কোরবানির পশু ও চামড়া

পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে শুক্রবার। এ মাসের দশম দিনেই পবিত্র ঈদ-উল-আযহা। ঈদে কোরবানির জন্য পশুর যোগান পাওয়া যায় কোরবানির হাট থেকে। এবার ঈদের সাতদিন আগে থেকে হাট বসার সিদ্ধান্ত হয়েছে। রাজধানীর অস্থায়ী-স্থায়ী মিলে মোট ২৪টি হাটে থাকবে ২৪টি ব্যাংকের জাল নোট শনাক্তের বুথ। নিরাপত্তায় হাটে হাটে থাকছে একাধিক ওয়াচ টাওয়ার ও ক্যামেরা। এছাড়াও ক্রেতা- বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্যাম্পও থাকছে হাটে। রাজধানীর উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের একাধিক হাটেই চলছে কোরবানির পশুর বেচাকেনা। সুসংবাদ হলো ভিনদেশী গবাদিপশুর মুখাপেক্ষী হয়ে আর থাকতে হবে না বাংলাদেশকে। দেশী গরু-ছাগল দিয়েই কোরবানি হবে। কোরবানি সামনে রেখে প্রতিবছর গরু নিয়ে যে সঙ্কট তৈরি হয়ে থাকে, চলতি বছর আর সে আশঙ্কা থাকছে না। বরং চাহিদা অনুযায়ী গরুর যোগান থাকবে বাজারে। বলা যায়, গবাদিপশুর ক্ষেত্রে দেশ এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ। যেমন স্বয়ংসম্পূর্ণ শাক-সবজি, হাঁস-মুরগি, চাল-ডালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যদির ক্ষেত্রে। প্রতিবেশী দেশ থেকে আমদানি বা চোরাই পথে গরু আনার ক্ষেত্রে যেসব প্রতিবন্ধকতা পোহাতে হতো, ঘটত জীবননাশের ঘটনা, ঝুঁকির মুখে থাকতে হতো সেসব আজ প্রায় অতীত। ভারত থেকে গরু আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর দেশী খামারিরা অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে উৎপাদন বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে গবাদিপশুর কোন সঙ্কটই আর নেই ।

কয়েক বছর ধরে অব্যাহতভাবে গরু, ছাগল, মহিষ ও ভেড়ার উৎপাদন বাড়ায় কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। রফতানিতে দ্বিতীয় স্থানে থাকা চামড়াখাতও ক্রমশ অগ্রসরমান। পশুপালনে সহজ শর্তে ঋণসহ নীতিগত সহায়তা পাওয়ায় এখানে উদ্যোক্তার সংখ্যাও বাড়ছে। দেশে ২৮ লাখ পরিবার সরাসরি গবাদিপশু পালনের সঙ্গে জড়িত। পাশাপাশি ৬৫ হাজার গরুর খামার গড়ে উঠেছে। এসব খামারে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এখন গরু উৎপাদন হচ্ছে। পাশাপাশি প্রান্তিক কৃষক পর্যায়েও অবাণিজ্যিক ভিত্তিতে বিপুলসংখ্যক গরু ও ছাগল উৎপাদন হচ্ছে। ফলে এই খাতে বাড়ছে উৎপাদনের পরিমাণ। এতে করে ভারত, মিয়ানমার ও নেপাল থেকে গরু আমদানির প্রবণতা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।

উৎপাদন বাড়ায় চামড়া শিল্পেও বইতে শুরু করেছে সুবাতাস। সাভারের চামড়া শিল্পনগরীর ১৫৫ ট্যানারি কাঁচা চামড়া সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে পুরোপুরি প্রস্তুত। সরকার এবারও কোরবানিতে চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করে দেবে। গবাদিপশু হৃষ্টপুষ্টকরণে ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান পশুর দেহে প্রয়োগ ও পশুখাদ্যে ব্যবহার করার প্রবণতা এবার হ্রাস পাক সেটিই প্রত্যাশা। বিষয়গুলো আইনত দ-নীয় অপরাধ হলেও কোরবানিকে সামনে রেখে এই অপচেষ্টা চলে আসছে। দেশ গবাদিপশুতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে ওঠায় দেশের মানুষের আমিষের ঘাটতি পূরণ হবে। কোরবানির পশু নিয়ে কোন ধরনের অনিয়ম যাতে না হয়, সেদিকে কর্তৃপক্ষ সতর্ক থাকবে নিশ্চয়ই

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে প্রতিবছর দুই ধরনের চাঁদাবাজি হয়ে থাকে। একটি পরিবহনে, অপরটি হাটের ইজারায়। নিয়মকানুন মেনে যে কোন ব্যক্তি কোরবানির হাটের ইজারা নিতে পারেন। কিন্তু এ ক্ষেত্রে বিপদটি হলো দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তারা সুস্থ প্রতিযোগিতার পথ বন্ধ করে দেন। ফলে সরকার ইজারার ন্যায্য অর্থ থেকে বঞ্চিত হয়। এ ছাড়া পশুরহাট ও পরিবহন নিয়ে অপরাধী চক্র তৎপর থাকে। অনেক সময় তারা অস্ত্রের মুখে খামারিদের সর্বস্ব কেড়ে নেয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গত বছরের মতো এ বিষয়ে তৎপর থাকবে বলেই প্রত্যাশা।