মেয়েকে বিয়ে দিতে রাজি না হওয়ায় বখাটের হাতে মা খুন

প্রাইম ডেস্ক :

কক্সবাজারের চকরিয়ায় রাজমিস্ত্রি ছেলের সাথে মাদ্রাসা পড়ুয়া কন্যাকে বিয়ে দিতে রাজি না হওয়ায় মো. হাসান নামে এক বখাটের হাতে নিজ ঘরেই খুন হয়েছেন মা নাজমা বেগম (৪২)। ওই বখাটে গৃহবধূ নাজমা বেগমকে জবাই করে খুন করার পর নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়। 

সোমবার (৮ জুলাই) রাত ৯টার দিকে উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের শান্তিনগর মুসলিমপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত নাজমা বেগম ওই এলাকার রিক্সাচালক কলিম উল্লাহর স্ত্রী ও তিন সন্তানের জননী।

মঙ্গলবার (৯ জুলাই) নিহত নাজমা বেগমের ময়না তদন্ত শেষে ওইদিন বিকালে হারবাং ইউনিয়নের স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এদিকে এ চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনায় নিহত নাজমা বেগমের স্বামী কলিম উল্লাহ বাদী হয়ে মঙ্গলবার বিকালে বখাটে মো. হাসানসহ ৪-৫ জনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করলেও এখনো পুলিশ এ খুনের ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামিসহ কাউকে আটক করতে পারেনি। তবে পুলিশের দাবি, গৃহবধূ নাজমা বেগম খুনের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নিহত নাজমা বেগমের দেবর মঞ্জুর আলম বলেন, বেশকিছু দিন ধরেই তার মাদ্রাসাপড়ুয়া ভাতিজীকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল বখাটে মো. হাসান। হাসান কক্সবাজারের বাসিন্দা হলেও প্রায় সময় সে হারবাং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের শান্তিনগর মুসলিমপাড়া এলাকায় তার খালা জাহেদা বেগমের বাসায় আসা-যাওয়া করত। মাঝে মধ্যে বখাটে মো. হাসান তার খালার জামাই মোনাফ মিস্ত্রির সাথে বিভিন্ন জায়গায় কাজকর্মও করে। এ কারণে সে অন্য এলাকার বাসিন্দা হয়েও তার খালা ও খালার জামাইর আশ্রয়-প্রশ্রয়ে তাদের বাড়িতেই থেকে যায়। গত এক সপ্তাহ আগেও বখাটে মো. হাসান তার মাদ্রাসাপড়ুয়া ভাতিজীকে বিয়ে করার প্রস্তাব পাঠায় মেয়ের মার কাছে। এ সময় মেয়ের মা বখাটের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ ও তাদেরকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। এর পরপরই বখাটে হাসানের উৎপাত থেকে বাঁচাতে মেয়েকে পার্শ্ববর্তী দাদার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন মা নাজমা বেগম। পরবর্তীতে মেয়েকে দেখতে না পেয়ে বখাটে মো. হাসান ক্ষিপ্ত হয়ে সোমবার সকালেও তার ভাই মঞ্জুর আলম এবং ভাবী নাজমা বেগমকে বকাঝকা এবং দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। 

নিহত নাজমা বেগমের দেবর মঞ্জুর আলম আরও বলেন, সোমবার রাত ৯টার দিকে বাড়ির লোকজনের অনুপস্থিতিতে বখাটে মো. হাসান তার ভাইয়ের বাড়িতে ঢুকে ভাবী নাজমা বেগমকে জবাই করে খুন করার পর পালিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই তার ভাতিজা শেফায়েত উল্লাহ বাইরে থেকে বাড়িতে ঢুকে রক্তাক্ত অবস্থায় তার মায়ের লাশ মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার শুরু করলে পার্শ্ববর্তী লোকজন এগিয়ে এসে বিষয়টি হারবাং পুলিশ ফাঁড়িকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার ভাবী নাজমা বেগমের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। 

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, নিহত নাজমা আক্তারের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার বিকালে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ ঘটনায় নিহতের স্বামী কলিম উল্লাহ বাদি হয়ে বখাটে মো. হাসানকে প্রধান আসামি করে ৫-৬ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা দায়েরের পর গৃহবধূ নাজমা বেগম খুনের ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামি বখাটে মো. হাসানসহ অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।