বিশ্বকাপে টাইগারদের অর্জন

বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের সঙ্গে অষ্টম ম্যাচটি খেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ দলের বিশ্বকাপ মিশন শেষ হলো। টুর্নামেন্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত সেরা চারে অন্তর্ভুক্তি তথা সেমিফাইনাল খেলার সম্ভাবনা জাগিয়ে রেখেছিল টাইগাররা। শেষদিকে পরপর কয়েকটি ম্যাচে আশানুরূপ পারফর্মেন্স না করতে পারায় পিছিয়ে পড়ে সপ্তম স্থানে চলে আসে এবং সেমিফাইনাল অধরাই থেকে যায়। সব কটি খেলা বিশ্লেষণ করলে আমরা বলতেই পারি যে, এবারের বিশ্বকাপে টাইগারদের অর্জন সামান্য নয়। দেশবাসীর প্রত্যাশা যদিও ছিল আরও বেশি; কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না টাইগাররা যে আটটি ম্যাচ খেলেছে সেই ম্যাচগুলোতে প্রতিপক্ষ দলগুলো বাংলাদেশকে সমীহের চোখেই দেখেছে। এটি টাইগারদের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ অর্জন। এখন বিশ্বের কোন দলই বাংলাদেশের ক্রিকেট দলকে তুচ্ছ জ্ঞান করে না। তারা ভাল করেই জানে বাংলাদেশ যে কোন ম্যাচেই জ্বলে ওঠার ক্ষমতা রাখে। ভারতের মতো দলের বিরুদ্ধে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে গেছে আমাদের ক্রিকেটাররা। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কাছে হেরেছে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো অত্যন্ত শক্তিশালী দুটি দল। এছাড়া নতুন চমক আফগানিস্তানকেও হারিয়েছে টাইগাররা। বৃষ্টিতে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ম্যাচটি ভেসে না গেলে জয়ের সংখ্যা বাড়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা ছিল।

আমাদের সাকিব আল হাসান বিশ্বরেকর্ড সৃষ্টি এবং ধারাবাহিক অলরাউন্ড নৈপুণ্যের কারণে বিশ্বের সব বাঘা বাঘা খেলোয়াড়ের ওপরে নিজেকে উন্নীত করেছেন। সাকিবের আগে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের একই আসরে ৫০০ রান ও ১০ উইকেট কেউ কখনও নিতে পারেননি। তবে নিজ দলে সাকিব ছিলেন অনেকটাই নিঃসঙ্গ শেরপার মতো। অপরদিকে বোলিংয়ে মুস্তাফিজ পরপর দুই ম্যাচে পাঁচটি করে উইকেট নিয়ে বিশ্বকাপে বড় চমক দেখিয়েছেন। এই দু’জনের কথা আমাদের বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হবে। কারণ তারাই আগামী দিনের তরুণ ক্রিকেটারদের অনুপ্রেরণা।

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ মিশন শেষ হলো। এখন আমাদের নিজেদের শক্তি সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পালা। একই সঙ্গে দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে সঠিক পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে উত্তরণের সুবর্ণ সুযোগ। বোলিংয়ে আমাদের উন্নতি করতে হবে। দেশের নতুন প্রতিভাকে খুঁজে বের করতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা ফিল্ডিংয়েও আমাদের যথেষ্ট উন্নতি করতে হবে। সেজন্য প্রশিক্ষণ ও অনুশীলনের বিকল্প নেই। কর্তৃপক্ষ এ দিকটিতে বিশেষ দৃষ্টি দেবে এমনটাই প্রত্যাশা। সারাদেশেই ক্রিকেট খেলার চর্চা বাড়াতে হলে নতুন মাঠ তৈরি করতে হবে। নিজেদের মধ্যে বেশি বেশি প্রতিযোগিতার আয়োজন করে দক্ষ সেরা খেলোয়াড়দের শনাক্ত করতে হবে। এখন থেকেই গুরুত্বের সঙ্গে

পরিকল্পনা এবং অনুশীলন গ্রহণের মধ্য দিয়ে এগিয়ে গেলে সামনের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ যে আরও ভাল করবে এমনটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা।