প্রবাসী আয়ে প্রণোদনা

অর্থমন্ত্রী তার কথা রেখেছেন। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশীরা দেশে তাদের প্রেরিত কষ্টার্জিত অর্থ প্রেরণ সাপেক্ষে নগদ সহায়তা তথা প্রণোদনা পেতে শুরু করেছেন। এই প্রণোদনা হবে ২ শতাংশ হারে। তদুপরি ১ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত পাঠানোর ক্ষেত্রে কোন প্রশ্ন করা হবে না। এর বেশি হলে পাসপোর্টের কপি, বিদেশী কোম্পানির নিয়োগপত্র, ব্যবসা করলে নথিপত্র ইত্যাদি লাগবে। তবে প্রতিদিন প্রতিবারে দেড় হাজার ডলার করে যত ইচ্ছা টাকা পাঠানো যাবে। আর প্রতিবারই মিলবে নগদ সহায়তা। উল্লেখ্য, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে তিন হাজার ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয় প্রণোদনার জন্য। সে থেকে ইতোমধ্যে ছাড় করা হয়েছে ১ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা। অতঃপর গত ১ জুলাই থেকে বিশ্বের যে কোন দেশ থেকে যে বা যারাই রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন, তারা সবাই পাবেন প্রণোদনা। এর ফলে চলতি অর্থবছরে প্রবাসী আয় বেড়ে দাঁড়াতে পারে ১ হাজার ৮০০ কোটি থেকে ২ হাজার কোটি মার্কিন ডলার। যা এখন এক হাজার ৫০০ কোটি ডলার। এর পাশাপাশি প্রবাসীদের জন্য বীমা ব্যবস্থাসহ বিমানবন্দরে হয়রানি কমানোর বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে।

প্রবাসী কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি এবং জাতিসংঘের তাগিদে অবশেষে বাস্তবায়িত হচ্ছে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশীদের জন্য বাধ্যতামূলক জীবন বীমা ব্যবস্থা ও আর্থিক প্রণোদনা দেয়ার বিষয়টি। এ দুটো পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে বর্তমান সরকারের জনকল্যাণমুখী নীতিরই যথার্থ প্রতিফলন। ইতোমধ্যে প্রবাসীদের জীবন বীমার আওতায় আনার লক্ষ্যে প্রণীত হয়েছে নীতিমালা। প্রবাসীদের সামর্থ্যরে বিষয়টি বিবেচনা করে দুই লাখ ও পাঁচ লাখ বীমা অঙ্কের জন্য প্রিমিয়ামও নির্ধারণ করা হয়েছে বেশ কম। জীবন বীমা কর্পোরেশনের পাশাপাশি বেসরকারী বীমা কোম্পানিকেও দেয়া হবে এই দায়িত্ব। দাবি আদায় নিশ্চিতের জন্য বীমা কোম্পানিগুলোকে আধুনিক, গতিশীল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা হবে। এর পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশীদের বৈধ পথে রেমিটেন্স প্রেরণে উৎসাহিত করতে এক হাজার ডলারে দেয়া হবে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা সুবিধা, যেটি শুরু হয়েছে ইতোমধ্যে।

প্রবাসী কলাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী জেনেভায় বীমা সম্পর্কিত জাতিসংঘ কনভেনশনে অনুসমর্থন দিয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষে। ফলে প্রবাসী কর্মীদের নিরাপত্তায় বিভিন্ন ধরনের বীমা করার পথ সুগম হয়েছে। আরও যা আশার কথা তা হলো, এর জন্য আপাতত নতুন করে অর্থ বরাদ্দের আবশ্যকতা নেই। প্রবাসী কল্যাণ তহবিলে বিদেশে কর্মরতদেরই প্রায় ১২শ’ কোটি টাকা পড়ে আছে। বিদেশে কোন কর্মী মৃত্যুবরণ করলে আপাতত এই তহবিল থেকে অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করা হয়। যা হোক, প্রবাসীদের জন্য বীমা চালু করা হলে প্রবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবসহ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসনসহ নানা ক্ষেত্রে সাহায্য-সহযোগিতা করা যাবে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের হিসাব মতে, বর্তমানে প্রায় সোয়া কোটি বাংলাদেশী অভিবাসী হিসেবে বিশ্বের ১৬০টি দেশে কর্মরত আছেন। নিত্যনতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি হওয়ায় প্রতিবছর চার-পাঁচ লাখ কর্মী যাচ্ছেন বিভিন্ন দেশে। বিদেশে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রেরিত অর্থে দেশের অর্থনীতিও সমৃদ্ধ হচ্ছে দিন দিন। এক হিসাবে হোম রেমিটেন্সের পরিমাণ ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। পোশাক রফতানির পরেই এর অবস্থান। অতঃপর প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য বীমা ব্যবস্থা কার্যকরসহ কষ্টার্জিত প্রেরিত অর্থের বিপরীতে প্রণোদনা দেয়া হলে তারা অবশ্যই উৎসাহিত ও উপকৃত হবেন। এতে আরও উন্নত ও সমৃদ্ধ হবে দেশের অর্থনীতি।