শুক্রবার, জানুয়ারি ২২
Shadow

অবহেলায় নিশ্চিহ্নের পথে বিপ্লবী সাহিত্যিক সোমেন চন্দের স্মৃতি

নিজস্ব প্রতিবেদক :

পলাশ উপজেলার বালিয়া গ্রামে ভারতবর্ষের প্রথম প্রগতিশীল লেখক সোমেন চন্দের স্মৃতি বিজড়িত পৈতৃক বাড়িটি দখল ও অবহেলায় নিশ্চিহ্নের পথে। নতুন প্রজন্ম ভুলতে বসেছে এই মহান ব্যক্তিকে।

প্রতিভাবান কথাসাহিত্যিক সোমেন ১৯২০ সালের ২৪ মে তত্কালীন ঢাকা জেলার টঙ্গি থানার আশুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস ছিল পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নের বালিয়া গ্রামে। তার বাবার নাম নরেন্দ্র কুমার, মা হীরণ বালা।
১৯৩৭ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে সাপ্তাহিক ‘দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশ পায় সোমেনের প্রথম গল্প ‘শিশু তপন’। এই ১৭ বছরেই বাংলাদেশের বন্যার  যে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুর্ভোগ, তা নিয়ে সম্ভবত বাংলা সাহিত্যে প্রথম উপন্যাস ‘বন্যা’ লেখেন সোমেন। তিনি প্রগতি লেখক সংঘে যোগ দেন এবং মার্কসবাদী রাজনীতি ও সাহিত্য আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যান। তার বাবা পুলিন দাসের আখড়ায় যোগ দেওয়ার মাধ্যমে তত্কালীন সময়ে বিপ্লবী রাজনৈতিক শিক্ষা লাভ করেন। তিনিই বাংলা সাহিত্যে প্রথম গণসাহিত্যের উপর কাজ করেন। ১৯৪১ সালে সোমেন  প্রগতি লেখক সংঘের সম্পাদক নির্বাচিত হন। অসম্ভব মেধাবী সোমেন চন্দের লেখা সাধারণত প্রগতি লেখক সংঘের সাপ্তাহিক বা পাক্ষিক সভাগুলোতে পাঠ করা হতো। ১৯৪২ সালের ৮ মার্চ ঢাকার বুদ্ধিজীবী, লেখক প্রভৃতি শহরে ফ্যাসিবাদ বিরোধী সম্মেলন আহবান করেন। সম্মেলনের দিন সকালে উদ্যোক্তাদের অন্যতম তরুণ সাহিত্যিক সোমেন আততায়ীর হাতে নিহত হন। তিনিই বাংলার ফ্যাসিবাদী বিরোধী আন্দোলনের প্রথম শহীদ। কিন্তু বিপ্লবী সাহিত্যিক সোমেন চন্দের স্মৃতি বিজরিত বালিয়া পৈতৃক বাড়িটি দখল ও অবহেলায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। সোমেন চন্দ হত্যা পরবর্তী সময়ে তার স্বজনদের বেশির ভাগ ভারতে চলে যান। ফলে তাদের বেশির ভাগ জমি ক এবং খ তফসিলভুক্ত হয়ে যায়। এই সুযোগে এক শ্রেণির স্বার্থান্বেষী মহল ওই জমি জোর করে দখলে নিয়েছে। একইভাবে প্রভাবশালীরা দখলে নিয়েছে মহান এই ব্যক্তির পৈতৃক অর্ধশতাধিক একর জমি। আর এই দখল যজ্ঞের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আক্তারুজ্জামান ভূঞা নামে এক মুক্তিযোদ্ধা।
তবে মুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামান ভূঞা বলেন, আমাদের দখলে সোমেন চন্দের কোনো জমি নেই। যা আছে তা সবই অমৃত লাল চন্দ নামে আলাদা এক অংশীদারের জমি।
পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার বলেন, শুনেছি সোমেন চন্দের পৈতৃক বাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে এবং তা লিজ দেওয়া হয়েছে। আমরা চেষ্টা করবো সেই বাড়িটি সংরক্ষণ করে সোমেন চন্দের স্মৃতি রক্ষার।

Leave a Reply

Your email address will not be published.