মন থেকে ঐক্যফ্রন্ট ছেড়েছি আগেই, স্পষ্ট করার অপেক্ষায় ছিলাম, বললেন কাদের সিদ্দিকী

প্রাইম ডেস্ক :

নির্বাচনকেন্দ্রিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ছাড়ার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন ৮ জুন শনিবার। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর নতুন করে ২ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছেন তিনি।

মূলত ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্ত ও বিবিধ ইস্যু স্পষ্ট করতে তিনি এই আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন। তবে নতুন করে আরও ২ দিনের সময় বেঁধে দেয়া নিয়ে কারণ জানতে চাইলে কাদের সিদ্দিকী বলেন, আসলে ঐক্যফ্রন্টের যে সিদ্ধান্তগুলো সম্মিলিতভাবে নেয়ার কথা ছিলো তা কিন্তু হয়নি। কাউকে না জানিয়েই শপথ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ঐক্যের শরিক হিসেবে তা আমারও জানার কথা ছিলো। কিন্তু তা হয়নি। ফলে তখনই মন থেকে ঐক্যফ্রন্ট ছেড়েছি, এতদিন অপেক্ষায় ছিলাম সিদ্ধান্তটা জানান দেয়ার। যেহেতু আগামী ১০ জুন ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলগুলোর একটি বৈঠক আছে। তাই আমি ১০ তারিখ পর্যন্ত সময় দিয়েছি।

প্রসঙ্গত, গত ৯ মে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ছাড়ার আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন। এরপর তার সঙ্গে বৈঠক করেন ড. কামাল। বৈঠকে ড. কামাল বঙ্গবীরকে ধৈর্য ধরতে বলেন এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলগুলোর মধ্যে শপথ ইস্যু নিয়ে তৈরি হওয়া ক্ষোভ কমানোর জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু তা শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। এমন প্রেক্ষাপটে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলগুলোকে নিয়ে ড. কামাল হোসেন ১০ জুন (সোমবার) আ স ম আবদুর রবের বাসায় বৈঠক করবেন। সেখানে ড. কামাল ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংসদ সদস্য হিসেবে বিএনপির পাঁচজন এবং গণ ফোরামের দুইজন প্রার্থীর শপথ নেয়ার বিষয়টি তুলে ধরবেন।

সেই বৈঠকে বিএনপি ও গণফোরামের নেতাদের বক্তব্য শোনার পর বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ফ্রন্ট ছাড়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলন করে আগামী ১১ অথবা ১২ জুন দলীয় সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়ারও কথা রয়েছে।

এ বিষয়ে সর্বশেষ শনিবার (৮ জুন) বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত জন নেতার সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ার ব্যাপারে সঠিক ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া হয়েছে। ড. কামাল ইতোমধ্যে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং আগামী ১০ জুন আবার ফ্রন্টের সবাইকে বৈঠকে ডেকেছেন। সেই বৈঠকের ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করে দলীয় সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট ডাকাতির অভিযোগ তুললেও পরে ঐক্যফ্রন্টের সাত জন নেতাকর্মী সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। এই ঘটনায় গত ৯ মে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী শপথ গ্রহণের সঠিক ব্যাখ্যা জানতে চান। ব্যাখ্যা না দিতে পারলে গত ৮ জুন তার দল ফ্রন্ট ছেড়ে দেবে বলে ২ দিনের আল্টিমেটাম দেন তিনি।