বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২১
Shadow

জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড : চূড়ান্ত পর্বে বাছাই সেরা ৩০ সংগঠন

নিজস্ব প্রতিবেদক :

জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডের জন্য সেরা ৩০ তরুণদের সংগঠন বাছাই সম্পন্ন হলো। শুক্রবার বিকেলে শেখ হাসিনা যুব উন্নয়ন কেন্দ্রে ‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড ২০১৭’-র প্রথম দিনে ৫০টি মনোনীত প্রতিষ্ঠান থেকে তাদের বাছাই করা হয়েছে। বিগত সাড়ে চার মাসে সারাদেশে ৪৪টি জেলা ও ৩২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অ্যাক্টিভেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে উঠে আসে ১৩০০ আবেদন থেকে বাছাই করে ৫০টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিকে ডাকা হয়েছে এই অনুষ্ঠানে। শনিবার এই ৩০ জন থেকে সেরা ১০ প্রতিষ্ঠানকে বাছাই করা হবে।

ইয়াং বাংলার এই বাছাই প্রক্রিয়ায় ১০০টি প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হয় এবং চূড়ান্ত পর্বের জন্য মনোনীত হয় ৫০টি সংগঠন। ১৯ অক্টোবর বাছাইকৃত ১০০টি সংগঠনের প্রতিটি থেকে দুইজন করে প্রতিনিধি এসেছেন সাভারের শেখ হাসিনা জাতীয় যুব কেন্দ্রে।

২০ অক্টোবর সকালে অনুষ্ঠান উদ্বোধন হয়। বিকালে অনুষ্ঠিত হয় মতবিনিময়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, ইয়াং বাংলার আহ্বায়ক নাহিম রাজ্জাক এবং ইয়াং বাংলা ও সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের কর্মকর্তা ও সদস্যরা।

২১ অক্টোবর বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা জনাব সজীব ওয়াজেদ জয়।
সামাজিক উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক উন্নয়ন এবং ক্রীড়া উন্নয়ন এই তিনটি বিভাগে পুরস্কারপ্রাপ্ত ত্রিশটি সংগঠনের সংরক্ষিত বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:

স্বপ্নদেখো সমাজ কল্যাণ সংস্থা
যশোরের হাশিমপুরে সমাজ গঠনে কৈশোর থেকে কাজ করছেন স্বপ্নদেখো সমাজ কল্যাণ সংস্থার সভাপতি জহির ইকবাল নান্নু। ২০১৩ সালের মার্চ মাসে সমমনা কয়েকজন নিয়ে তিনি শুরু করেন স্বপ্নদেখো’র কার্যক্রম। বর্তমানে ১২০ জন স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে সমাজ গঠনে কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি।
অসহায় প্রতিবন্ধী, ছিন্নমূল নারী-শিশুসহ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করে স্বপ্নদেখো। এ ছাড়াও স্থানীয় পর্যায়ে ধূমপান ও মাদকবিরোধী কার্যক্রমও পরিচালনা করে সংগঠনটি। এর পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি মোকাবেলা, সামাজিক বনায়ন ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে কাজ করে স্বপ্নদেখো।

এখন পর্যন্ত ২১জন প্রতিবন্ধীকে সহায়তার পাশাপাশি ৮৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিতর্ক প্রতিযোগিতাসহ সমাজ সচেতনতামূলক আরো বেশ কিছু কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে স্বপ্নদেখো।

বরিশাল ইয়ুথ সোসাইটি
নারীদের প্রতি সহিংসতা বন্ধের লক্ষ্য নিয়ে ২০১৪ সালে কার্যক্রম শুরু করে বরিশাল ইয়ুথ সোসাইটি। ফয়েজ বেলাল ও তার সমমনা কয়েকজন মিলে শুরু করে এই সংগঠনটির কার্যক্রম। বর্তমানে বরিশাল বিভাগের ৬টি জেলায় সংগঠনটি তার ১০ হাজার সদস্য ও ৮০০ স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধের লক্ষ্য চালু হওয়া এই সংগঠনটি পরবর্তীতে অসহায় নারীদের সহায়তার জন্যও কাজ শুরু করে। তাদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ লাভ করে বর্তমানে ১৯ জন নারী কর্মক্ষেত্রে যোগ দিতে সক্ষম হয়েছে। এই অঞ্চলে এখন পর্যন্ত ২৫৭টি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করেছে বরিশাল ইয়ুথ সোসাইটি। এর পাশাপাশি সহিংসতার শিকার ১০৯ নারীর নিরাপত্তার ব্যবস্থা প্রদান করেছে। নারী শিক্ষা নিয়েও কাজ করছে বরিশাল ইয়ুথ সোসাইটি। তাদের বৃত্তি পেয়ে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে ১৪ জন এসএসসি ও ৭ জন এইচএসসি শিক্ষার্থী।

