শ্রীপুরে কৃষকের শেষ সম্বলটুকুও দখলের অভিযোগ

শ্রীপুর প্রতিনিধি :
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মুলাইদ গ্রামের হতদরিদ্র কৃষক বাচ্চু মিয়া। পৈত্রিক সূত্রে সোয়া পাঁচ শতাংশ জমির মালিক হয়ে তাতে ঘরবাড়ি তৈরী করে স্ত্রী সন্তান নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন দীর্ঘদিন ধরে। কিন্তু জমিটির অবস্থান মাওনা ফুলবাড়িয়া সড়কের পাশে পল্লী বিদ্যুৎ মোড়ে হওয়ায় তা হয়ে উঠেছিল অধিক মূল্যবান আর তাতেই দৃষ্টি পড়ে ভূমি দস্যুদের। বিভিন্ন ভাবে কৃষককে জমি বিক্রিতে রাজি না করাতে পেরে অবশেষে হুমকী দিয়ে তাকে বাড়ি থেকে বের করে ভিটেমাটিতে জোড় করে দখলযজ্ঞ শুরু করেছে ভূমিদস্যুরা। এ বিষয়ে অভিযুক্ত কৃষক বাদি হয়ে শ্রীপুর থানায় অভিযোগ দেয়ার পরও দখলযজ্ঞ বন্ধ হয়নি। উপরোন্ত সন্ত্রাসীদের হুমকীতে তাকে পুরোপরিবার নিয়ে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম বাক্কার মুলাইদ গ্রামের হাজী জুম্মন আলীর ছেলে। আর ভূমি দস্যুদের কবলে পরে ভিটেমাটি হারানো বাচ্চু মিয়া একই গ্রামের তৈয়ব আলীর ছেলে।
কৃষক বাচ্চু মিয়ার অভিযোগ, তিনি মুলাইদ মৌজার এসএ ৩৩৪, আর এস ১৬২১ দাগের সোয়া পাঁচ শতাংশ জমিতে পৈত্রিক সূত্রে মালিক হয়ে বাড়ি ঘর নির্মান করে স্ত্রী সন্তান নিয়ে বসবাস করে আসছেন। এই জমি বিগত ২০১২ সালে জমির নামজারীও করেছেন তিনি তার জোত নং ২৯১৭। সম্প্রতি স্থানীয় ভূমিদস্যু বলে পরিচিত বাক্কার ও তার লোকজন জমিটি তাদের কাছে বিক্রি করার প্রস্তাব দেন, আমি এতে রাজি না হওয়ায় আমাকে বারবার হুমকী দেয়ায় বারবার হুমকী দেয় বাক্কার ও তার লোকজন। পরে আমি শ্রীপুর থানায় সাধারন ডায়রী করি, যা তদন্ত করে পুলিশ সত্যতা পেয়ে আদালতে প্রতিবেদন প্রেরন করলে আদালত গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন অভিযুক্ত বাক্কারের বিরুদ্ধে। এত কিছুর পরেও আমি জমি বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় তারা আমার জমিটি দখলের পরিকল্পনা সাজায়। এ বিষয়ে আমি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ করলে ইউনিয়ন পরিষদ থকে সকল কাগজপত্র দেখে আমাদের অনুকুলে রায় দেন। এছাড়াও এই জমিটি নিয়ে বিজ্ঞ আদালতে মামলা চলমান আছে। নানা ঘটনার পর মঙ্গলবার সকালে বাক্কারের ক্রয়ক্রিত জমি অন্যত্র স্থানে থাকার পরও আমাদের জমিতে তাঁর লোকজন জমিতে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ শুরু করেন। আমরা বাধাদেয়ার চেষ্টা করলে তারা অস্ত্র সহ আমাদের হুমকী প্রদান করায় আমরা জীবন রক্ষার্থে পালিয়ে যায়। পরে বিকেলে শ্রীপুর থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ রাতে উভয় পক্ষকে থানায় ডেকে কাজপত্র দেখেন।
এবিষয়ে শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক আমিরুল বাহার জানান,থানায় উভয় পক্ষকে ডাকলেও এক পক্ষ কাগজপত্র প্রদর্শন করতে পারেননি। তাই কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম বাক্কার জানান, তিনি কোন অন্যায় করেননি। সকল কাগজ পত্র দেখেই তিনি জমি ক্রয় করেছেন। এছাড়াও থানা থেকে আমাদের কাজ করার অনুমতি দেয়া হয়েছে। যদি কাগজপত্র না টিকে তাহলে জমি ছেড়ে দেব।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোবারক হোসেন বলেন, বাচ্চু একজন অসহায় কৃষক. এই জমিটিই তার শেষ সম্বল। আমরা কাগজপত্র দেখে জমিটি বাচ্চুর মালিকানায় দেখতে পেয়েছি। যেহেতু ঊভয় পক্ষের মধ্যে দখল ও মালিকানা নিয়ে একটি ঝামেলা তৈরী হয়েছে তা উভয়পক্ষ বসে সমাধান করলেই ভালো হত।