শ্রীপরের বরমীর কেন্দুয়া সেতু, ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর কাজ শুরুর উদ্যোগ নেই ২ বছরেও

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি :
গাজীপুরের শ্রীপুরের প্রশিদ্ধ বানিজ্যকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বরমী বাজার। এই বাজারে রয়েছে প্রায় কয়েকহাজার ছোট বড় ও মাঝারী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। নানা প্রয়োজনে প্রতিদিন হাজারও লোকজনের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠে এই এলাকা। বাজারটি গড়ে উঠেছে মূলত শীতলক্ষ্যা ও বানার নদীর মোহনায়। আর বাজারের প্রবেশ মুখেই রয়েছে কেন্দুয়া সেতু। প্রায় ৫০ বছর আগে নির্মিত এই সেতুটি ঝরাজীর্ন হয়ে পড়ায় ২ বছর ধরেই সেতুটির পাশে ঝুলছে সতর্কীকরনের ফলক, অথচ সেতুটি নির্মানের কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি আদৌ। দুর্ঘটনার আশংকা মাথায় নিয়েই বাধ্যহয়েই স্থানীয়দের ঝুঁকিপূর্ন এই সেতু দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে।
বরমী ইউনিয়ন পরিষদর চেয়ারম্যান শামসুল হক বাদল সরকার বলেন, প্রায় ৫০ বছর পূর্বে বাজারের প্রবেশ মুখে কেন্দুয়া এলাকায় নালজোড়া খালের উপর নির্মিত এই সেতুটির গুরুত্ব অনেক। প্রতিদিন সেতুর উপর দিয়ে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে শত শত ছোট, মাঝারী ও ভারী যান চলাচল করে। অতিরিক্ত যানের চাপে গত দুই বছর আগে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ন হয়ে পড়ায় সতর্কসংবলিত ফলক দেয়া হয়। বর্তমানে এই সেতুটির পিলারগুলো নড়বড়ে হয়ে পড়ায় যে কোন সময় ভেঙ্গে পড়ে দুর্ঘটনার আশংকা তৈরী হয়েছে। তিনি একাধিকবার এই এই সেতুটির ঝুঁকিপূর্ন অবস্থা স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করলেও সেতুটি পূনঃনির্মানে কারো কোন ধরনের উদ্যোগ নেই।
বরমী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ড সদস্য আলী আমজাদ পন্ডিত জানান,বরমীর শীতলক্ষ্যা নদীর মাধ্যমে আসা অধিকাংশ বালি বরমী বাজার থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিবহন করা হয়। রাতের বেলায় ভারী যানবাহনের চাপ থাকে এই ঝুঁকিপুর্ণ সেতুর উপর। এতে যে কোন সময় তা ভেঙ্গে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
বরমী বাজার বনিক সমিতির সাবেক সভাপতি অহিদুল আলম ভূইয়া বলেন, ব্যবসায়ীদের মালামাল পরিবহনে প্রতিনিয়ত আমাদের এই সেতুটি ব্যবহার করতে হয়। কয়েক বছর ধরে সেতুটির ঝুঁকিপূর্ন অবস্থার প্রেক্ষিতে আমাদের ভিন্ন পথ ব্যবহার করতে হয়। এতে প্রায় ১২ কিলোমিটার ঘুরে পণ্য পরিবহন করতে অনেক সময় লাগে সাথে, সাথে অর্থেরও খরচ হয় বেশী। অর্থনৈতিক গুরুত্বধাবনে জররুীভাবে সেতুটি মেরামতে উদ্যোগ নিলে দুর্ভোগ কমে আসত।
বালি পরিবহনকারী ট্রাকের চালক সিরাজুল হক জানান,এই সেতুর উপর যখন গাড়ী নিয়ে উঠি তখন ভয়ে ভয়ে থাকি, কখন না জানি ভেঙ্গে পড়ে। জীবিকার তাগিদেই অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই আমাদের গাড়ী নিয়ে এই সেতুর উপর উঠতে হয়।
ঝুঁকিপূর্ণ এই সেতুর বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী সৈয়দ আব্দুস সবুর জানান, তিনি সদ্য এই উপজেলায় যোগদান করেছেন, তাই বিষয়টি তিনি অবগত নন। অফিসের একজন উপসহকারী প্রকৌশলীর সাথে যোগাযোগের পরামর্শ তার।
তবে উপসহকারী প্রকৌশলী মাসুদুল হক জানান,এই সেতুটির ঝুঁকির্পূর্ণ অবস্থার প্রেক্তিতে উপজেলা প্রকৌশল অফিস ইতিমধ্যেই সেতুটির ডিজাইন তৈরী করে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করেছে। সেখানকার অনুমোদন পাওয়া সাপেক্ষে কাজ শুরু হবে।