বুধবার, এপ্রিল ১৪
Shadow

শিশুর বইয়ের বোঝা

প্রাক-প্রাথমিকে ভর্তির পরপরই শিশুর ওপর চাপিয়ে দেয়া হয় বইয়ের বোঝা। এতে বইয়ের প্রতি, বিশেষত জ্ঞান অর্জনের প্রতি শিশুর মনে যে ভীতি তৈরি হয় তা সহজে কাটে না। এই নিয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা শেষ নেই শিশু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের। এ ব্যাপারে আদালতের রায় এবং এ নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রতিবাদও হয়েছে। অবশেষে শিশু শিক্ষার্থীদের ঘাড়ে বইয়ের বোঝা কমাতে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। সরকারী অনুমোদনহীন যে কোন বই ও শিক্ষা উপকরণ শিক্ষার্থীদের ওপর চাপানোর বিষয়ে সতর্ক করে আদেশ জারি করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। আদেশে বলা হয়েছে, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়গামী শিশুদের জন্য যেসব বই অনুমোদন করেছে তা বহনে কোন শিক্ষার্থীর সমস্যা হওয়ার কথা নয়। যেসব শিক্ষার্থী ব্যাগে বই বহন করে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করে হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী এর ওজন যাতে বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিশুর ওজনের ১০ শতাংশের বেশি না হয় সে বিষয়ে সতর্ক হওয়া বাঞ্ছনীয়। এই ব্যাপারে অধিদফতর এক পরিপত্রও জারি করেছে। পরিপত্রে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের ব্যাগে অনুমোদিত বই-উপকরণ ছাড়া অন্য কিছু বিদ্যালয়ে আনতে নিরুৎসাহিত করতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরসহ আট বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষার বিভাগীয় উপ-পরিচালক, জেলা, উপজেলা ও থানা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেয়া হয়। ধারণা করা যায়, আদেশটি কার্যকর হলে আদালতের নির্দেশ যেমন পালিত হবে তেমনি বছরের পর বছর ধরে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের উদ্বেগের অবসান হবে।

শিশুদের ঘাড়ে বইয়ের বোঝা নিয়ে নানামুখী সমালোচনা হচ্ছে বহুদিন ধরে। বইয়ের বোঝা সামলাতে গিয়ে বিশ্বের বহু দেশে শিশুর মৃত্যু ও আহত হওয়ার মতো ঘটনাও শোনা যায়। আমাদের দেশে মৃত্যুর ঘটনা না ঘটলেও শিশু ও তার মা-বাবার উদ্বেগের কারণ বিদ্যালয় থেকে চাপিয়ে দেয়া অসংখ্য বই ও শিক্ষা উপকরণ। অধিকাংশই সরকার অনুমোদিত না। কিন্তু কোন কোন স্কুল শিশুদের অতিরিক্ত বই পড়তে বাধ্য করে। গত বছর শিশু শিক্ষার্থীদের ভারি ব্যাগ বহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আইন প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। রায়টি ছিল সময়োপযোগী। রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, শিশুর শরীরের ওজনের ১০ শতাংশের বেশি ওজন বহন করলে তাদের শরীরের ক্ষতি হয় যা সারাজীবন বহন করতে হয় তাকে। আদালতের এ পর্যবেক্ষণ ছিল যথার্থ।

সাধারণত লক্ষ্য করা যায়, একটি শিশু প্রাক-প্রাথমিকে ভর্তি হওয়ার পরই তাকে বইয়ের একটি ভারি বোঝা চাপিয়ে দেয়া হয়। অক্ষর পরিচয়, ড্রইং, হাতের লেখা চর্চা এসব নানা উসিলায় একের পর এক এ বোঝা বাড়ানোর ঘটনা ঘটে। শিশুর মানসিক বিকাশে গুরুত্ব দেয়ার পরিবর্তে কোন কোন স্কুল তাদের বাণিজ্যিক স্বার্থের দিকেই বেশি নজর দেয়। এতে অধ্যয়নরত শিশুদের বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। শৈশবে কোন শিশু মেরুদণ্ডের কোন সমস্যায় আক্রান্ত হলে পরবর্তীকালে তা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। এসব দিক বিবেচনায় নিয়ে প্রাইমারী স্কুলগুলোর উচিত শিশুদের বইয়ের বোঝা কমানোর উদ্যোগ নেয়া।

শিক্ষা অধিদফতর এ ব্যাপারে আদেশ দিলেও কঠোর কোন নিষেধাজ্ঞা না দেয়ায় এই উদ্যোগ কতটুকু সফল হবে তা নিয়ে সন্দিহান শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকরা। তবে নতুন আদেশের ফলে সংশ্লিষ্টরা কিছুটা সতর্ক হবেন এটা আশা করা যায়। এখন স্কুলব্যাগের ওজন কমানো সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। নিয়মিত মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা না থাকলে নির্দেশ বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.