রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৮
Shadow

ঢাবিতে ‘ঘ’ ইউনিটের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ছাত্রলীগ নেতাসহ আটক ১৫

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ‘ঘ’ ইউনিটের পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষার আগের দিন বৃহস্পতিবার রাতে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্ন ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ফাঁস হওয়া সেই প্রশ্নেই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে ছাত্রলীগ নেতাসহ মোট ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী মেইলে ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নের ইংরেজি অংশটি পায়। যেখানে ২৪টি প্রশ্ন ছিল। পরের দিন শুক্রবার যে প্রশ্নে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় সেখানকার ইংরেজি অংশটির সঙ্গে এই প্রশ্নগুলো হুবহু মিলে যায়।

এছাড়া ঐ রাতে পিএসসি-জেএসসি-এসএসসি এক্সাম কোয়েশ্চন নামক একটি ফেসবুক গ্রুপে ঢাবি ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার একটি প্রশ্ন আপলোড করা হয়। যেখানে বাংলা অংশের প্রশ্নগুলোর সঙ্গে ভর্তি পরীক্ষায় আসা প্রশ্নগুলোরও হুবহু মিল রয়েছে। ফাঁস হওয়া এসব প্রশ্ন ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভর্তি পরীক্ষার আগে বিভিন্ন কেন্দ্রের সামনে ভর্তিচ্ছুদের এসব প্রশ্ন সমাধান করতেও দেখা গেছে। এছাড়া টাকার বিনিময়ে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন বিক্রি হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়ে ‘ঘ’ ইউনিট ভর্তি পরীক্ষার সমন্বয়কারী ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম বলেন, এ ধরণের প্রশ্নের কোনো ভিত্তি নেই। আমি প্রশ্নপত্র দেখিওনি, জানিও না। প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো খবর আমার কাছে নেই।

তথ্য প্রমাণ পাইলে কি ব্যবস্থা নেয়া হবে এর জবাবে তিনি বলেন, সেটা তদন্ত করে দেখতে হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. এম আমজাদ আলী বলেন, এটি ভুয়া একটি খবর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্ন ফাঁসের কোনো সুযোগ নেই।

এদিকে ‘ঘ’ ইউনিটের এই ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে জালিয়াত চক্রের তিন হোতাসহ মোট ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন ছাত্রলীগ নেতাও রয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত মোট ৮৬ টি কেন্দ্রের ১ হাজার ৭৬৯ টি কক্ষে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

আটককৃত ১৫ জনের মধ্যে ১৪ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইজন শিক্ষার্থী রয়েছে। যারা জালিয়াত চক্রের অন্যতম হোতা। ক-ইউনিট ভর্তি পরীক্ষার আগ থেকে তাদের খুঁজছিল সিআইডি। এরা হলেন- পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক মহিউদ্দিন রানা এবং ফলিত রসায়ন বিভাগের আব্দুল্লাহ আল মামুন।

বাকি ১২ ভর্তিচ্ছু হলেন- নুর মোহাম্মাদ মাহবুব, ফরহাদুল আলম রানা, ইশরাক হোসেন রাফি, আব্দুল্লাহ আল মুকিম, রিশাদ কবির, আসাদুজ্জামান মিনারুল, ইশতিয়াক আহমেদ, জয় কুমার সাহা, রেজওয়ানা শেখ শোভা, মাশুকা নাসরীন, তারিকুল ইসলাম এবং নাসিরুল হক নাহিদ।

আটককৃতদের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. এম আমজাদ আলী বলেন, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জালিয়াত চক্রের হোতাদের ধরতে আগে থেকেই কাজ করছিল। তারই সূত্র ধরে জালিয়াত চক্রের তিন হোতাকে কার্জন হল এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। তাদেরকে অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) হস্তান্তর করা হয়েছে। পরবর্তীতে এ বিষয়ে তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

উল্লেখ্য, ঘ-ইউনিটে ১ হাজার ৬১০টি (বিজ্ঞানে- ১১৪৭টি, বিজনেস স্টাডিজে- ৪১০, মানবিকে- ৫৩টি) আসনের বিপরীতে মোট ৯৮ হাজার ৫৪জন ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। সেই হিসেবে প্রতি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছে ৬১ জন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.