নারীর উদ্যোগে সহায়তা

নারী উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার যুগোপযোগী নীতি ও কর্মসূচী বাস্তবায়ন করে আসছে। এর ফলে ব্যবসায়ে শিক্ষিত নারীর অংশগ্রহণও বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারের ব্যবসাবান্ধব নীতির কারণে ২০০৯ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া নারীরা শিল্পায়ন ও ব্যবসায় অধিকহারে সম্পৃক্ত হয়েছেন। একই সময়ে একজন নারীর উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার পথে সামাজিক ও পারিবারিক সমর্থনও আগের চেয়ে জোরদার হয়েছে। ব্যবসায়িক ঋণ গ্রহণে নারী উদ্যোক্তারা বিশেষ সহায়তা পাচ্ছেন এবং তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারে তারা অনেক এগিয়ে গেছেন। বৃহস্পতিবার রাজধানীতে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ফাউন্ডেশন পরিচালিত ‘এসএমই নারী উদ্যোক্তা : বাংলাদেশ পরিপ্রেক্ষিত ২০১৭’ শীর্ষক গবেষণার ফল প্রকাশ করা হয়। এ অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী সরকারের নারীবান্ধব নীতির উল্লেখ করতে গিয়ে বলেছেন, নারীদের বাদ দিয়ে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ কারণে নারী উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে এগিয়ে এলে শিল্প মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হবে। আমরা আশা করব, তার এই আশ্বাস কেবল কথার কথা হয়ে উঠবে না। সত্যিকারার্থেই উদ্যোগী ব্যবসায়ী নারী প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবেন এবং দেশের সমৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে।

বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী হলেও নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা এখনও আশানুরূপ নয়। গত বছর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছিল এই তথ্য। এতে দেখা যায়, উন্নত বিশ্বে চাকরি বাকরিসহ ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নারীর অবদান আশাব্যঞ্জক হলেও তুলনামূলকভাবে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে এই হার যথেষ্ট কম। তবে চীন, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া ও কোরিয়ার ক্ষেত্রে অবস্থা তুলনামূলকভাবে ভাল। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে তা আদৌ যথেষ্ট নয়। এই অঞ্চলে নারীরা অদ্যাবধি কমবেশি পুরুষের মুখাপেক্ষী অথবা পুরুষের ওপর নির্ভরশীল। গবেষণায় ৩০০ নারী উদ্যোক্তার সাক্ষাতকারে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, মাত্র একজন নারী নিজের উদ্যোগে ব্যবসা গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ১৫ লাখ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প রয়েছে (এসএমই), যার ১০ ভাগেরও কম উদ্যোক্তা নারী। অথচ নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে বিশেষ করে রাজনীতিতে বাংলাদেশ এক ঈর্ষণীয় উচ্চতায় অবস্থান করছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, স্পীকার, বিরোধীদলীয় নেত্রীসহ মন্ত্রী পর্যায়ে একাধিক নারী দক্ষতা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন দীর্ঘদিন থেকে, যা প্রশংসিত হয়েছে সারা বিশ্বে। সে অবস্থায় উদ্যোক্তা বা বিনিয়োগকারী হিসেবে নারীর পিছিয়ে থাকার বিষয়টি অগ্রহণযোগ্য। দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী যাতে উদ্যোক্তা হিসেবে অবদান রাখতে পারে সেজন্যে সবকিছুর আগে তরুণ ও শিক্ষিত নারীদের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। বিশেষ করে বিজনেস প্রপোজাল বা ব্যবসা পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে প্রয়োজন প্রশিক্ষণ। এর পাশাপাশি ব্যবসার প্রাথমিক পুঁজি সংগ্রহের ব্যাপারেও জানা প্রয়োজন। বিশ্বের অনেক দেশেই বিজনেস প্রপোজালের বিপরীতে বিনিয়োগ করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশেও এ ধরনের উদ্যোগ নেয়া আবশ্যক। এর পাশাপাশি ব্যাংকগুলোকে জামানতবিহীন ঋণ সুবিধাও বাড়ানোর পরামর্শ দেয়া যেতে পারে। যেটা হতে পারে বর্তমানের ২৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে কমপক্ষে এক কোটি করা। নারীসমাজ যথেষ্ট সাহসী ও কর্মোদ্যোগী। তাদের অধিকহারে অর্থনৈতিক কর্মকা-ে সম্পৃক্ত করার জন্য প্রধানত পুরুষের সদিচ্ছা, সহযোগিতা এবং সক্রিয়তা যে প্রয়োজন সেকথা পুনরুল্লেখের দরকার পড়ে না।