ধর্ষণসহ অপরাধ বাড়ছে

ওয়ারীর বনগ্রামে স্কুলছাত্রী শিশু সায়মাকে ধর্ষণ ও হত্যা করে ধর্ষক হারুন-অর-রশীদ। সভ্য সমাজে এমন অমানবিক কাজ মনুষ্যত্ব আর বিবেকের চরম অপমান। এই জঘন্যতম অপরাধের জন্য দ্রুত বিচার আইনে স্বল্পতম সময়ে শাস্তি কার্যকর করা অত্যন্ত জরুরী। তার চেয়েও বেশি এমন অপকর্মের শুধু চরম দ- দেয়াটা পাষ- কোন অমানুষের জন্য যথাযথ শাস্তি কি না তাও বিবেচনা করতে অনেক কষ্ট হয়। অনেক রক্ত, লাখ লাখ মুক্তিযোদ্ধার মূল্যবান জীবনের বিনিময়ে অর্জিত এই লাল-সবুজের পতাকা কোন্ অশুভ ছায়ায় অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হচ্ছে সেটা ভাবতেও শিউরে উঠতে হয়। স্বাধীনতার জন্য মা-বোনের সম্ভ্রমহানির ইতিহাসও সেই সংগ্রামী ঐতিহ্যের কলঙ্কিত অধ্যায়। এত কিছু বিসর্জনের পর যে মুক্তির আবহ আমাদের স্বস্তি এনে দিয়েছিল তাকে ধরে রাখতে গিয়ে আমরা কেন এত হিমশিম খাচ্ছি? জঘন্যতম অপকর্মের ভয়াবহ চিত্রগুলো যখন আমাদের দিশেহারা করে তোলে তখন আমরা কিভাবে পরিত্রাণ পাব সেটাও ভাববার বিষয় হয়ে উঠেছে। মানুষের মধ্যে বিবেকহীনতার বোধ যদি প্রবলভাবে তাকে চালিত করে তবে ভেতরের শুভশক্তি কোনভাবেই মাথা তুলতে পারে না। অন্যায় আর অত্যাচারের এক বৃহৎ চক্রব্যূহ সমাজের বিভিন্ন জায়গায় যেভাবে আস্তানা গেড়েছে তাকে সমূলে উৎখাত করতে না পারলে দেশের উদীয়মান প্রজন্ম উদ্দীপ্ত চেতনায় এগিয়ে যেতে ব্যর্থ হবে। কিশোর সমাজের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়া একেবারে অমূলক নয়। কিশোর অপরাধের কথা সংবাদ মাধ্যমে উঠে এসেছে এমন তথ্য পাওয়া যায় আদালতের মাধ্যমে। গত ১৬ বছরে ঢাকায় ৯৯টি খুনের দায়ভাগ বর্তায় ৩ শতাধিক কিশোরের ওপর। যারা খুন হয়েছে তাদের মধ্যে বেশিরভাগই ১২ থেকে ১৭ বছরের। আর যারা খুনের সঙ্গে জড়িত তারাও ১৫ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। উল্লিখিত খুনসমূহের কারণ খুবই সামান্য। ছোটখাটো ব্যক্তিগত কিংবা পারিবারিক দ্বন্দ্ব, নয়ত প্রেম সংক্রান্ত ব্যর্থতা। কিছু আছে আধিপত্য বিস্তারে জবর দখলমূলক কর্মকা-ের পরিণতি।

সব মিলিয়ে এমন সব জঘন্য ও পৈশাচিক অপরাধের জন্য পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠদের অনেক কিছু করার আছে। পরিবারের বড়দের মানবিক অবক্ষয় পরবর্তী প্রজন্মকে নানাভাবে প্রভাবিত করছে। শুধু তাই নয়, শিক্ষাঙ্গনের মতো পবিত্র প্রতিষ্ঠানেও শিক্ষকদের বিকৃত রুচি, মনুষ্যত্বহীন কার্যকলাপ, মেয়েদের জঘন্যভাবে অপমান ও অসম্মান করার অসংযত মনোবৃত্তি শিক্ষার্থীদেরও অনিরাপদ অবস্থায় ঠেলে দিচ্ছে। পারিবারিক বিশুদ্ধ আবহ আর শিক্ষাঙ্গনের সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক পরিবেশ উদীয়মান নতুন প্রজন্মের জীবন গঠনে যে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব বিস্তার করে সেটা অবশ্যই আমলে নিয়ে সবাইকে সাবধান এবং সচেতন হওয়া ছাড়া অন্য কোন বিকল্প নেই।

সামাজিক মূল্যবোধের এমন চূড়ান্ত অবক্ষয়ে অত্যাচার, নিপীড়ন, হত্যা, ধর্ষণ এসবও ক্রমান্বয়ে বেড়ে যেতে থাকে। এর থেকে বের হতে হলে সুস্থ মানবিক সম্পর্ক, মানুষের প্রতি মানুষের সম্মানবোধ, মেয়েদের প্রাপ্য মর্যাদা দিয়ে তাদের মানুষের কাতারে নিয়ে আসা প্রত্যেকেরই দায়বদ্ধতা।

সায়মার মতো শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার ভয়াবহ নৃশংসতা থেকে কি করে সবাইকে পরিত্রাণ দেয়া যায় সে বিষয়টিও অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। বিজ্ঞজনেরা বলছেন, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক জাগরণই মানুষকে পরিশীলিত, মানবিক আর মনুষ্যত্ববোধে উজ্জীবিত করে। এসবও ভাবনার মধ্যে আনা সঙ্গত।