চাকুরীর প্রলোভনে অপহরণ,পুলিশের দৃঢ়তায় উদ্ধার

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি :
সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলার আলমগীর হোসেন (২২)। শ্বশুড়বাড়ী গাজীপুর জেলার শ্রীপুর পৌর এলাকার কেওয়া পশ্চিমখন্ড গ্রামে থেকে মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় অটোরিক্সা চালাতেন। গত সোমবার (১৬জুন) সিংগারদীঘি থেকে মাওনা চৌরাস্তার গন্তব্যের জন্য তিন জন যাত্রী উঠেন তার অটোরিক্সায়। পথেই অটোরিক্সার এক যাত্রী, চালক আলমগীরকে জানায়, সে বহুজাতিক কোম্পানী কোকাকোলার ম্যানেজার। ভাল বেতনে তার কিছু বিক্রয়কর্মী দরকার। এমন সংবাদে অটোরিক্সা চালক আলমগীর স্ত্রীর ছোট ভাই শ্রীপুর উপজেলার কেওয়া পশ্চিম খন্ড গ্রামের ফরহাদ মিয়ার ছেলে সালা উদ্দিন (১৯)কে চাকুরী দেয়ার জন্য অনুরোধ করেন। পরে ইজিবাইক চালকের মুঠোফোন নাম্বার নিয়ে সী-গাল মোড়ে নেমে যান যাত্রীরা।

এদিন রাতেই চাক্রুীর বিষয়ে কথা হওয়া অটোরিক্সার যাত্রী আলমগীরকে ফোন করে পরদিন (মঙ্গলবাল) সকালে সালাউদ্দিনকে নিয়ে মাওনা চৌরাস্তায় দেখা করতে বলেন।

তার কথা মত আলমগীর, সালাউদ্দিনকে নিয়ে মাওনা চৌরাস্তার উড়াল সেতুর দক্ষিণ পাশে একটি খাবার হোটেলে দেখা করেন। সেখান থেকে অফিসে গিয়ে নিয়োগ সম্পন্ন করে দেয়ার কথা বলে সালাউদ্দিনকে নিয়ে মাওনা চৌরাস্তা থেকে ঢাকাগামী গাড়ীতে উঠেন অপহরণকারীরা। এরপর থেকেই সালাউদ্দিনের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এতে উদ্বেগ বাড়তে থাকে পরিবারটির।

পরে রাত ১০টার দিকে আলমগীরের মুঠোফোন থেকে অপহরণের বিষয়টি পরিবারকে জানায় অপরহরণকারীরা এবং মুক্তিপণ হিসেবে এক লাখ টাকা দাবী করেন। অন্যথায় সালা উদ্দিনের দুটি কিডনি বিক্রি করে দেয়ার কথা জানানো হয়। এদিকে সালাউদ্দিনকে উদ্ধারে তাঁর পরিবারের সদস্যরা রাতেই থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ পাওয়ার পরপরই সালা উদ্দিনকে উদ্ধারে শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক রাজিব কুমার সাহা নেতৃত্বে অভিযানে নামে পুলিশের একটি দল।

এস আই রাজিব কুমার সাহা জানান, অভিযোগের পরই ভিকটিম সালাউদ্দিনকে উদ্ধারে তৎপর হয় পুলিশ। এসময় অপহরণকারীদের মুঠোফোন ট্র্যাক করে তাদের অবস্থান নির্ণয় করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু অপহরণকারীর দ্রæত জায়গা বদলাতে থাকায় তাদের অবস্থান নির্ণয়ে বেগ পেতে হয়। একপর্যায়ে তাদের অবস্থান নির্দিষ্ট করতে, মুক্তিপণ পাঠানোর জন্য একটি বিকাশ নাম্বার চাওয়া হয়। বিশ্বস্ততা অর্জনের জন্য একবার তিন হাজার টাকা ওই নাম্বারে দেয়ার পর তারা তা তুলে নেয়। পরে আবারও ওই বিকাশ নাম্বারে টাকা পাঠানো হয়। পরে সেই তুলতে অপহরণকারীরা গেলে তাদের ঢাকার কাওরান বাজারের মসজিদ মার্কেট থেকে মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়।

এব্যাপারে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাবেদুল ইসলাম জানান, অপহরণের অভিযোগে নারায়নগঞ্জ জেলার রুপগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের শফিক মিয়ার ছেলে সুজন মিয়া (৩২) ও একই এলাকার আব্দুল লতিফের ছেলে খোকন মিয়া (২৪) কে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার অভিযুক্তদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে সুজন ঘটনার ১৬৪ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।