ডব্লিউইএফ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

পাঁচ দিনব্যাপী চীন সফরের প্রথম পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী চীনের লিয়াওনিং প্রদেশের ডালিয়ানে অনুষ্ঠিত ‘এ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়নস ২০১৯’, যা ডব্লিউইএফ সামার দাভোস নামেও অভিহিত, শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন। এই সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান, ব্যবসায়ী, সুধী সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ ও শিল্পীসহ প্রায় দুই হাজার প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। তিন দিনব্যাপী বার্ষিক এই সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেচিয়াং। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা ক্লাউস সোয়াব ১৯৭১ সালে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে একে গড়ে তোলেন সুইজারল্যান্ডের দাভোসে। এটি ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে সুইস ফেডারেল সরকারের আইনের অধীনে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থায় স্বীকৃতি পায়। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৭ সালে সুইজারল্যান্ডে ৪৭তম দাভোস সম্মেলনে যোগদান করেছিলেন। এবারের সম্মেলনে বৈশ্বিক পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ, আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা, অর্থনৈতিক অসমতা এবং প্রযুক্তিগত সঙ্কটের বিষয়ে নতুন পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী টেকসই বিশ্ব গড়ে তোলার জন্য ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী তথা দুর্বল অর্থনীতির মূল উদ্বেগ নিরসনে পাঁচ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন। এগুলো হলো, দেশগুলোর মধ্যে শান্তি-সম্প্রীতি-স্থিতিশীলতার পরিবেশ সৃষ্টি, টেকসই উন্নয়নের জন্য সবদিকে দৃষ্টিপাত, পারস্পরিক স্বার্থে বিশ্বাস ও আস্থার সম্পর্ক স্থাপন, সবার জন্য সম্পদ সৃষ্টির লক্ষ্যে সার্বিক উন্নয়ন এবং প্রতিযোগিতামূলক সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশ গড়ে তোলা। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা শুধু কয়েকটি বৃহৎ অর্থনীতির সক্ষমতা এবং তাদের প্রয়োজনের আঙ্গিকেই সবকিছু দেখতে অভ্যস্ত। কিন্তু টেকসই বিশ্বের জন্য আমাদের অবশ্যই ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীসহ অপেক্ষাকৃত দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলোর মূল উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নিরসনের উপায় খুঁজে বের করতে হবে। মনে রাখতে হবে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে দেড় শ’ কোটি মানুষের বসবাস, যারা অপেক্ষাকৃত দরিদ্র ও অনুন্নত। তাদের জন্য উন্নত বিশ্ব তথা দেশগুলোর অবশ্যই অনেক কিছু করণীয় ও কর্তব্য রয়েছে।

সামার দাভোস সম্মেলনে আরও একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হলো, আগামী বছর বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ডব্লিউইএফ বাংলাদেশে একটি ব্যাপক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটি ২০২১ সালে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান করবে, যেখানে বাংলাদেশই হবে কেন্দ্রবিন্দু।

বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যে দীর্ঘদিন থেকে বিরাজমান রোহিঙ্গা সমস্যা ও তার সমাধানে বছরের শুরুতে ঢাকায় জাতিসংঘের মহাসচিব, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট, আন্তর্জাতিক রেডক্রসের প্রধান এবং ইউএনএইচআরের প্রধানসহ শীর্ষ পর্যায়ের সফরটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যবহ। তারা প্রধানত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর চাপবৃদ্ধিসহ আর্থিক সাহায্য ও অনুদান বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দেয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের বর্তমান উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তবে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট যা বলেছেন তা বোধকরি ছাপিয়ে গেছে সবাইকে। তিনি বলেছেন, দারিদ্র্য নিরসন ও সবার জন্য সুযোগ সৃষ্টিতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে আবির্ভূত হয়েছে ‘বিশ্ব নেতা’ হিসেবে। এমনকি এও বলেছেন, বাংলাদেশের উন্নতি অন্যান্য দেশের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে। সামার দাভোস সম্মেলনে যেন তারই প্রতিফলন ঘটেছে।