গাজীপুরে নিষিদ্ধ পলিথিনের রমরমা ব্যবসা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গাজীপুরে অবৈধ পলিথিনের ব্যবসার চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে লিখিতভাবে অভিযোগ করেও তার কোন প্রতিকার মেলেনি। গাজীপুরে প্রকাশ্যেই চলছে পলিথিনের ব্যবসা।

বেশ কিছু দিন ধরে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা চৌরাস্তার কাঁচাবাজারের আড়তে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় পলিথিন ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন প্রকাশ্যে তাঁর দোকানে পরিবেশ বিধ্বংসী বিভিন্ন ধরনের পলিথিন স্তুপ আকারে সাজিয়ে রেখে পাইকারী ও খুচরা মূল্যে বিক্রি করছেন। জসিম উদ্দিনের দোকানে তথ্য নেয়ার খবর পেয়ে পলিথিন ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান, মো: হুমায়ুন ও আঙ্গুর তাদের দোকান বন্ধ করে সটকে পড়ে।

জসিম উদ্দিন জানান, তারা গাজীপুর মহানগরীর ভোগড়া বাইপাস এলাকার পলিথিন ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম, মো. লিটন, মো. সুজন ও সোহরাব মিয়ার নিকট থেকে পাইকারী ভাবে কিনে আনি। এখান থেকে বরমী, শ্রীপুর, কাওরাইদসহ আশপাশের এলাকায় পাইকারী ও খুচরা ভাবে বিক্রি করি।

তিনি আরও বলেন, ওইসব পলিথিন ঢাকার লালবাগ ও টঙ্গী বাজার এলাকা থেকে ভোগড়া বাইপাস কাঁচা বাজার এলাকায় সরবরাহ করা হয়। আমাদের পলিথিন বিক্রি বন্ধ করার আগে যেখান থেকে পলিথিন উৎপন্ন হয় এবং সরবরাহ করা হয় সেই সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা উচিত।

মাওনা চৌরাস্তা এলাকার পলিথিন ব্যবসায়ী মো. হুমায়ুনের দোকানে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, প্রায় ৪-৫ বছর যাবৎ তিনি পলিথিনের ব্যবসা করেন। আনিস নামের অপর ব্যবসায়ী থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে ম্যানেজের নামে আমাদের (পলি ব্যবসায়ী) কাছ থেকে মাসোহারা নেন।

এ ব্যাপারে অপর পলিথিন ব্যবসায়ী আনিসের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

অভিযোগকারী নজরুল ইসলাম জানান, গাজীপুরের অবৈধ পলিথিনের ব্যবসা বন্ধের জন্য গত বছরের সেপ্টেম্বর তৎকালীন পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ্ আল ইসলাম জ্যাকবের কাছে লিখিত অভিযোগ করলে তিনি পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালককে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।

এছাড়াও তিনি ২০১৯ সালের এপ্রিলে র‌্যাবের মহাপরিচালক, পুলিশের মহাপরিদর্শক, পরিবেশ অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তারপরও গাজীপুরে সর্বত্র অবাধে পলিথিনের ব্যবসা চলছে।

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ শামছুল আরেফীন জানান, আমি কয়েকদিন আগে এ উপজেলায় যোগদান করেছি। পলিথিন ব্যবসার খবর সম্পর্কে আমি অবগত নই। পলিথিন বিক্রির সত্যতা পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদুল ইসলাম জানান, তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগটি সঠিক নয়। স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের নজরে এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।

এ ব্যাপারে গাজীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মো. আফজাল হোসেন জানান, গোয়েন্দা পুলিশকে ম্যানেজ করে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ সঠিক নয়।

পরিবেশ অধিদপ্তরের গাজীপুর জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আব্দুস ছালাম জানান, খোঁজ নিয়ে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।