উন্নয়ন প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংক

বিশ্বব্যাংক আবারও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফরে এসে বাংলাদেশের উন্নয়ন ইস্যু ও রোহিঙ্গা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ব্যক্ত করেছে এই অভিমত। এও জানিয়েছে যে, রোহিঙ্গা ইস্যুটি রাজনৈতিক বিধায় এক্ষেত্রে সংস্থাটির তেমন করণীয় নেই। তবে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ত্রাণসহ আনুষঙ্গিক সহায়তায় তাদের আরও কিছু করণীয় রয়েছে নিশ্চয়ই। যে কারণে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের অকুণ্ঠ প্রশংসা করেছে তা হলো, ইতোমধ্যে জাতীয় প্রবৃদ্ধি ছাড়িয়ে গেছে ৮ শতাংশ। ২০২৪ সালের মধ্যে প্রবৃদ্ধি হবে ১০ শতাংশ। দেশটি এখন বিশ্বে শান্তিপূর্ণ ও উন্নয়নশীল। দারিদ্র্য নিরসনেও বাংলাদেশের সাফল্য উল্লেখ করার মতো। পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, গত ১০ বছরে প্রায় এক কোটি লোক নিজেদের হতদরিদ্র অবস্থা মোচনের যুদ্ধে জয়ী হয়েছেন। চলতি বছর অতি দারিদ্র্যের হার নেমে এসেছে এক অঙ্কের ঘরে, ৯ দশমিক ৭ শতাংশে। এটি একটি সুখবর নিঃসন্দেহে। উল্লেখ্য, দৈনিক ১ ডলার ৯০ সেন্ট আয়-উপার্জন করলেই সে আর দরিদ্র নয়। ২০১০ সালে দেশে হতদরিদ্রের সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৫৮ লাখ, এখন ১ কোটি ৬০ লাখ। অথচ স্বাধীনতার পরও দেশের অর্ধেক মানুষ ছিল হতদরিদ্র। অতি দারিদ্র্যের হারকেই আন্তর্জাতিক দারিদ্র্যসীমা হিসেবে ধরা হয়। কোন দেশে এই হার ৩ শতাংশের নিচে নেমে এলে সেই দেশকে ধরা হয় দারিদ্র্যমুক্ত দেশ। বাংলাদেশ এখন সেই লক্ষ্য অর্জনে দ্রুত ধাবমান। এসডিজির হিসাব অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্র্যের হার নামিয়ে আনতে হবে শূন্যে। এটিই এসডিজির অন্যতম লক্ষ্য। এর জন্য সপ্তম ও অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় নানামুখী উদ্যোগ ও পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। গ্রহণ করা হয়েছে জীবনচক্রভিত্তিক নানা সামাজিক সুরক্ষাসহ নিরাপত্তাকৌশল। এত কিছুর পরও কিছু প্রত্যন্ত অঞ্চল ও জনগোষ্ঠীর জন্য দারিদ্র্যবিমোচন কিছুটা কঠিন ও প্রতিকূল হতে পারে। সে অবস্থায় পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। এত কিছু দৃশ্যমান উন্নয়ন ও অগ্রগতির পরও বেসরকারী গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি বলছে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সংস্কার আটকে গেছে দুর্নীতির দুষ্টচক্রে। এও মনে রাখতে হবে যে, সরকার জঙ্গী সন্ত্রাস ও মাদকের মতো দুর্নীতির বিরুদ্ধেও গ্রহণ করেছে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি। সুতরাং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধিকে নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখার অবকাশ নেই। বর্তমান সরকার গত দশ বছরের উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় এবারও নির্বাচনী অঙ্গীকার ঘোষণা করেছে। তাতে আগামী পাঁচ বছরে জাতীয় প্রবৃদ্ধি দুই ডিজিটে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়েই গৃহীত এবং প্রণয়ন করা হচ্ছে পরবর্তী পাঁচশালা পরিকল্পনা। তাতে অগ্রাধিকার পেয়েছে দারিদ্র্যবিমোচন ও কর্মসংস্থান প্রকল্প। দেশের তরুণ সমাজকে কাজ দিতে গ্রহণ করা হয়েছে বিভিন্ন কমংসংস্থানমুখী পরিকল্পনা। দারিদ্র্য শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে গ্রহণ করা হয়েছে বেশ কয়েকটি সামাজিক কর্মসূচী। অবকাঠামো উন্নয়নে দশ মেগা প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়িত হলে বেসরকারী খাতে বিনিয়োগ বাড়বে। দেশে উদ্যোক্তা শ্রেণী তৈরি হবে। সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থানের নতুন নতুন ক্ষেত্র। দারিদ্র্য বিমোচন করে দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো বর্তমান সরকারের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্প। সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে শহরের চেয়ে গ্রামগঞ্জকে সবিশেষ প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। গ্রহণ করা হয়েছে নানাবিধ আর্থ-সামাজিক কর্মসূচী ও প্রকল্প। পরিকল্পনামন্ত্রীর মতে, যেভাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হচ্ছে তাতে ২০৩০ সালের আগেই দারিদ্র্যের হার শূন্যের কোঠায় নেমে আসতে পারে।