কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজার মধ্য দিয়ে পাঁচদিনব্যাপী উৎসবের শুরু

প্রাইম ডেস্ক :
শরতকালে অবতার শ্রী রামচন্দ্র দেবীকে আহ্বান করেছিলেন বলে বাঙালী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘শারদীয় দুর্গাপুজো’ নামে পরিচিত। উৎসবকে অকাল বোধনও বলা হয়। কারণ শ্রীরামচন্দ্র অকালেই দুর্গাকে ডেকেছিলেন। প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এক বছর পর পর অসুরশক্তি বিনাশকারী দেবী দুর্গা আসেন বাবার বাড়িতে। এসেই অবস্থান নেন বেলগাছে। বৃহস্পতিবার বোধনের মধ্যদিয়ে তাকে আহ্বান করা হয়। তারপর অধিবাস। মহাসপ্তমীর সকালে নবপত্রিকা স্থাপনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে পুজোর আয়োজন।

নিয়ম অনুযায়ি নবরাত্রির ষষ্ঠ দিন সকালে মহাষষ্ঠী তিথিতে কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা এরপর সয়ংকালে দুর্গাদেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে বাঙালির শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। আজ মহাসপ্তমী। শুক্রবার সকাল থেকেই ম-পে ম-পে ঢাকে কাঠি পড়েছে। বেজে ওঠেছে শঙ্খ। সন্ধ্যার পর রাজধানী ঢাকা সহ সব পূজামন্ডপে ভক্তদের রীতিমতো ঢল নামে। অর্থাত প্রতীমা দর্শন শুরু। শারদীয় উৎসবের বর্ণিল আয়োজনে মতোয়ারা সবাই। রাজধানীর বড় বড় সবকটি পূজা ম-পে দুর্গাষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত নানা অনুষ্ঠানের মহা সমারোহ।

প-িতরা জানিয়েছেন, আজ শনিবার সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটের মধ্যে দূর্গাদেবীর নব পত্রিকা প্রবেশ ও স্থাপন, সপ্তম্যাদি কল্পপারম্ভ ও মহাসপ্তমী বিহিত পূজা। ৬ অক্টোবর মহাঅষ্টমী ও সন্ধিপূজা। এদিন সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো কুমারী পূজা। রাজধানীর রামকৃষ্ণ মিশনে প্রতি বছরের মতো এবারও কুমারী পূজার আয়োজন করা হয়েছে। সাত অক্টোবর মহানবমী। আট অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে পাঁচদিনব্যাপী উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে। এদিন বিকাল তিনটায় ঢাকেশ^রী জাতীয় মন্দির থেকে বিজয়া শোভাযাত্রা বের হবে। পরে নগরীর ওয়াইজঘাট, তুরাগ, ডেমরা, পোস্তগোলা ঘাটে হবে প্রতিমা বিসর্জন। সারা দেশে মঙ্গলবার রাত ১০টার মধ্যে নিরঞ্জন (প্রতিমা বিসর্জন) শেষ করার নির্দেশনা দিয়েছে পূজা উদযাপন পরিষদ। উৎসব উপলক্ষে মন্দিরে আরতি ও সংগীত প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিশেষ প্রসাদ বিতরণ করা হবে উল্লেখযোগ্য ম-পগুলোতে।

এ বছর সারা দেশে ৩১ হাজার ৩৯৮টি ম-পে দুর্গা পূজার আয়োজন হয়েছে, যা গতবারের চেয়ে ৪৮৩টি বেশি। রাজধানীতে ২৩৬টিসহ ঢাকা বিভাগে ৭ হাজার ২৭১টি ম-পে এবার পূজা হবে। এছাড়া চট্টগ্রামে ৪ হাজার ৪৫৬টি, সিলেটে ২ হাজার ৫৪৫টি, খুলনায় ৪ হাজার ৯৩৬টি, রাজশাহীতে ৩ হাজার ৫১২টি, রংপুরে ৫ হাজার ৩০৫টি, বরিশালে ১ হাজার ৭৪১টি, ময়মনসিংহে ১ হাজার ৬৩২টি ম-পে দুর্গা পূজার আয়োজন হয়েছে।