বোলিং যদি আরেকটু ভালো হতো

প্রাইম খেলাধুলা  :

ইংল্যান্ডের দেওয়া ৩৮৬/৬ রান তাড়ায় বাংলাদেশ তুলতে পেরেছে ২৮০। ম্যাচটি ১০৬ রানে জিতে নিয়েছে স্বাগতিকরা।

অথচ এমনটা নাও হতে পারতো! আগের দুই বিশ্বকাপে (২০১৫ ও ২০১১) বাংলাদেশের কাছে হেরেছিল ইংল্যান্ড। কার্ডিফ তো টাইগারদের জন্য পয়া ভেন্যু! এর আগে খেলা দুই ম্যাচেই জয়ের স্বাদ পেয়েছিল লাল-সবুজরা। অথচ ‘লাকি’ ভেন্যুতেই কিনা শোচনীয় পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো।

সত্যি বলতে কি, বাংলাদেশের বোলাররা ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারেননি। জেসন রয়, জস বাটলার, ক্রিস ওকস, প্ল্যাঙ্কেটরা খুব সহজভাবেই খেলেছেন মাশরাফি, মোস্তাফিজ, সাকিবদের নিয়ে। ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের সামনে বড্ড অসহায় দেখাচ্ছিল বাংলাদেশের বোলারদের।

নিউজিল্যান্ড ম্যাচে স্বল্প পুঁজি নিয়েও বুক চিতিয়ে লড়াই করেছিল বাংলাদেশ। তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অসহায় আত্মসমর্পণ করতে হয়েছে। ২০১৯ বিশ্বকাপে জয় দিয়ে অভিযান শুরু করলেও পরের দুই ম্যাচেই হারের তেতো স্বাদ পেতে হয়েছে টাইগারদের।

চলমান বিশ্বকাপে অন্যতম ফেভারিট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে ইংল্যান্ড। এই দলটার বিরুদ্ধে যে রকম পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামা উচিত ছিল-বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট হয়তো সে মাফিক ছক আঁকতে পারেনি! একাদশ নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন আছে। ২০১৫ বিশ্বকাপে রুবেলের বিধ্বংসী বোলিংয়েই ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। অথচ এ ম্যাচে সেই রুবেলকে কিনা সাইডবেঞ্চে বসে থাকতে হয়েছে।

বাংলাদেশ অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে মাঠে নেমেছিল। অর্থাৎ সাউথ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ড ম্যাচে যারা খেলেছিলেন তারাই ছিলেন ইংল্যান্ড ম্যাচের একাদশে। টস ভাগ্য মাশরাফির পক্ষে হেসেছিল। বাংলাদেশের অধিনায়ক হয়তো ভেবেছিলেন, রান চেজ করাটাই বেটার হবে। সেটা হতে পারত যদি নির্বিষ বোলিং আর বাজে ফিল্ডিংয়ের কারণে স্কোরকার্ড অমন হৃষ্টপুষ্ট না হতো। এত বড় রান চেজ করে বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে জেতাটা বাংলাদেশের জন্য সহজ কোনো কাজ ছিল না। আদতে রান-পাহাড়ের চাপাই পড়েছে টাইগাররা। ৩৮৬ রান দেখার পরই জয়টা দূরের বাতিঘরে রুপ নিয়েছিলো।

কার্ডিফের উইকেট ছিল ব্যাটিংস্বর্গ। জেসন রয়ের পর সেখানে সেঞ্চুরি করেছেন বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান। চতুর্থ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের এটা প্রথম সেঞ্চুরি। হারা ম্যাচে টাইগারদের প্রাপ্তিও এটাই। তবে সাউথ আফ্রিকাকে গুড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা বাংলাদেশ হয়তো এ ম্যাচেও জয় পেতে পারতো। এ জন্য বোলারদের দায়িত্ব নিতে হতো। কিন্তু তারা তা পারেননি। ইংল্যান্ডকে ৩২০ রানের মধ্যে আটকে ফেলতে পারলেও ম্যাচটা হয়তো বাংলাদেশের পক্ষে থাকত!

ছয়জন বোলার ইংল্যান্ড ম্যাচে হাত ঘুরিয়েছেন। সবারই ইকোনমি ৬ এর উপরে। সাকিব ১০ ওভারে ৭১ রান দিয়েছেন। কোনো উইকেট পাননি। মাশরাফি ১০ ওভারে ৬৮ রানে একটি উইকেট পান। সাইফউদ্দিন ৯ ওভারে ৭৮ রানে ২টি। মোস্তাফিজ ৯ ওভারে ৭৫ রানে ১টি। মিরাজ ১০ ওভারে ৬৭ রানে ২টি এবং মোসাদ্দেক ২ ওভারে ২৪ রান দিলেও ছিলেন উইকেটশূণ্য।

বোলাররা লাইন, লেংথ ঠিক করে বোলিং করলে রান হয়তো আরেকটু কম হতো। আবার ফিল্ডিংটাও যদি ভালো হতো তাহলেও স্কোরকার্ড অমন হৃষ্টপুষ্ট হতো না। কিন্তু এ ম্যাচে শুধু টস ভাগ্যটাই বাংলাদেশের পক্ষে ছিল। বাকি সবকিছুই যেন বিপক্ষে।

বিশ্বকাপে আগের দুই সাক্ষাতে বাংলাদেশ জিতেছিল। এবার জিতল ইংল্যান্ড। সেই সঙ্গে কার্ডিফে আগের দুই ম্যাচ জিতলেও তৃতীয় ম্যাচে এসে হারের তেতো স্বাদ পেল বাংলাদেশ। সামনে আরও ৬টি ম্যাচ রয়েছে টাইগারদের। সেমিফাইনাল খেলতে হলে প্রতিটা ম্যাচকেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে। মাশরাফিদের ইংল্যান্ড ম্যাচে হারের দুঃখ মনে রাখলে চলবে না। বরং মঙ্গলবার শ্রীলংকা ম্যাচের দিকে ফোকাস করতে হবে।

বিশ্বকাপ নিয়ে ভবিতব্য করেছেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। তার মতে, ২০১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ একটি মাত্র ম্যাচ জিতবে এবং সেটা শ্রীলংকার বিপক্ষে। যদিও ম্যাককালামের সে ভবিতব্য নিজেদের প্রথম ম্যাচেই ভুল বলে প্রমাণ করে দিয়েছেন টাইগাররা। এখন ইংল্যান্ড ম্যাচের হতাশা যদি তাদের গ্রাস করে তাহলে তার প্রভাব পরতে পারে সামনের ম্যাচে। টাইগাররা নিশ্চয়, এমনটা হতে দেবেন না। শ্রীলংকাকে হারিয়ে স্বপ্নপূরণের পথে এগিয়ে যাবেন আরও একধাপ!