মির্জাপুরে শতাধিক বাড়ির অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক :

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে শতাধিক বাসা বাড়ির অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। বুধবার উপজেলার গোড়াই শিল্পাঞ্চলের নাজিরপাড়া এলাকায় তিতাস গ্যাস এন্ড ডিস্টিবিউশন কোং লি. এর টাঙ্গাইল জোনাল অফিস এ অভিযান পরিচালনা করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালিত হয় বলে তিতাস গ্যাস এন্ড ডিস্টিবিউশন কোং লি. এর টাঙ্গাইল জোনাল অফিসের ডেপুটি ম্যানেজার আরিফ মো. বাবু জানান।

তিতাস গ্যাস এন্ড ডিস্টিবিউশন কোং লি. এর টাঙ্গাইল জোনাল অফিসের সহকারী ব্যবস্থাপক তৌফিকুর রহমান ও মঞ্জুর রহমান জানান, একটি অসাধু চক্র বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে গোড়াই এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়েছে।

কর্মকর্তারা জানান, লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে এই অসাধু চক্র সিন্ডিকেট করে গোড়াই, নাজিরপাড়া, হাটুভাঙ্গা, সোহাগপাড়া, সৈয়দপুর, ক্যাডেট কলেজসহ বিভিন্ন গ্রামে সহস্রাধিক বাসা বাড়িতে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়েছে। অবৈধ গ্যাস সংযোগের ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিভিন্ন তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযান পরিচালনা করে শতাধিক বাসা বাড়ির অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে পাইপ খুলে নেওয়া হয়েছে। তাদের এ অভিযান চলমান থাকবে বলে জানান তারা। এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের মধ্যে গোড়াই এলাকার খন্দকার নুরুল ইসলাম, সালেহা বেগম, শাজাহান মিয়া ও সুরুজ আলমসহ ২০-২৫ জন অভিযোগ করেন, ঠিকাদারের মাধ্যমে ব্যাংকে ডিমান্ড নোটের টাকা জমা দিয়ে গ্যাস সংযোগ নিয়েছি। ঠিকাদারের লোকজন মাসে মাসে এসে গ্যাস বিলের টাকা নিয়ে যায়। এখন পর্যন্ত ব্যাংকে টাকা জমার কোন রশিদ হাতে দেয়নি।

গ্রাহকরা আরও অভিযোগ করেন, ঠিকাদার মতিয়ার রহমানসহ ৬-৭ জন ব্যক্তি তিতাস গ্যাস অফিসের লোকজনের সহায়তায় এলাকার সহস্রাধিক বাসা বাড়ির লোকজনের কাছ থেকে ৫০-৮০ হাজার টাকা নিয়ে গ্যাস সংযোগ দিয়েছেন। যারা টাকা নিয়ে ডিমান্ড নোট দিয়েছেন এখন আবার তারাই এসে গ্যাসের লাইন কেটে দিচ্ছে। এটা অন্যায় বলে তারা দাবি করেন।

এ ব্যাপারে তিতাস গ্যাস এন্ড ডিস্টিবিউশন কোং লি. এর টাঙ্গাইল জোনাল অফিসের ব্যবস্থাপক মো. সুরুজ আল মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অফিসের কোন লোকজন অবৈধ গ্যাস সংযোগের সঙ্গে জড়িত নয়। একটি অসাধু চক্র অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নাম ভাঙ্গিয়ে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে এখন পলাতক। যে সব বাসা বাড়ির গ্যাস লাইন বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে এগুলো সম্পূর্ণ অবৈধ সংযোগ। পর্যায়ক্রমে সকল বাসা বাড়ির অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে।