মঙ্গলবার, জানুয়ারি ১৯
Shadow

নিরাপত্তা পরিষদে ঐকমত্য

আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানো ছাড়া রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারকে নমনীয় ও বাধ্য করার বিকল্প নেই। জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন সংস্থা বারবার আহ্বান জানালেও সে দেশের সেনারা সহিংসতা, খুন, ধর্ষণ, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ বন্ধ করেনি। বরং জাতিগত নিপীড়নের মাত্রা বেড়েছে। নিরাপত্তা পরিষদ চতুর্থ দফা বৈঠক করে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণকে গুরুত্ব দিয়েছে। বিশেষত রাখাইন রাজ্যবিষয়ক পরামর্শক কমিশনের চেয়ারম্যান জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কোফি আনানের সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য রাষ্ট্রগুলো গুরুত্ব দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক এই চাপ অব্যাহত থাকলে সেনা নিয়ন্ত্রিত মিয়ানমারকে নমনীয় ও বাধ্য করা সম্ভব হতে পারে।

উল্লেখ্য, নিরাপত্তা পরিষদে এখনও রোহিঙ্গা নিধন বন্ধে একটি সর্বসম্মত প্রস্তাব আনার চেষ্টা সফল হতে পারেনি। কারণ, চীন ও রাশিয়া এর বিরোধিরা করেছে। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য দেশগুলোর মধ্যে এ দুটি দেশ মিয়ানমারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। দেশ দুটি তাদের অবস্থান যাতে পরিবর্তন করে সেজন্য জাতিসংঘকেই তৎপরতা চালাতে হবে। দশ লাখ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে অস্ত্রের মুখে ঠেলে যে অসহনীয় অবস্থার সৃষ্টি করা হয়েছে তার সমাধান জরুরী।

মিয়ানমার গত পাঁচ দশক ধরে সামরিক জান্তা নিয়ন্ত্রিত। তাদের দমন-পীড়নে রাখাইনসহ অন্যান্য প্রদেশে কত মানুষ নিহত, গুম এবং নারীরা ধর্ষণের শিকার হয়েছে, তার পরিসংখ্যান হয়ত একদিন প্রকাশা হবে।

গণতান্ত্রিক আচরণে দেশটি চলছে এমন ধারণা দেয়া হলেও বাস্তবতা কিন্তু ভিন্ন। এখনও সেনাবাহিনী সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই জান্তা শাসনের বিরুদ্ধে এতকাল মুখ খোলেনি। দেশটি চীন ছাড়া বাকি বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন থাকায় কেউ নজর দেয়নি। রোহিঙ্গা নিধন পর্বে সেনাবাহিনীর ভূমিকায় দেশটি বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন আজ। সরকারে সেনাবাহিনীর আধিপত্য থাকায় বর্তমানে দেশটি এক জটিল রূপান্তরের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। দেশটিকে নিজের স্বার্থেই এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। সঙ্কট জিইয়ে রাখার কারণে দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়ন থমকে আছে। এদিকে রোহিঙ্গাদের ভারে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পরিবেশ বিপর্যয় ঘটছে।

ধর্মীয় ভাবাবেগ ব্যবহার করে সন্ত্রাসবাদে দীক্ষা দিতে অনেকে এই বাস্তুচ্যুতদের কাজে লাগাতে পারে। কোফি আনানের সুপারিশ বাস্তবায়ন যাতে হয় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাই চায়। কদিন আগে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সর্বশেষ বৈঠকে মিয়ানমারে সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান বন্ধ, মানবিক সহায়তার শর্তহীন অবাধ কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ এবং বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা প্রদানে পরিষদ সদস্যদের ঐকমত্য পোষণ অবশ্যই ইতিবাচক। বাকি বিষয়গুলোতেও সদস্য দেশগুলো ক্রমান্বয়ে একমত হবে বলে আশা করা যায়। আর তা হওয়া জরুরী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অসহায় অবস্থা থেকে উদ্ধার ও স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের স্বার্থেই। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও জাতিসংঘে পাঁচটি প্রস্তাব রেখেছেন, যা বিশ্বনন্দিত। এর আলোকেই নিরাপত্তা পরিষদ দ্রুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য পদক্ষেপ নিতে পারে সেটাই প্রত্যাশা।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.