অরাজনৈতিক প্রেসিডেন্ট পাচ্ছে তিউনিসিয়ার জনগণ

প্রাইম আন্তর্জাতিক :
তিউনিসিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম পর্বের ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। প্রথম পর্ব শেষে এগিয়ে আছেন রাজনীতির বাইরের দুজন। এদের একজন কাইজ সাঈদ। পেশায় তিনি আইনের শিক্ষক। অন্যজন মিডিয়া মুঘল নাবিল কারুই। তিনি অবশ্য বর্তমানে দুর্নীতির দায়ে রিমান্ডে আছেন। এখন তাদের দুজনের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

তিউনিসিয়ায় একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে যাওয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে।

আরব বসন্তের সূতিকাগার তিউনিসিয়ায় দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসক জয়নাল আবেদীন বেন আলীর বিদায়ের পর এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো অবাধ ও নিরেপেক্ষ নির্বাচন হচ্ছে দেশটিতে। নির্বাচনে লড়ছেন মোট ২৬ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে দুজন নারী প্রার্থীও রয়েছেন।

তবে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় উভয়কেই দ্বিতীয় পর্বের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। প্রথম পর্ব শেষে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাঈদ পেয়েছেন ১৯.৫ শতাংশ ভোট। কারুই পেয়েছেন ১৫.৫ শতাংশ ভোট।

অপরদিকে, দেশের প্রধান দুই দলের মধ্যে ইসলামপন্থি এন্নাহাদা দলের প্রার্থী আবদেল ফাতাহ মুরু ১১ শতাংশ ভোট পেয়ে আছেন তিন নম্বরে। এদিকে রাজনীতির বাইরের দুজনের এগিয়ে থাকাকে অনেকেই দেখছেন আরেকটি রাজনৈতিক বিপ্লব হিসেবে।

২০১৪ সালে প্রথমবারের মতো গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন বেজি সাইদ এসেবসি। প্রায় পাঁচ বছরের শাসনামলে তিনি দেশটিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার উপর জোর দিয়েছিলেন। তবে মেয়াদ পূর্তির আগেই তিনি মারা যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের তিন মাস আগেই নির্বাচন শুরু হয় তিউনিসিয়ায়। কিন্তু তার শাসনামলেও নেতারা নিজেদের আখের গোছানোয় ব্যস্ত ছিলেন বলে অভিযোগ করেন অনেকে।

৫২ বছরের লুফতি জালাসি বলেন, ‘গত আট বছরে আমরা যত নেতা দেখেছি, সবাই নিজেদের ক্ষমতা ধরে রাখতে ব্যস্ত ছিলো। জনগণের ভালমন্দের দিকে তাদের দৃষ্টি খুব কমই ছিলো।’

নাবিল কারুইয়ের একজন মুখপাত্র নির্বাচনের ফল নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘আজ তিউনিসিয়ানরা নিজেদের মত প্রকাশ করেছেন। তারা জানিয়ে দিয়েছেন, তারা সিস্টেমে পরিবর্তন চান। নাবিল কারুই দ্বিতীয় পর্বে যাচ্ছেন এবং তিনি জিতবেন।’

আরেকজন জয়প্রত্যাশী সাঈদ রেডিও মোজাইককে বলেন, ‘আমার এই জয়ে নতুন দায়িত্ব বর্তালো আমার উপর। আশা করি আমি নিজের দায়িত্ব ঠিকমত পালন করতে পারবো। এ ভোটের মাধ্যমে তিউনিশিয়ায় নতুন যুগের সূচনা হলো।’

নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রায় ৭০ হাজার পুলিশের সাথে অতিরিক্ত ৩০ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে দেশটির সরকার।