মঙ্গলবার, এপ্রিল ২০
Shadow

দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন

কী বলা যাইবে ইহাকে? নির্মম, নিষ্ঠুরতা না পৈশাচিক? নরসিংদীর শিবপুরে মোবাইল ফোন চুরির সন্দেহে এক কিশোরীকে গায়ে কেরোসিন ঢালিয়া পুড়াইয়া হত্যার অভিযোগ পাওয়া গিয়াছে। মুমূর্ষু অবস্থায় নরসিংদী হইতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে লইয়া আসিবার পর শনিবার ভোরে আজিজা খাতুন নামে ১৩ বছর বয়সী ওই কিশোরীর মৃত্যু হয়। বার্ন ইউনিটের চিকিত্সকরা জানাইয়াছেন, মেয়েটির শরীরের ৯৪ শতাংশ পুড়িয়া গিয়াছিল। আজিজা স্থানীয় বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে অধ্যয়ন করিত। নিহতের পিতা অভিযোগ করিয়াছেন যে, আজিজার চাচী বিউটি বেগম এই হত্যার জন্য দায়ী। কারণ কয়েকদিন আগে তিনি আজিজাকে ‘পুড়াইয়া মারিবার হুমকি’ দিয়াছিলেন। অভিযোগে পিতা ইহাও বলিয়াছেন যে, বিউটি বেগমের ভাইয়েরা পুড়াইবার কাজটি করিয়াছে। মৃত্যুর আগে নাকি আজিজা পিতাকে ইহা জানাইয়া গিয়াছে।
তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চয়ই বাহির হইয়া আসিবে কে বা কাহারা প্রকৃতই এই ঘটনা ঘটাইয়াছে। তবে পিতার অভিযোগ সূত্রে বিউটি বেগম এবং তাহার আত্মীয়রা নিশ্চয়ই সন্দেহের তালিকায় শীর্ষে থাকিবে। একজন কিশোরীকে পুড়াইয়া মারা নিশ্চয়ই অপরাধ হিসাবে অত্যন্ত জঘন্য। আর তাহা যদি সত্যিই এক মোবাইল ফোনের জন্য হইয়া থাকে, তবে তাহাকে বলা যাইবে জঘন্যতম। কারণ মোবাইল ফোন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সামগ্রী হইলেও মহামূল্যবান কিছু নহে। আজিজা যদি ইহা চুরি করিয়াই থাকে তবে প্রমাণ সাপেক্ষে তাহাকে অন্য কোনো লঘু শাস্তি প্রদান করা যাইত, পুড়াইয়া মারিবার মত কোনো ঘটনা ইহা নহে। অবশ্য ফলোআপ সংবাদে জানা যাইতেছে, আজিজার চাচা প্রবাসী হইবার কারণে, চাচী বিউটি বেগমের এক পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়িয়া ওঠে, যেই সম্পর্কের কথা আজিজা জানিয়া ফেলিবার কারণেই চাচী কিশোরীটিকে হত্যার পরিকল্পনা করে। মোবাইল ফোন চুরি একটা অজুহাত মাত্র।
প্রশ্ন তোলা যাইতে পারে, কী এমন মনস্তত্ত্ব কাজ করিয়াছে এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে? সমাজের কোন গভীরে কোন পচন অথবা ক্ষত এইরূপ অমানবিক কাজে কাহাকেও প্রলুব্ধ করিতে পারে। তাহাদের কি ন্যূনতম মানবিক বোধ নাই? চাচীর অনৈতিক সম্পর্কের কথা আজিজা যদি জানিয়াই ফেলে, তাহা হইলেও কি নিরপরাধ কিশোরীটির এই নিষ্ঠুরতা প্রাপ্য? তাহাকে হাত-পা বাঁধিয়া গায়ে কেরোসিন ঢালিয়া পুড়াইয়া মারা হইয়াছে। পুড়াইবার পর তাহার বিকৃত চেহারা বা অবয়ব শনাক্তযোগ্য ছিল না। একটি ব্যক্তিগত অনৈতিক কর্ম কত বড় মর্মান্তিক ঘটনার জন্ম দিয়াছে! কত লোক জড়াইয়া গিয়াছে এক হত্যাকাণ্ডে! পুলিশ অভিযুক্তের তালিকায় রাখিয়াছে স্বয়ং বিউটি বেগম, তাহার চাচাতো ভাই, তাহার মা ও ফুপুশাশুড়ি প্রমুখকে। গ্রেফতার করা হইয়াছে কেরোসিন বিক্রেতাকে। এতগুলি মানুষ এক হত্যাকাণ্ডে জড়িত হইয়া গেল, তাহাদের কি আইন-শৃঙ্খলার প্রতি কোনোরূপ শ্রদ্ধাবোধ নাই, ভীতি নাই? তাহাদের বুদ্ধি-বিবেচনা তাহারা কোথায় বিকাইয়া দিয়াছে? আসলে এইরূপ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার হওয়া উচিত এবং শাস্তিও হওয়া উচিত দৃষ্টান্তমূলক, যাহাতে কেহ নিজেদের অপরাধ ঢাকিতে অন্যের উপর চড়াও হইতে না পারে। নিরপরাধ মানুষ যেন কিছুতেই অন্যায়ভাবে আক্রমণের শিকার না হয়, সমাজে সেই পরিস্থিতি কায়েম করিতে হইবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.