জনবল সংকটে ২ বছরেও চালু হয়নি গাজীপুরের ৭টি মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্র

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি :

গাজীপুরের ১০ শয্যা বিশিষ্ট ৭টি মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্র উদ্ভোধনের ২ বছরেও চালু হতে পারেনি। ফলে প্রান্তিক মানুষের চিকিৎসা দেয়ার লক্ষ্যে সরকারের এ উদ্যোগের সুফল পাচ্ছে না কেউ। গত ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে এসব স্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্ভোধন করেছিলেন তৎকালীন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী মো. নাসিম।

গাজীপুর জেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসের তথ্যমতে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রুপকল্প বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মা ও শিশু মৃত্যুর হার কমিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রান্তিক মানুষের মধ্যে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য সারাদেশে মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্র স্থাপন করে সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ। এর অংশ হিসেবে গাজীপুর জেলার কাপাসিয়ায় ৩ টি গাজীপুর সদরে ২টি,টঙ্গীতে ১টি শ্রীপুরে ১টি ১০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল গড়ে উঠে। অত্যাধুনিক এসব হাসপাতালে মা ও শিশুর জটিল অপারেশনের জন্য রয়েছে আধুনিক অপারেশন থিয়েটার, ব্যবস্থা থাকার কথা রয়েছে মা ও শিশুদের জন্য আলাদা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরও। নানা সুবিদাসহ মা ও শিশুদের জন্য গঠিত এসব উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্র উদ্ভোধনের ২ বছরেও চালু করা যায়নি শুধু জনবলের অভাবে। প্রতিটি কেন্দ্রই ব্যবহার না করার কারনে ধুলোবালির স্তর পড়েছে, আর নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে এয়ারকুলার, আলট্রাসনোগ্রাফ্রির মেশিন সহ নানাধরনের দামী যন্ত্রপাতি ও আসবাবের।

জেলার শ্রীপুর উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.জিনাত শারমিন জানান,প্রান্তিক মা ও শিশুদের উন্নত স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার এসব ১০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল গড়ে তুলেন। আশার কথা বর্তমান সরকারের নানামুখী কর্মকান্ডে মা ও শিশুর মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে যাচ্ছে। এসব ১০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালগুলো আমাদের স্বপ্ন দেখিয়েছিল। এসব চালু হলে সরকারের লক্ষ্য খুব সহজেই পূরন হতো। কিন্তুৃ উদ্ভোধনের ২ বছরেও এসব কেন্দ্রগুলোও চালু করা যায়নি। তবে বর্তমানে সীমিত পরিসরে একজন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকার মাধ্যমে মায়েদের সেবা দেয়া হচ্ছে।

একই উপজেলার কর্মরত মেডিকেল অফিসার(মা ও শিশু) মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন,এসব কেন্দ্র গড়ে তোলার অন্যতম উদ্দেশ্যই হচ্ছে ২৪ ঘন্টাব্যাপী মায়েদের প্রসবকালীন সেবা দেয়া। যাতে স্বাভাবিক প্রসবের পাশাপাশি জটিল রোগীদের সিজারিয়ান অপারেশনের ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু সরকার ১০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল গড়ে তুললেও জনবল না দেয়ায় প্রধান কাজ মায়েদের প্রসবকালিন সেবা দেয়া যাচ্ছে না।

পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের গাজীপুর জেলার ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক লাজু শামসাদ হক জানান,গাজীপুরের ১০ শয্যা বিশিষ্ট ৭টি মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্র উদ্ভোধনের ২ বছরেও চালু করা যায়নি জনবলের অভাবে। আমরা বিভিন্ন সময় ধরে এসব কেন্দ্রে জনবল প্রদানের মাধ্যমে পূর্নাঙ্গভাবে চালু করার জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে তাগাদা পত্র দিয়েছি। এসব মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্র চালু না করার কারনে নানা ধরনের সুযোগ সুবিদা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বিভিন্ন এলাকার মা ও শিশুরা। তবে সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত এসব কেন্দ্রগুলো রক্ষনাবেক্ষনের জন্য আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে অফিস সহায়ক, নৈশ প্রহরী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তা ছাড়াও কয়েকটি কেন্দ্রে ভিন্ন স্থানে কর্মরত পরিবার ও পরিকল্পনা পরিদর্শিকা দিয়ে সীমিত পরিসরে মায়েদের সেবা দেয়া হচ্ছে।