জান দেবো তবু বালু দেবো না :এলাকাবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক  :

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে যমুনা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে ফুঁসে উঠেছেন এলাকাবাসী। ‘জান দিবো, তবু বালু দিবো না’ এমন স্লোগানে সাত গ্রামের তিন সহস্রাধিক মানুষ মানববন্ধন করেছেন। শনিবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু সেতুর দক্ষিণ-পূর্ব পাশের উপজেলার আলীপুরে দুই ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসন ও বিবিএ’র কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই চলে বালু উত্তোলন। তারা অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

মানববন্ধনে গ্রামবাসীর পক্ষে বক্তব্য দেন- বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাক, রফিকুল ইসলাম মাস্টার, শামসুল আলম প্রমুখ।

এ সময় আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বঙ্গবন্ধু সেতুর কোল ঘেঁষে যমুনা নদী থেকে দীর্ঘদিন যাবৎ বালু উত্তোলন করে আসছে উপজেলার গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হযরত আলী তালুকদার, গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সুলতান মেম্বারসহ একটি প্রভাবশালী মহল। বালু উত্তোলনের ফলে উপজেলার চর সিংগুলি, বন সিংগুলি, কায়েম সিংগুলি, জিদহ, ভৈরববাড়ী, আলীপুর, বেলটিয়া, খাগচড়া গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বাড়ি-ঘর হারিয়ে নি:স্ব হয়েছেন সহস্রাধিক মানুষ।

বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম বলেন, বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে। বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে বালু উত্তোলনকারী। এর আগে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীর সাথে বালু উত্তোলনকারীদের সাথে কয়েকবার সংঘর্ষ হয়েছে।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের অধীনে বঙ্গবন্ধু সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবীর পাভেল বলেন, সেতু এলাকায় ৬ কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তারপরেও একটি প্রভাবশালী মহল বালু উত্তোলন করার চেষ্টা করে। বালু উত্তোলনের প্রভাব পরোক্ষভাবে সেতুর উপর গিয়ে পড়ে। বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়। আমরা তাদের বিরুদ্ধে সতর্ক আছি।

এ বিষয়ে কালিহাতী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরিয়ার রহমান বলেন, বালু উত্তোলন বন্ধে আমাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়। বর্তমানে বালু উত্তোলন বন্ধ রয়েছে।