বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৫
Shadow

এগিয়ে থেকেও হারল ১০ জনের বাংলাদেশ

প্রাইম খেলাধুলা  :

ধাপে ধাপে উন্নতি করেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। প্রথম ম্যাচে উত্তের কোরিয়ার কাছে ৯-০ গোলের বড় ব্যবধানে হার ছিল হতাশার। কিন্তু পরের ম্যাচেই জাপানের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ায়। হার মানে ৩-০ গোলে। এক ম্যাচ পরেই যেন কৃষ্ণারা নিজেদের ফিরে পান। সেই আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ম্যাচে জয়ের স্বপ্ন দেখাই শুরু করেন কৃষ্ণা-স্বপ্না-মাহমুদা-মনিকারা। স্বপ্নের কাছাকাছি চলেও গিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারেননি। সম্ভাবনা জাগিয়ে ১০ জনের দল নিয়ে ২-১ গোলে এগিয়ে থাকার পরও ৩-২ গোলে হেরে প্রথমবারের মতো এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ মহিলা ফুটবলের আসরে ইতি ঘটে বাংলাদেশ দলের। বাংলাদেশের পক্ষে গোল করেন শামসুন্নাহার ও মনিকা। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে গোল করেন হিউজ, কার্লি রোয়েস্টবাকেনের ও সোফিয়া সাকালিস।

এই আসরকে সামনে রেখে বাংলাদেশ দলকে গত এক বছর প্রচুর সুযোগ-সুবিধা দিয়ে যথাযথ অনুশীলন করানোর মাধ্যমে গড়ে তোলা হয়। সেই সঙ্গে স্বপ্নও দেখা শুরু হয় ভালো একটা কিছুর। তিনটি ম্যাচে হারলেও স্বপ্না-কৃষ্ণারা আশার আলো ছড়িয়েছেন ক্রমান্বয়ে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে ছিল তারই প্রতিফলন। প্রথমে এক গোলে পিছিয়ে পড়া। এরপর ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া। পরবর্তীতে গোল পরিশোধ করে আবার এগিয়ে যাওয়া। অতঃপর জয়ের স্বপ্ন দেখা। কিন্তু শেষ ১২ মিনিটে দুই গোল হজম করে বাংলাদেশ ম্যাচ হেরে যায়।

রোববার থাইল্যান্ডের চোনবুরির ইনস্টিটিউট অব ফিজিক্যাল এডুকেশন ক্যাম্পাস স্টেডিয়ামে বাংলাদেশর মেয়েরা খেলেছেন উজ্জীবিত খেলা। সমান তালে লড়েছেন শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। গোলে পোস্টের নিজে গোলরক্ষক মাহমুদা ছিলেন যে অতন্দ্র প্রহরী। তারপরও ৮ মিনিটে গোল হজম করতে হয় দলকে। তার আগের মিনিটে হিউজের বাড়িয়ে দেয়া বল ধরে জুলিয়া ভিগনেস বক্সে ঢুুকে পড়লে মাহমুদ এগিয়ে এসে বিপন্মুক্ত করেন। কিন্তু এরপরই তার পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে আসার সুযোগকে কাজে লাগান হিউজ গোল করে। খেলার শুরুতেই গেল হজম করার পর যেন ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। মুহুর্মুহু আক্রমণ করে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণভাগ। ১১ মিনিটে স্বপ্নার বক্সের ভেতর ঢুুকে নেয়া দুর্বল শট লাল-সবুজের দলকে গোল বঞ্চিত করে। ১৮ মিনিটে মাবিয়ার বাঁ পায়ের শট পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। খেলা যখন বাংলাদেশ দলের নিয়ন্ত্রণে, তখন অধিনায়ক কৃষ্ণাকে হারিয়ে বড় ধাক্কা খায় দল। ৩৩ মিনিটে বল দখলের লড়াইয়ে কৃষ্ণা পড়ে গেলেও সরাসরি লালকার্ড দেখেন। দলের এ রকম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে হারিয়ে ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পরও খেলোয়াড়দের মনোবলে একটুও আঘাত লাগেনি। উল্টো তারা কৃষ্ণার শূন্যতা বুঝতে দেননি। তারই প্রমাণ মেলে প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে পেনাল্টি থেকে সামসুন্নাহারা গোল পরিশোধ করে সমতা নিয়ে আসার মাধ্যমে।

দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হলে আক্রমণেন সেই ধারা ধরে রাখেন স্বপ্নারা। এগিয়ে যেতেও সময় লাগেনি। ৫১ মিনিট একটি পরিকল্পিত আক্রমণ থেকে গোল করে এগিয়ে যায় দল। ৫১ মিনিটে বক্সের ডি-ভেতর থেকে স্বপ্নার নেয়া শট অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক ফিরিয়ে দিলেও ফিরতি বলে মনিকার কোনাকুনি শট জালে প্রবেশ করে। পরের মিনিটেই ব্যবধান বাড়ত বাংলাদেশ দল। কিন্তু স্বপ্নার কাছ থেকে বল পেয়ে মৌসুমি কাজে লাগতে ব্যর্থ হন। ৬৫ থেকে ৭৫- এই ১০ মিনিটে এই দুই খেলোয়াড়কেই কোচ মাঠ থেকে তুলে নিয়ে মধ্য মাঠের দুই খেলোয়াড় রাজিয়া ও রত্নাকে মাঠে নামান কোচ। চাপে থাকার পরও অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়রা গোল পরিশোধের জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালাতে থাকেন। খেলা যখন ক্রমেই শেষের দিকে এগুচ্ছে। বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা বাড়তে থাকে, তখনই দুটি কর্নারকে কাজে লাগিয়ে সমতায় ফিরে এগিয়েও যায় অস্ট্রেলিয়া। ৭৯ মিনিটে কার্লি রোয়েস্টবাকেরের কর্নার শট বাঁক খেয়ে গোলে প্রবেশ করে। পরের গোল ৮৩ মিনিটে সোফিয়া সাকলিসের।

Leave a Reply

Your email address will not be published.