দেশীয় স্যাটেলাইটে টিভি চ্যানেল

আগামীকাল থেকে সব টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার শুরু হচ্ছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে- এই সুসংবাদ স্বস্তিকর। এতকাল সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে আমাদের অন্য দেশের কৃত্রিম উপগ্রহ ব্যবহারের সুবিধা কিনতে হতো বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেছেন টিভি চ্যানেল মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ। উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ মে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে স্যাটেলাইট যুগে প্রবেশ করে বাংলাদেশ। এরপর ৩১ জুলাই এ স্যাটেলাইটের জন্য গাজীপুর ও রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়ায় দুটি উপগ্রহ ভূ-কেন্দ্র উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গাজীপুর গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে সার্বক্ষণিক মহাকাশে থাকা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর গতিবিধি ও অবস্থান পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রথম কয়েকমাস নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফ্রান্সের থ্যালেস এলিনিয়া দেখভাল করলেও গত বছরের ৯ নবেম্বর মালিকানা হস্তান্তর করে বাংলাদেশের কাছে।

স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে বাংলাদেশ নানাভাবে উপকৃত হবে। স্যাটেলাইটের সক্ষমতা বিক্রি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় ও সাশ্রয় সম্ভব। এছাড়া স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ সেবার সম্প্রসারণ করা সম্ভবপর হবে। এ ধরনের স্যাটেলাইটের আরেকটি সুবিধা হলো দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলা ও ব্যবস্থাপনায় কার্যকর ভূমিকা রাখা। জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজেও এ স্যাটেলাইটকে কাজে লাগানো যাবে। ঝড় বা বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় মোবাইল নেটওয়ার্ক অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। কোন কোন ক্ষেত্রে এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছে দেশের বিভিন্ন এলাকার অধিবাসী। এমন পরিস্থিতিতে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু রাখা সম্ভব হয়ে থাকে। আগামীতে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট থেকে এ ধরনের উপকার মিলবে বলে আশা করা যায়। এছাড়া অদূর ভবিষ্যতে সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলের মানুষের ইন্টারনেট ও ব্যাংকিং সেবা, টেলিমেডিসিন ও দূরনিয়ন্ত্রিত শিক্ষা ব্যবস্থা প্রসারেও ব্যবহার করা হবে এ স্যাটেলাইট- এমনটিই প্রত্যাশা। অর্থাৎ এই স্যাটেলাইট দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এটি সুনিশ্চিত। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ কেবল যে বাংলাদেশের মাথা বিশ্বসভায় উঁচু করে দিয়েছে কিংবা এটি থেকে অনেক অতীব প্রয়োজনীয় সুবিধা প্রাপ্তি নিশ্চিত হবে এমনটি নয়, একই সঙ্গে এই ঐতিহাসিক ঘটনা বিজ্ঞানচেতনায় পিছিয়ে থাকা একটি জাতিকে বিজ্ঞান শিক্ষার আবশ্যকতা বিষয়েও সচেতন করার পথ প্রসারিত করেছে। সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বাংলাদেশের সুনাম সীমানা অতিক্রম করেছে বহুকাল আগেই। আশা করা যায় আগামীতে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও কারিগরি চর্চায়ও দেশ যথেষ্ট উৎকর্ষ সাধনের মাধ্যমে বহির্বিশ্বে প্রশংসিত হবে। স্মরণযোগ্য, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের পর থেকেই বাংলাদেশকে আত্মমর্যাদাশীল, স্বনির্ভর দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৫ সালে বেতবুনিয়া উপগ্রহ ভূ-কেন্দ্র উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের স্যাটেলাইট যোগাযোগের সূচনা হয়। বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রক্রিয়ায় তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব আহমেদ জয়ের উদ্যোগে মহাশূন্যে বাংলাদেশে প্রথম বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

দেশে সব টেলিভিশন চ্যানেলের পরিপূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে এ কথা আবারও উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। জাতির প্রত্যাশা নিজ দেশের স্যাটেলাইটের মাধ্যমে টিভি চ্যানেলগুলোর সম্প্রচার শুরুর এই শুভক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিজ নিজ টিভির অনুষ্ঠান ও সংবাদের মান উন্নয়নের বিষয়টি বিশেষ বিবেচনা করবেন।