দুর্বার ফাউন্ডেশন
কুমিল্লা দক্ষিণ সদর এলাকার রেলস্টেশনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা পথশিশুদের আবাসস্থলকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম শুরু করে দুর্বার ফাউন্ডেশন। সমাজের সবচাইতে অবহেলিত এই শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ প্রাথমিক সহায়তা দেয়ার লক্ষ্যে ২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করে দুর্বার ফাউন্ডেশন। মো. আরিফুর রহমান চৌধুরী ও তার বন্ধুরা মিলে প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করে। বর্তমানে সংগঠনটি ১২৫০ জনের বেশি স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে আরো বিস্তর পরিসরে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বর্তমানে কুমিল্লা স্টেশন, কুমিল্লা শহর ও লাকসাম রেলওয়ে জংশনে বসবাস করা পথ শিশুদের ৯০ ভাগ সরাসরি দুর্বার ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে উপকৃত হচ্ছে। তাদের মধ্যে ৯৯ ভাগ শিশু বর্তমানে মাদকদ্রব্য গ্রহণ বন্ধ করেছে। এর পাশাপাশি শিশুদের ভিক্ষাবৃত্তি থেকে মুক্তি দিতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে সংগঠনটি। যার মাধ্যমে বর্তমানে ৭৫ ভাগ শিশু অর্থ আয় করছে। এর পাশাপাশি রোগীদের জন্য রক্ত সরবরাহ, বাল্য বিবাহরোধ ও মাদক মুক্ত সমাজ গঠনে সচেতনতা সৃষ্টিসহ বেশ কিছু সমাজ গঠন মূলক কাজ করে যাচ্ছে দুর্বার ফাউন্ডেশন। বর্তমানে স্থানীয়ভাবে ২টি বিদ্যালয়কে বাল্যবিবাহ মুক্ত হিসেবে ঘোষণা করতে সক্ষম হয়েছে সংগঠনটি। পথশিশু, বাল্যবিবাহ ও মাদকমুক্ত দুর্বার বাংলাদেশ গড়াই সংগঠনটির লক্ষ্য।

কাকতাড়ুয়া
কাকতাড়ুয়ার যাত্রা শুরু ২০১৩ সালে। খলিলুর রহমান ফয়সাল ও তার বন্ধুরা মিলে সামাজিক বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে শুরু করে তাদের কার্যক্রম। ক্যামেরার লেন্সকে ব্যবহার করে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি, বৈষম্যের বাধা ভেঙ্গে সামনে এগিয়ে যাওয়া এবং ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চা কার্যক্রম সিলেট অঞ্চলে পরিচালনা করছে কাকতাড়ুয়া। এরই মধ্যে স্থানীয়ভাবে বেশ পরিচিতি লাভ করেছে সংগঠনটি। সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলতে কিছু শর্ট ফিল্ম ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর ব্যবস্থাও করেছে সংগঠনটি। এ ছাড়াও ক্যামেরার লেন্স ব্যবহার করে আমাদের পৃথিবীকে তরুণদের সামনে ভিন্নরূপে উপস্থাপনের জন্য সভা, সেমিনার ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন কাকতাড়ুয়া। সমাজের সকল বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষাগুলো ক্যামেরার মাধ্যমেই খুঁজে পায় কাকতাড়ুয়া। তাদের লক্ষ্য বসবাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলা।

