রবিবার, এপ্রিল ১১
Shadow

পাক সেনাবাহিনীর মদতেই লাদেনকে হত্যা করে মার্কিন স্পেশাল ফোর্স

 

প্রাইম ডেস্ক :

২০০৬ সালে আরবের হিন্দুকুশ এলাকা থেকে লাদেনকে আটক করে পাক সরকার। ইসলামাবাদের তত্ত্বাবধানেই অ্যাবটাবাদে লাদেনের বাসস্থান তৈরি হয়েছিল। পাক সরকারের মূল উদ্দেশ্য ছিল ওসামা বিন লাদেনকে নজরবন্দী করে রাখা। লাদেনকে হত্যার পিছনে সম্পূর্ণ মদত ছিল পাক সেনাবাহিনীর। এমনই দাবি করেছেন বিখ্যাত মার্কিন তদন্তমূলক সাংবাদিক সেইম্যুর হার্শ। মঙ্গলবার পাকিস্তানের বিখ্যাত সংবাদপত্র ‘ডন’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই কথা বলেছেন তিনি।

অ্যবটাবাদে পাক সেনা ছাউনির ঢিল ছোড়া দূরত্বে ছিল বিশ্বত্রাস জঙ্গি লাদেনের নিবাস। সেইরকম একটা এলাকায় আমেরিকার সেনা অভিযান চালানো নিয়ে প্রথম থেকেই সন্দিহান ছিলেন পুলিতজার পুরস্কার জয়ী সাংবাদিক হার্শ। তাঁর দাবি, ‘পাক সেনার সাহায্য ছাড়া মার্কিন সেনা অ্যবটাবাদে প্রবেশ করতে পারত না। কারণ, ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে সীমান্তে সর্বদা নজর রাখে পাক সেনা। তাই লাদেনকে হত্যা করতে আমেরিকার সেনা অভিযানের কথা পাকিস্তান জানত না এটা সম্পূর্ণ মিথ্যে।’
নিজের সন্দেহ দূর করতে তদন্ত চালিয়েছিলেন সাংবাদিক সেইম্যুর হার্শ। সেই তদন্ত উঠে এসেছে, লাদেনকে আটক করলেও সৌদি আরবের চাপে তাকে আমেরিকার হাতে তুলে দেয়নি পাকিস্তান। চার বছর নজরবন্দী করে রেখেছিল অ্যবটাবাদে সেনা ছাউনির কাছে। ২০১০-এর অগাস্টে এক পাক সেনাকর্তা মার্কিন দূতাবাসে লাদেনের পাকিস্তানে থাকার খবরটি আমেরিকার গোচরে আনেন। এরপর লাদেন হত্যার ছক করতে তিনি আমেরিকাতেও গিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন হার্শ। ইসলামাবাদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সমঝোতার মাধ্যমেই ২০১১ সালের মে মাসে হত্যা করা হয় লাদেনকে। বিষয়টি জানতে পেরে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন পাক বিমানবাহিনীর তৎকালীন প্রধান। সমগ্র ঘটনা ফাঁস করে দেওয়ারও হুমকি দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তাঁর মুখ বন্ধ রাখার জন্য পিআইএ চেয়ারম্যান করে দেওয়া হয়। লাদেন হত্যা নিয়ে ‘দ্যা কিলিং অফ ওসামা বিন লাদেন’ নামে একটি বই লিখেছেন সেইম্যুর হার্শ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.