মঙ্গলবার, মার্চ ২
Shadow

প্রার্থীদের হলফনামা দাখিলের বিধান বাতিলের পরামর্শে টিআইবি’র উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

উচ্চ আদালতের নির্দেশ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (সংশোধন) আইন, ২০০৯ এ সুর্নির্দিষ্ট বিধান থাকা সত্ত্বেও সম্প্রতি একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় প্রার্থীদের হলফনামা দাখিলের বিধান বাতিল চেয়ে অভিমত প্রকাশ করেছে তাতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একইসঙ্গে আগামী সংসদ নির্বাচনে আইনানুগভাবে প্রার্থীদের হলফনামার তথ্য যাচাই-বাছাই করে জনসম্মুখে তা প্রকাশ করতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে দুর্নীতি বিরোধী সংগঠনটি। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা পরিপন্থী পশ্চাত্-মুখী এ ধরনের অবস্থান থেকে সরে আসার জন্য দলটির প্রতিও আহ্বান জানিয়েছে তারা।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক, ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় অন্যতম দৃষ্টান্ত হিসেবে দেশের আপামর জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন অনুযায়ী সকল রজিনৈতিক দল ও অংশীজনের অংশগ্রহণে প্রণীত এবং সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (সংশোধন) আইন ২০০৯- এ জনপ্রতিনিধিদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অন্যতম উপায় হিসেবে বিধানটি প্রতিষ্ঠা হয়। এছাড়া উচ্চ আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও একটি রাজনৈতিক দল গত ৮ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের সাথে অনুষ্ঠিত এক আলোচনায় হলফনামার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিধান বাতিল চেয়ে যে অভিমত প্রকাশ করেছে, তা সত্যিই হতাশাজনক ও অনভিপ্রেত।
উক্ত রাজনৈতিক দলের উত্থাপিত দাবিকে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকতার অন্তরায় ও দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সম্ভাবনার জন্য অশনিসংকেত উল্লেখ ড. জামান বলেন, জনপ্রতিনিধিরা যখন শপথ নিয়ে তাদের সম্পর্কে কোনো তথ্য নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করে, তখন তার গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয় এবং প্রার্থী ও তার দল তথা সার্বিকভাবে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর আস্থার সম্ভাবনা ও জনগণের ক্ষমতায়নের সুযোগ বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে যখন কোনো প্রার্থী তার সম্পর্কে তথ্য প্রকাশে অনীহা প্রকাশ করে, তা প্রকারান্তরে জনমনে সন্দেহের উদ্রেক করে ও জনগণের কাছে তাদের প্রতিনিধিদের সম্পর্কে আস্থার সঙ্কটের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
তিনি আরো বলেন, নির্বাচন কমিশনের উচিত হবে এ ধরনের অযাচিত প্রস্তাবের প্রতি কোনো গুরুত্ব না দেওয়া। পাশাপাশি আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীরা হলফনামায় যেসব তথ্য প্রদান করবেন, আইন অনুযায়ী তা যাচাই-বাছাই করে কমিশনের ওয়েবসাইটে জনসাধারণের জন্য প্রকাশ করা। একইসাথে, যাচাই-বাছাইপর্বে যদি কোনো প্রার্থীর হলফনামায় প্রদত্ত তথ্যের সাথে বাস্তবতার অমিল খুজে পাওয়া যায় সেক্ষেত্রে তার প্রার্থীতা বাতিল ঘোষণাসহ সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.