আই পজিটিভ
২০১১ সালে ঠাকুরগাঁওয়ে পথ চলা শুরু করে আই পজিটিভ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমাজ গঠনের ইচ্ছা থেকে মো. শফিক পারভেজ ও তার পরিচিত কয়েকজন মিলে এই সংগঠনের কার্যক্রম শুরু করেন। শিশু-কিশোর ও তরুণ-যুবাদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, চেতনা, বিশ্বাস ও ভিত্তি ছড়িয়ে দেয়া তাদের মূল কাজ। শফিক পারভেজ বিশ্বাস করেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বুকে ধারণের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিনির্মাণে অনুপ্রেরণা খুঁজে পাবে দেশের তরুণ সমাজ। আর সে কারণেই তার সংগঠন মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শন, মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক বিভিন্ন বিষয়ে নিয়ে মুক্ত আলোচনা, প্রতিযোগিতা ও সেমিনার আয়োজন করে। এর পাশাপাশি আইসিটি বিষয়ক প্রশিক্ষণ, ক্যারিয়ার প্লান বিষয়ক সেমিনার, মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ ও পরামর্শ প্রদানসহ দরিদ্র শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করে আসছে আই পজিটিভ। এ ছাড়াও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনেও সেমিনারের আয়োজন করে সংগঠনটি। নতুন প্রজন্মের মাঝে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি, নৈতিক মূল্যবোধ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সম্পন্ন করে গড়ে তোলা আই পজিটিভের লক্ষ্য।

জুমফুল থিয়েটার, রাঙ্গামাটি
রাঙ্গামাটিতে নতুন প্রজন্মের মাঝে সাংস্কৃতিক বিকাশ ঘটানোর ইচ্ছা থেকে ২০১৫ সালে জুমফুল থিয়েটার গঠন করেন নিরুপম চাকমা। বর্তমানে এর সদস্য সংখ্যা ২৫০ জন। প্রতি সপ্তাহে নাটক মঞ্চস্থ, গান ও নাচের আয়োজন করে এই সংগঠনটি। তাদের লক্ষ্য কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নতুন নতুন সাংস্কৃতিক কর্মী সৃষ্টি। নিয়মিত সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে তরুণ ও যুবাদের মাদক ও জঙ্গিবাদ থেকে দূরে রাখতে কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি। সংগঠনটির মঞ্চ নাটক বর্তমানে বেতারে নিয়মিত ভিত্তিতে প্রচারিত হচ্ছে। শিশু-কিশোর ও তরুণদের জন্য সাংস্কৃতিক বিভিন্ন প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করে সংগঠনটি।

থিয়েটার মুরারি চাঁদ, সিলেট
সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মাধ্যমে সমাজের উন্নয়নে বিশ্বাস করে থিয়েটার মুরারি চাঁদ। গোলাম মাহদীর নেতৃত্বে ২০১৩ সালে সংগঠনটি যাত্রা শুরু করে যার বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১৭৫ জন। সংগঠনটি সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মাধ্যমে সিলেট কেসি কলেজের অডিটোরিয়াম সংস্কার ও শহীদ মিনার সংস্কারে অবদান রেখেছে। এখনো সংগঠনটির প্রযোজনায় ১২টি পথ নাটকসহ ১৮টির বেশি নাটক সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মঞ্চস্থ হচ্ছে। সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি।

চৌপাশ নাট্যাঞ্চল, বগুড়া
শিল্পচর্চার মাধ্যমে সমাজে গণ সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে ২০১৩ সালে যাত্রা শুরু করে চৌপাশ নাট্যাঞ্চল। রাজা ফকিরের নেতৃত্বে বর্তমানে সংগঠনটির মূল কার্যক্রমে সংযুক্ত আছে ২৩ জন। পথ নাটকসহ বিভিন্ন স্থানে নাটক মঞ্চস্থ করে তারা জন সচেতনতা সৃষ্টি করে। গড়ে প্রতি মাসে একটি করে নাটক মঞ্চস্থ করে সংগঠনটি। এর মধ্যে তাদের পথ নাটক ৮টি এবং মঞ্চস্থ করার মত বড় নাটক ৬টি বগুড়াসহ আরো বিভিন্ন স্থানে প্রদর্শন করা হয়েছে। এর মধ্যে তাদের মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক পথ নাটক উইপোকা প্রদর্শন করা হয়েছে মোট ৯ বার। এ ছাড়াও সংগঠনটি বিশেষ দিবসগুলোতে নাটক মঞ্চস্থ করে। স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, মাতৃভাষা দিবস, নববর্ষ, জাতীয় শোক দিবস ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম দিবসে নাটক মঞ্চস্থ করে সংগঠনটি।

রাঙ্গাটুঙ্গি ইউনাইটেড উইমেন ফুটবল একাডেমি, রংপুর
সুবিধাবঞ্চিত ও গ্রামে অবহেলিত মেয়েদের ফুটবল খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ২০১৪ সালে রাঙ্গাটুঙ্গি ইউনাইটেড উইমেন ফুটবল একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন হান্না হেমরম। ২৩ সদস্যের এই নারী ফুটবল ক্লাবটি নিবিড় প্রশিক্ষণ ও টুর্নামেন্ট আয়োজনের মাধ্যমে নিজেদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। জাতীয় দলে এই একাডেমি থেকে আদুরি খেলার সুযোগ লাভ করেছেন যা গ্রামের অন্য মেয়েদেরও এগিয়ে আসতে সাহস যোগাচ্ছে। নারীর ক্ষমতায়ন ও আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিতে এই অঞ্চলে বড় ভূমিকা পালন করছে ক্লাবটি।

