জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে

২০১৯-২০ সালের বড় অঙ্কের নতুন বাজেট যেন সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় খরচ বাড়ার আশঙ্কা নিয়েই পাস হয়েছে। এবারের বাজেটে জনগোষ্ঠীর ব্যয়ভারের ওপর যে পরিমাণ নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টরা তা নিয়ে বিশেষ ভাবনায় পড়ে গেছে। কারণ ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের লাগাম টানতে গেলে সীমাবদ্ধ আয়কেও খতিয়ে দেখা অত্যন্ত জরুরী।

এবারের বাজেটে ভ্যাট আইনের নতুন মাত্রায় সংশ্লিষ্ট পণ্যের ওপর যে প্রভাব পড়বে, তা মেটাতে হবে সাধারণ ভোক্তা শ্রেণীকে। বিশেষ করে নিম্ন আর মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রায় পণ্যের ওপর ভ্যাটের মূল্য বৃদ্ধি গণমানুষকে যে বিব্রতকর অবস্থার মুখোমুখি করবে তা সত্যিই ভাববার বিষয়। অনেক পণ্যে নতুন করে ভ্যাট সংযোজন, আবার ভ্যাটযুক্ত জিনিসের মূল্য বৃদ্ধি জনগণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে দুঃসহ করে তুলতে পারে। এর সঙ্গে সঙ্গে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা-এর মতো যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতি তৈরি করবে। দেশের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার ওপর পড়বে এর নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া। ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের সিংহভাগ সাধারণ মানুষ। নতুন বাজেটে এমন অনেক শুল্কও আরোপ করা হয়েছে, যা পরিশোধ করতে হবে গণমানুষকেই। অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী নেতৃত্ব ও বিশ্লেষকরা মনে করছেন এমন ব্যয়বহুল বাজেট বাস্তবায়নের আগে পুনর্মূল্যায়ন করে জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগ কমানো যায় কি না, সেটাও আমলে নিতে হবে। কারণ পরিবর্ধিত বাজেট নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য থেকে আরম্ভ করে পরিবহন, বাসা ভাড়া, কৃষি ব্যয় এবং সেবার মানের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে। যা জনমনে কোন রকম স্বস্তি কিংবা আরামদায়ক হবে না। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ওপর ভ্যাট বাড়িয়ে যে পরিস্থিতি তৈরি করা হলো, তার মূল্য দিতে হবে ভোক্তা শ্রেণীকে।

মুঠোফোন সেবায়ও সম্পূরক শুল্ক বসানো হয়েছে আগের তুলনায় ৫% বাড়িয়ে। আগে যে সিম কার্ডের কর ছিল ১০০ টাকা, তা বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হয়। এতে যেমন খরচ বাড়বে ফোন কিনতে, একইভাবে বৃদ্ধি পাবে কথা বলারও রেট। গাড়ি নবায়নের ক্ষেত্রেও মাসুলের ওপর ১০% সম্পূরক শুল্ক নির্ধারণ করা হয়।

নিত্য ব্যবহারযোগ্য দ্রবসামগ্রীকে যেভাবে ভ্যাটের বর্ধিত মূল্যের আওতাভুক্ত করা হয় তাতে পুরো জনগোষ্ঠী ভ্যাট, মাসুল, আর সম্পূরক শুল্ক দিতেই নাজেহাল হয়ে পড়বে। সেক্ষেত্রে বাজেটকে আরও গ্রহণীয় এবং জনগণের কাছে নিয়ে আসা যেত। নতুন বাজেটে কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে শুল্ক করকে কমিয়ে সাধারণ জনগণের ক্রয় সক্ষমতাকে বিবেচনায় আনা যেত।

বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো হয়নি। সাধারণ গণমানুষের আয়ের অন্যতম উৎস সঞ্চয়পত্র। বিশেষ করে মহিলাদের পারিবারিক আর অবসরভোগীদের পেনশন সঞ্চয়পত্রের ওপর উৎসে কর ৫ থেকে ২০ শতাংশ বাড়ানো বিবেচনাপ্রসূত হয়নি। সঞ্চয়পত্রের ওপর দ্বিগুণ উৎসে কর আর নিত্য ব্যবহৃত পণ্যসামগ্রীতে ভ্যাটের পরিমাণ বৃদ্ধি করা সত্যিই জনকল্যাণমূলক হয়েছে কিনা সেটাও খতিয়ে দেখা দরকার। প্রস্তাবিত বাজেট মূলত জনগণের স্বার্থে, তাদের কল্যাণে; সেটা যদি হিতে বিপরীত হয়, তার মূল্য তো জনগণের ঘাড়েই চাপবে। জানি না এখানে সরকারের আদৌ কিছু করার আছে কিনা। যদি থাকে সেটা সংশ্লিষ্টদের বিবেচনায় আনা আবশ্যক বৈকি।