শ্রীপুরে যৌতুকের দাবী পূরণ না করায় স্ত্রীর উপর বর্বরতা

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি :

বিয়ে হয়েছে সবে মাত্র ৯ মাস হলো, বিয়ের পর থেকেই শশুরবাড়ীর স্বজনদের কাছে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবী করে আসছে মাদকাসক্ত স্বামী আল-আমিন। কিন্তু শশুরবাড়ির লোকজন হতদরিদ্র বিধায় জামাইয়ের দাবী অনুযায়ী টাকা দিতে পারছিলেন না, এটা মেনে নিতে পারিননি স্বামী। দফায় দফায় শুরু করেন স্ত্রী উপর নির্যাতন। কিন্তু নির্যাতনেও যখন টাকার মুখ দেখা যাচ্ছিল না তখনই শুরু করেন স্ত্রীর উপর বর্বরতা। প্রথমে স্ত্রীকে ঘরের খুটির সাথে বেঁধে হাতে ছুরি নিয়ে জবাইয়ের চেষ্টা চালান,কিন্তু প্রথম দিন ব্যর্থ হয়ে স্বামী আল-আমিন স্ত্রীর পিঠে, মুখে এলোপাথারী ছুরিকাঘাত করে ঘর তালাবদ্ধ করে ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়েন। পরে দ্বিতীয় দিনও আহত স্ত্রীকে ফের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করেন স্বামী আল-আমিন। স্বামীর নির্যাতনে শরীরে ক্ষতস্থান নিয়ে আহত স্ত্রী কান্নাকাটি করলেও চিকিৎসা নিতে বাঁধা দেন বর্বর স্বামী।
এ ঘটনায় স্বামী আল-আমিনকে অভিযুক্ত করে বৃহস্পতিবার দুপুরে শ্রীপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন স্ত্রী শারমিন আক্তার মৌসুমী। অভিযুক্ত আল-আমিন নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলার লতেরকান্দা গ্রামের মতি মিয়ার ছেলে।
আর নির্যাতনের শিকার গৃহবধু ময়মনসিংহ জেলার গৌরিপুর উপজেলার তাতিপাশা গ্রামের মঞ্জুরুল ইসলামের মেয়ে। গত ৯ মাস আগে তাদের উভয়ের বিবাহ হয়, বিবাহের পর থেকে তারা স্বামী ও স্ত্রী গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মুলাইদ গ্রামে ভাড়া থাকতো।
গত মঙ্গলবার ও বুধবার স্বামীর দুই দফা নির্যাতনের পর স্থানীয়দের সহায়তায় গৃহবধুকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেয় তার স্বজনরা।
নির্যাতনের শিকার গৃহবধুর মা মমতাজ আক্তার জানান, তারা হতদরিদ্র দিন আনে দিন খায়, তাদের পক্ষে এত টাকা যৌতুক প্রদান সম্ভব নয়, এ কথা জানানোর পর থেকেই তার মেয়ের উপর নির্যাতন শুরু করে স্বামী আল-আমিন। সারা শরীরে ছুরিকাঘাত করেই ক্ষান্ত হয়নি সে। তার মেয়ে যাতে চিকিৎসা নিতে না পারে সেজন্য ঘরেই আটকে রাখে ২দিন। পরে ক্ষতস্থানের ব্যথায় মৌসুমী চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়দের সহায়তায় তারা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসালয়ে নিয়ে যান। স্বামীর ছুরির আঘাতে এসমসয় মৌসুমীর শরীরে ১২ টি সেলাই দিতে হয়েছে।
তিনি আরো জানান,আল-আমিন একজন মাদকসেবী, এ কথা তারা বিয়ের আগে জানতে পারেননি। বিয়ের পর থেকেই প্রায় সময়েই নেশার টাকার জন্য তার মেয়েকে নির্যাতন শুরু করেন। এনিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার পারিবারিক শালিস হলেও আল-আমিন নিজেকে সংশোধন করতে পারিননি।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লিয়াকত আলী জানান, তদন্তপূর্বক এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।