হুইল চেয়ার ক্রিকেট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ডব্লিউসিডব্লিউএবি), গাজীপুর
পঙ্গু হওয়া বা পঙ্গুত্ব নিয়ে জন্মানো কিশোর-তরুণ-যুবাদের জন্য ২০১৫ সালে হুইল চেয়ার ক্রিকেট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ডব্লিউসিডব্লিউএবি)-এর কার্যক্রম শুরু করে মো. মহসিন। বর্তমানে এই সংগঠনটির সদস্য ১৫০ জন। এই স্বেচ্ছাসেবকেরা জেলা পর্যায়ে গিয়ে বিভিন্ন টুর্নামেন্টের আয়োজন করে। সেখানে ক্রীড়া উপকরণ ও টেকনিক্যাল সহায়তা প্রদান করা হয় এবং পঙ্গুদের মধ্যে ক্রিকেটে পারদর্শী খেলোয়াড়দের বাছাই করে নিয়ে আসা হয়। পরবর্তীতে সংগঠনের পক্ষ থেকে তাদের প্রশিক্ষণ ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে উন্নয়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

মডেল লাইফ স্টোক এডভান্সমেন্ট ফাউন্ডেশন, ঢাকা
পশু-পাখি পালনের মাধ্যমে বেকারত্ব দূরীকরণ সম্ভব। এই পশুপাখি পালনের ক্ষেত্রে সবচাইতে বড় বাঁধা তাদের অসুখ ও অপর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা। আর সে কারণেই নারী-পুরুষকে আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে মডেল লাইফ স্টোক এডভান্সমেন্ট ফাউন্ডেশন। ২০১৫ সালে এই সংগঠনটি চালু করেন ডা. সালমা সুলতান। এরপর থেকে পশু-পাখি পালন, রোগ নিরাময়ে চিকিৎসা, রোগ সনাক্তকরণসহ এমন বিভিন্ন বিষয়ে ১ বছর মেয়াদী প্রশিক্ষণ প্রদান করে চলেছে মডেল লাইফ স্টোক এডভান্সমেন্ট ফাউন্ডেশন। প্রতিষ্ঠানটি আশা করে, তাদের এই কার্যক্রম দরিদ্রতা ও বেকারমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে সংগঠনটির মোট সদস্য ৩৭৫ জন।

জাগরণ ক্লাব, সাতক্ষীরা
সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি লক্ষ্য ২০১২ সালে সাতক্ষীরা কার্যক্রম শুরু করে জাগরণ ক্লাব। বিগত বছরগুলোতে এই ক্লাবের উদ্যোগে ৫০টির বেশি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করে শিক্ষার্থীদের নিজ স্কুলে ফেরত যাওয়ার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও রক্তদান কর্মসূচী, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহায়তা ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করে সংগঠনটি। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নতুন প্রজন্মকে সংযুক্ত করতেও কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি।

মানব কল্যাণকামী অনাথআলয়, নেত্রকোনা
সমাজে পিছিয়ে পড়া সকল শিশুর শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১৯৯৬ সালে যাত্রা শুরু করে মানব কল্যাণকামী অনাথআলয়। বর্তমানে এই সংগঠনটির মোট সদস্য ১২৫ জন। বিগত ২০ বছর যাবৎ অনাথ ও এতিম শিশুদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে সংগঠনটি। বর্তমানে সংগঠনটির ছায়ার বড় হয়ে উঠছে ১১২ জন অনাথ শিশু। তাদের শিক্ষার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে সংগঠনটির মাধ্যমে।

