। এছাড়াও প্লাটফর্মের দক্ষিণ পাশের্^ ট্রেন থেকে নামানো মাছ ও বিভিন্ন কাঁচামালের কেনা বেঁচার সময় বিভিন্ন অংকের টাকা দিতে হয় স্টেশন কর্মচারীদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ডাব বিক্রেতা বলেন, প্রতিদিন ৫০ টাকা চাঁদা দেওয়া আমার পক্ষে অনেক কষ্টকর হয়ে যায়।
অন্য আরেকজন ফল বিক্রেতা বলেন, বেচঁতে গেলেও ৫০ কিনতে গেলেও ৫০ টাকা রোজই দিতে হয়। আমি গরিব মানুষ এই টাকার বাড়ি কই!
এ বিষয়ে টাকা উত্তোলনকারী প্রভাবশালী একজন ব্যক্তির সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সে পৌরসভা কর্তৃক মুক্ত মঞ্চের আশে পাশের এলাকার ইজারা নিয়েছে। টাকা উত্তোলনের রশিদের কথা জানতে চাইলে তিনি কৌশলে কথা এড়িয়ে যান।
স্থানীয় অনেকেই মনে করেন রেল লাইনের পরিত্যক্ত জায়গা সরকারি ভাবে ইজারার ব্যবস্থা থাকলে তা থেকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করতে পারতো।
এ সম্পর্কে শ্রীপুর বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি রহুল আমিন খান রতন বলেন, মুক্তমঞ্চের আশপাশের এলাকা রেলওয়ের জায়গা। এখানে বাজার কমিটির কোনো কর্তৃত্ত্ব থাকে না।
শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. শাহাজাহান মিয়া প্লাটফর্মের আশেপাশের টাকা তোলার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, রেলওয়ের কোনো কর্মচারী অস্থায়ী দোকানপাট বসিয়ে টাকা তোলার সাথে জড়িত থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সম্পর্কে শ্রীপুর পৌরসভার দায়িত্বরত সচিব মো.বদরুজ্জামান জানান, রেলওয়ের জায়গা পৌরসভার ইজারা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কে বা কারা চাঁদা তোলে তা আমার জানা নেই। তবে আমরা লিখিত কোনো অভিযোগ পেলে তা খতিয়ে দেখবো।
বিষয়টি নিয়ে রেলওয়ের মহাপরিচালকের সাথে একাধিক বার ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.