সৌদির সঙ্গে ২০ চুক্তি পুতিনের

প্রাইম আন্তর্জাতিক  :

এক দশকের মধ্যে প্রথমবার সৌদি আরব সফর করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সোমবারের এ সফরে তাকে লাল গালিচা অভ্যর্থনা দিয়েছেন বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ।

এ সফরে দু’দেশ কয়েকশ’ কোটি ডলার সমমূল্যের ২০টি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

সিরিয়ার সংঘাতে রিয়াদ ও মস্কো প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও পুতিনকে এবার রাজকীয় অভ্যর্থনাই দিয়েছে সৌদি আরব। পুতিন দেশটির বাদশাহ সালমান এবং ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

টেলিভিশনে দেয়া মন্তব্যে পুতিন ও সৌদি বাদশা সালমান দু’জনই আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। বাদশাহকে রাশিয়ার বিখ্যাত ‘গিরফ্যালকন’ প্রজাতির একটি বাজপাখি উপহার দেন পুতিন। বাজপাখিটির নাম ‘আলফা’।

বাদশাহর তরফ থেকে রুশ প্রেসিডেন্টকে একটি চিত্রকর্ম উপহার দেন যুবরাজ সালমান।

দু’দেশের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে এরোস্পেস, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও কৃষি সংক্রান্ত। গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির মধ্যে অন্যতম তথাকথিত ওপেকভুক্ত দেশগুলোর বিষয়ে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। অর্গানাইজেশন অব দ্য পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজ ও এর সদস্য নয় এমন ১০টি সদস্য দেশকে মিলে বলা হয় ওপেক।

বাদশাহ সালমান দু’দেশের মধ্যকার সম্পর্কের প্রশংসা করে বলেন, নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য আমরা রাশিয়ার সঙ্গে কাজ করতে চাই।

অন্যদিকে পুতিনের পক্ষ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিস্তারে আগ্রহী মস্কো এবং এ ধরনের সম্পর্ককে রাশিয়া বিশেষ গুরুত্ব দেয়।

চার বছর আগে ২০১৫ সালে সিরিয়ায় সামরিক বাহিনী পাঠিয়ে রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছিল। রাশিয়া ও ইরানের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত বাশার আল-আসাদ ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হন। আইএস ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরোধ টপকে তিনি ফের সিরিয়ার বেশিরভাগ অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। টানা কয়েক বছরের ওই গৃহযুদ্ধে আসাদবিরোধীদের সঙ্গেই সৌদি আরবের সখ্যতা ছিল।