উত্তরণ বাংলাদেশ, মৌলভীবাজার
চা বাগানের সঙ্গে জড়িত পিছিয়ে পড়া মৌলভীবাজারের বিশেষ একটি জনগোষ্ঠীর উন্নয়নকল্পে ২০১৩ সালে উত্তরণের কার্যক্রম শুরু করেন অনুময় বর্মা। এই অঞ্চলের মেধাবী শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার মানোন্নয়ন ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে ‘ইন্টার টি গার্ডেন অলিম্পিয়াড’ আয়োজন করে সংগঠনটি। সেই সঙ্গে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের স্কুলে ভর্তি, শিক্ষা পরামর্শ প্রদান ও বাল্য বিবাহ রোধে কাজ করে উত্তরণ। সংগঠনটির কার্যক্রমের মাধ্যমে এরই মধ্যে উক্ত অঞ্চলে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার হ্রাস পেয়েছে। জাতীয় পরীক্ষাগুলোতে ভালো ফলাফল করছে স্থানীয় শিক্ষার্থীরা। সেই সঙ্গে মৌলভীবাজারের এই পিছিয়ে থাকা অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের বেশ কয়েকজন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সুযোগ পেয়েছে।

সাপোর্টিং পিউপাল অ্যান্ড রিবিল্ডিং কমিউনিটিস (এসপিএআরসি), রাঙ্গামাটি
নারীর প্রতি সহিংসতা দূর করার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে ২০১৩ সালে যাত্রা শুরু করে সাপোর্টিং পিউপাল অ্যান্ড রিবিল্ডিং কমিউনিটিস (এসপিএআরসি)। বর্তমানে ৫০ জন সদস্য সংগঠনটির। নারী ক্ষমতায়ন, নারী অধিকার, শিশু অধিকারসহ আরো বেশ কিছু বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি।

ওয়াকর্স ফর হিউম্যানিটি, ঢাকা
সকলের শিক্ষা এবং কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে ‘ওয়াকর্স ফর হিউম্যানিটি’। শিক্ষা সহায়তার অংশ হিসেবে অবহেলিত বা দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ ও অর্থনৈতিক সহায়তা প্রদান করে সংগঠনটি। এর পাশাপাশি প্রান্তিক অঞ্চলের প্রতিবন্ধী ও স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের কাছে গল্পের বই পৌঁছে দিতে সংগঠনটির আছে বই বাড়ি লাইব্রেরি। এ ছাড়াও বিনামূল্যে রক্ত সংগ্রহ ও সরবরাহের কাজ করে সংগঠনটি।

শিশু বিকাশ, নওগাঁ
সেচ্ছাসেবীমূলক শিশু সংগঠন হিসেবে ২০১০ সালে ২০ জনকে নিয়ে যাত্রা শুরু করে শিশু বিকাশ। বর্তমানে সংগঠনটির সদস্য সংখ্যা ২০০ জন। সংগঠনটি তার সদস্যদের অর্থায়নে ২০১১ সালে ৪২ শিশুকে অক্ষরজ্ঞান দান এবং ১২ জন শিশুকে স্কুলে প্রেরণ করতে সক্ষম হয়। এই ১২ জনের মান সম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে প্রতি মাসে শিক্ষা উপকরণের ব্যবস্থা করে সংগঠনের সদস্যরা। এই উদ্যোগের নাম দেয়া হয়েছে ‘প্রজেক্ট খাতা-কল’ যার মাধ্যমে অনুপ্রেরণা পেয়ে নিজ সন্তানদের শিক্ষার বিষয়ে উৎসাহিত হয়েছে অভিভাবকগণ।

মানব কল্যাণ ইউনিট, খুলনা
পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় উপকূলীয় অঞ্চলে যেই ক্ষতি হয়েছে তা নিয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি এক ইচ্ছা থেকে ২০০৮ সালে মানব কল্যাণ ইউনিট গঠন করেন মো. আল আমিন ফরহাদ। সংগঠনটির উদ্যোগে ২ কিলোমিটারের বেশি এলাকায় কৃত্রিম সুন্দরবন সৃষ্টি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৪০০ এতিম শিক্ষার্থীকে অর্থ ও শিক্ষা উপকরণ সহায়তা করে আসছে সংগঠনটি। এ ছাড়াও ৪ জন প্রতিবন্ধীদের সার্বিক ব্যয়ভার বহন করছে সংগঠনটি। অত্র অঞ্চলে রোগীদের রক্তের চাহিদা পূরণে ৭১২ জনের একটি ডোনার টিম রয়েছে সংগঠনটির। এই সংখ্যা আরো বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনের সদস্যরা।

স্বাধীন, দিনাজপুর
‘টু ডু গুড ইজ আওয়ার রিলিজিওন’ এই স্লোগান নিয়ে ২০০৯ সাল থেকে দিনাজপুর অঞ্চলে কাজ করে যাচ্ছে ‘স্বাধীন’। সংগঠনটির মোট সদস্য ২৫০ জনের বেশি। ২০১০, ২০১৩ ও ২০১৪ সালে সেরা রক্তদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে রেড ক্রিসেন্ট ব্লাড ব্যাংক পুরষ্কার লাভ করে সংগঠনটি। তাদের অধিকাংশ সদস্য স্কুল ও কলেজ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।

প্রত্যয়, সিলেট
সিলেটে অবহেলিত চা শ্রমিক এবং স্থানীয় অসহায় দরিদ্রদের নিয়ে ও তাদের সন্তানদের নিয়ে কাজ ২০১৬ সাল থেকে কাজ করছে ‘প্রত্যয়’ মানবসেবা মূলক সংগঠন। মো. মিফতা আহমেদ রিটনের পরিচালনায় বর্তমানে ৫৫ জন স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে সমাজ সচেতনতামূলক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে সংগঠনটি। তাদের চালু করা ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প থেকে ২০০ জন দরিদ্র রোগীকে সেবা প্রদান করা হয়। এর পাশাপাশি স্থানীয় ঝড়ে পড়া স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্যও কাজ করছে সংগঠনটি। সিলেটের এই অঞ্চলকে মাদকমুক্ত করতে, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে এবং সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দূরীকরণে বেশ কিছু ক্যাম্পেইন পরিচালনা করছে তারা।

ব্রেইভ, চাঁদপুর
চাঁদপুরের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মাঝে ডিজিটাল বাংলাদেশের বিকাশ ও শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্য ২০১৩ সাল থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করছে ‘বি রিলেটেড টু অডিও ভিজুয়াল এডুকেশন (ব্রেইভ)। বর্তমানে চাঁদপুর ও এর আশেপাশের এলাকার স্কুল কলেজগুলোর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সংগঠনটির পক্ষ থেকে অডিও ভিজুয়াল ও আইসিটি প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি এ সকল শিক্ষার্থীদের ফ্রিল্যান্সিং কাজ শিখিয়ে আয়ের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে ব্রেইভ। ‘আমরা দরিদ্র নই, আমরা কর্মদক্ষ’ এমন চেতনা নিয়ে দেশ গঠনে কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি। এই সংগঠনের মাধ্যমে ১ হাজারের বেশি তরুণ আইসিটি খাতে প্রশিক্ষণ লাভ করেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে চায় ব্রেইভ।

আমার স্কুল, গাইবান্ধা
গাইবান্ধায় হরিজন জনগোষ্ঠীর মাঝে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের স্কুল মুখী করতে এবং সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ২০১৪ সালে ‘আমার স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করে রাজেশ বাসফোড়। ৯ জন স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের স্কুল মুখী করাসহ বাল্যবিবাহ রোধ এবং হরিজন জনগোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক ও সাংস্কৃতিক কার্যাবলীর মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করে যাচ্ছে ‘আমার স্কুল’। এখন পর্যন্ত ২৭ জনের বেশি ঝরে পড়া শিক্ষার্থীকে শিক্ষা ও অর্থ সহায়তা দিয়ে স্কুল মুখী করেছে সংগঠনটি। পিছিয়ে থাকা হরিজন গোষ্ঠীকে মূলধারায় ফিরিয়ে নিয়ে আসা সংগঠনটির মূল লক্ষ্য।

ইচ্ছে পূরণ, সিলেট
‘পথ শিশু’ ধারণাটি এই দেশের বুক থেকে মুছে ফেলার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে ২০১৪ সালে শুরু হয় ইচ্ছে পূরণ সামাজিক সংগঠনের কার্যক্রম। রুমা আক্তারের নেতৃত্বে শুরু থেকেই সিলেট রেল স্টেশন ও তার আশেপাশে থাকা সুবিধা বঞ্চিত পথশিশু ও নারীর শিক্ষা ও নিরাপদে থাকার অধিকার নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে ইচ্ছে পূরণ। এই সুবিধা বঞ্চিতদের শিক্ষা পাবার ইচ্ছে পূরণে সংগঠনটি স্টেশনে স্থাপন করেছে ভ্রাম্যমাণ স্কুল। এ ছাড়াও বয়স্ক নারী শিক্ষার ব্যবস্থা, হতদরিদ্রদের মাঝে শীতবস্ত্র, ইফতার ও খাদ্য বিতরণ, স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি পালনসহ বিভিন্ন বিষয়ে সেমিনার আয়োজন ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে সংগঠনটি। পথশিশুদের অধিকার রক্ষা ও নারী ক্ষমতায়ন নিশ্চিতে কাজ করে যেতে দৃঢ় প্রত্যয়ী ‘ইচ্ছে পূরণ’।

কল্লোল ফাউন্ডেশন
নাটোর সমাজকল্যাণমূলক সংস্থা হিসেবে ২০১২ সালে নাটোরের গুরুদাসপুরে কার্যক্রম শুরু করে কল্লোল ফাউন্ডেশন। ৩৯ সদস্য বিশিষ্ট এই সংগঠন জেলার নির্দিষ্ট অঞ্চলে অসহায়, দুস্থ ও দরিদ্রদের তালিকা তৈরি করে এবং তাদের সঙ্গে নির্দিষ্ট দিনে বৈঠকের আয়োজন করে। সেখানে সন্তানদের স্কুলে প্রেরণের গুরুত্ব, বাল্য বিবাহ রোধ, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, জলবায়ু পরিবর্তন ও করণীয়, সামাজিক বনায়নসহ এমন আরো বিবিধ বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এই সমস্যাগুলো থেকে সমাজকে দূরে রাখার সুবিধা, কার্যকর উপায় ও সমাজ গঠনে সম্মেলিত ভূমিকা সম্পর্কে এখানে সকলকে জানানো হয়।

পতেঙ্গা প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংগঠন, চট্টগ্রাম
মো. সেলিমের নেতৃত্ব ২০০৯ সাল থেকে নিজ এলাকার প্রতিবন্ধীদের সক্ষম করে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে পতেঙ্গা প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংগঠন। পতেঙ্গা এলাকায় প্রাথমিক জরিপের মাধ্যমে প্রতিবন্ধীদের চিহ্নিত করার পর তাদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, শিক্ষার জন্য উৎসাহ প্রদান, অসহায় ও দরিদ্র প্রতিবন্ধীদের আর্থিক সাহায্য ও বৃত্তি প্রদান এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ চিকিৎসা প্রদানের জন্য কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি। এখন পর্যন্ত আমরা সহায়তা প্রদান করেছি পতেঙ্গা এলাকার ১০০ জনের বেশি প্রতিবন্ধী ও তাদের পরিবারকে। আমাদের লক্ষ্য সকল প্রতিবন্ধীদের কর্মক্ষম করে গড়ে তোলা এবং তাদের কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করা।

কথন সাংস্কৃতিক সংসদ (কসাস), ঝিনাইদহ
২০২৫ সালের মধ্যে ঝিনাইদহকে দেশের সংস্কৃতি চর্চার প্রধান নগরীতে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে কথক সাংস্কৃতিক সংসদ (কসাস)। ২০০৮ সালে যাত্রাশুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৯৫ জন সদস্যকে নিয়ে চলছে সংগঠনটির সাংস্কৃতিক আন্দোলন। সংগঠনটির বর্তমান প্রধান হিসেবে আছেন উম্মে সায়মা জয়া। ঝিনাইদহের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি মুক্তভাবেও আবৃত্তি, নাচ, গান ও বিতর্ক কর্মশালা এবং প্রতিযোগিতার আয়োজন করে কসাস। এ ছাড়াও জাতীয় ও আঞ্চলিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় স্থানীয় শিশু-কিশোর ও তরুণদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও সহায়তা প্রদান করে সংগঠনটি। সংগঠনের এই মূল আন্দোলনের পাশাপাশি উদ্যোক্তা তৈরি, মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও সম্মাননা প্রদান, সকল জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপনসহ সমাজ সচেতনতা মূলক বিবিধ কার্যক্রম করে চলেছে সংগঠনটি। ঝিনাইদহ সরকারি কেসি কলেজে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জাতীয় দিবসগুলো উদযাপনের পাশাপাশি মাস ব্যাপী একুশে বইমেলার আয়োজন করা হয়।

মুক্ত সাংস্কৃতিক সংঘ, পঞ্চগড়
পঞ্চগড় বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড় থেকে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মাধ্যমে বাল্য বিবাহ, যৌতুক ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে মো. রিজওয়ান চৌধুরী প্রিন্সে। র সংগঠন মুক্ত সাংস্কৃতিক সংঘ। ২০১১ সালে যাত্রা শুরু পর থেকে নিজ জেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে সেখানকার সমস্যা চিহ্নিত করণ ও তা সমাধানে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে নাটিকা প্রদর্শন ও নাচ-গানের আয়োজন করে আসছে মুক্ত সাংস্কৃতিক সংঘ। এখন পর্যন্ত সংগঠনের সচেতনতা কার্যক্রমে অনুপ্রেরণীত হয়ে ২৩টি বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়াও স্কুল কলেজে গিয়ে সভা ও সাংস্কৃতিক কাজের মাধ্যমে সামাজিক শিক্ষা দেয়ার কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি। পঞ্চগড় উপজেলায় অবস্থিত অধিকাংশ স্কুলে এই সচেতনতা মূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে সংগঠনটি। সেই সঙ্গে গান, অভিনয়, নাচ ইত্যাদি শেখার ক্ষেত্রেও সহায়তা করে মুক্ত সাংস্কৃতিক সংঘ। সম্প্রতি ভারতের আগ্রায় আন্তর্জাতিক নাট্য উৎসবে ১২ সদস্যের একটি দল নিয়ে নাটক প্রদর্শন করে এই সংগঠনের অভিনেতারা। সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে সমাজকে সচেতন করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে মুক্ত সাংস্কৃতিক সংঘ।

ইনোভেটর বইপড়া উৎসব, সিলেট
দেশের নতুন প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাসের শিক্ষা দেয়া, বই পড়ার অভ্যাস তৈরি এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিকশিত করার লক্ষ্য নিয়ে ২০০৬ সালে শুরু হয় ইনোভেটর বইপড়া উৎসব। অক্টোবর নভেম্বর মাসে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে প্রতি বছর ডিসেম্বরে বিজয়ের মাসে তরুণদের মধ্যে বই বিতরণ করা হয় এবং তা পাঠ শেষে ভাষার মাস ফেব্রুয়ারিতে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। মার্চ মাসে আরেকটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। যাত্রা শুরুর পর থেকে প্রতি বছর স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ১০০০ থেকে ১২০০ জনকে নিয়ে এই কার্যক্রম পরিচালনা করি আমরা।

কুইজার্ড
দেশের তরুণদের জ্ঞান পিপাসু করে তোলার লক্ষ্যে ২০১৪ সালে খন্দকার মাহফুজ সালেহিন প্রতিষ্ঠা করেন কুইজার্ড। বর্তমানে তাদের সঙ্গে দৈনিক সম্পর্ক রাখে ১০০০ থেকে ১৫০০ মানুষ। কুইজার্ডের মাধ্যমে প্রকাশিত কুইজ, আর্টিকেল বেশ ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কুইজার্ডের উদ্যোক্তাদের কাছে জয় বাংলা একটি চেতনা। যা তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে কাজ করে যাচ্ছে কুইজার্ড।

শ্যামনগর ফুটবল একাডেমী, সাতক্ষীরা
মো. আক্তার হোসেনের নেতৃত্ব বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ উপজেলা শ্যামনগরে ২০০৮ সাল থেকে চলছে ক্রীড়া শিক্ষা কার্যক্রম যার সাংগঠনিক নাম শ্যামনগর ফুটবল একাডেমী। বর্তমানে ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে একাডেমির মোট সদস্য সংখ্যা ১৭০ জনের বেশি। মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, সুস্থ বিনোদন ও জাতীয় মানের খেলোয়াড় তৈরির লক্ষ্য নিয়ে এই একাডেমি গঠন করা হয়। এখানে নিয়মিত খেলা চর্চার পাশাপাশি বিভিন্ন গ্রাম ও ইউনিয়নে টুর্নামেন্টের মাধ্যমে খেলোয়াড় বাছাই করা হয়। প্রতি মাসে শুধু ফুটবল নয়, তার পাশাপাশি ভলিবল খেলারও আয়োজন করে এই একাডেমি। বর্তমানে এই ক্রীড়া একাডেমি থেকে ২ জন খেলোয়াড় অনুর্ধ্ব-১৬ বাংলাদেশ জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পেয়েছে। বিকেএসপিতে প্রেরণ করা হয়েছে এলাকার আরো ৬ জন খেলোয়াড়কে। এ ছাড়াও সামসুল হুদা ফুটবল একাডেমিতে ২ জন এবং কলকাতার মোহন বাগান ফুটবল একাডেমিতে খেলার সুযোগ পেয়েছে এই একাডেমির একজন সদস্য। শক্তিশালী জাতীয় দল পাওয়ার লক্ষ্যে খেলোয়াড় তৈরি এই একাডেমি প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published.