অবশেষে সু চি বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা নিধনের অপরাধে মামলা

প্রাইম আন্তর্জাতিক  :

মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিম নিধনের ঘটনায় দেশটির নেত্রী অং সান সু চি সহ কয়েকজন সামরিক নেতার বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনায় মামলা করেছে রোহিঙ্গা ও লাতিন আমেরিকান মানবাধিকার সংগঠনগুলো। এই প্রথম শান্তিতে নোবেল বিজয়ী সু চির বিরুদ্ধে সরাসরি কোনও মামলা হলো।

কে এই অং সান সু চি
১৯৪৫ সালের ১৯ জুন তৎকালিন ব্রিটিশ উপনিবেশের অংশ বার্মার রেঙ্গুনে জন্ম অং সান সু চি’র৷ বাবা জেনারেল অং সান-কে যখন হত্যা করা হয় সু চি-র বয়স তখন মাত্র ৩ বছর৷
রাজনীতিতে আসা
ভারতেই কেটেছে সুচির শৈশব। পরে উচ্চ শিক্ষার্থে ইংল্যান্ডে যাওয়ার পর সেখানে মাইকেল অ্যারিসের সঙ্গে পরিচয় হয়৷ পরবর্তীতে অ্যারিসকেই বিয়ে করেছিলেন সু চি৷ দুটি ছেলে আছে এই দম্পতির ৷ ১৯৮৮ সালে মিয়ানমারে ফিরে সু চি দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণাও দেন প্রথম জনসভাতেই৷

নোবেল পেলেন সু চি
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য অহিংস আন্দোলন করায় ১৯৯১ সালে সু চি-কে শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর স্বীকৃতি দেয় নোবেল কমিটি৷ সে সময় গৃহবন্দি থাকায় সু চি নিজে পুরস্কার নিতে যেতে পারেননি ৷ তার পক্ষ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেছিলেন তার ব্রিটেনে নির্বাসিত পুত্র কিম৷

২০ বছর পর নোবেল তুলে দেওয়া
২০১২ সালে মুক্ত সু চি-র হাতেই তাঁর পুরস্কারটা তুলে দেয় নোবেল কমিটি৷ সু চি জানান, এই পুরস্কার তাকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অনেক প্রেরণা জুগিয়েছে৷

২০১৭ রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে সুচির নীরব ভূমিকা
মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর ব্যাপক নির্যাতন সত্ত্বেও এর প্রতিবাদ করেননি অং সান সু চি৷ হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সাত লাখেরও বেশি মানুষ। অনেক রোহিঙ্গা দেশছাড়া হয়ে সাগরে ডুবে মরলেও সু চি নীরব ভূমিকাই পালন করছেন৷ শান্তিতে নোবেল জয়ী হয়েও একটি সম্প্রদায়ের ওপর অত্যাচার নির্যাতনের বিষয়ে তাঁর নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করেছেন অনেকেই৷

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলায় গাম্বিয়াকে ক্যানাডার সমর্থন
রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে গত ১১ নভেম্বর সোমবার মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়ার আন্তর্জাতিক আদালতে দায়ের করা মামলায় সমর্থন দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে কানাডা৷ কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ডকে উদ্ধৃত করে এ খবর জানিয়েছে দ্যা ক্যানাডিয়ান প্রেস৷

এক বিবৃতিতে ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড বলেন, মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার দায়ের করা আন্তর্জাতিক গণহত্যা কনভেনশন লঙ্ঘনের অভিযোগের বিষয়টিতে ক্যানাডার সমর্থন রয়েছে৷ এ বিষয়ে কিভাবে পূর্ণ সহায়তা সহায়তা প্রদান করা যায় সে পথ খুঁজছে ক্যানাডা৷

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সাত লাখেরও বেশি মানুষ। ১১ নভেম্বর সোমবার মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা নিপীড়নকে গণহত্যা আখ্যা দিয়ে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালতের কাছে বিচার চায় আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া। নিধনযজ্ঞ পেরিয়ে যাওয়ার প্রায় আড়াই বছর পর প্রথমবারের মতো কোনও দেশ এমন পদক্ষেপ নেয়।তবে আর্জেন্টিনার আইনে গণহত্যা বিষয়ক কোনও ফৌজদারি আইন না থাকায় গণহত্যা মামলা করা যায়নি।

‘ইউনিভার্স জুরিসডিকশন’ বা ‘বৈশ্বিক বিচার দায়বদ্ধতার’ আওতায় আর্জেন্টিনায় মামলাটি করা হয়েছে। যুদ্ধাপরাধ কিংবা মানবতাবিরোধী অপরাধ বেশি ভয়াবহ হলে যেকোনও দেশেই তার বিচার হতে পারে এমন ধারণা থেকে এই আইন করা হয়েছিলো। এর আগে আর্জেন্টিনার আদালতে স্প্যানিশ স্বৈরশাসক ফ্রান্সিসকো ফ্রাঙ্কো ও চীনের ফালুন গং আন্দোলনের বিচার হয়েছিলো এই আইনের আওতায়।

আইনজীবী টমাস ওজিয়া বলেন, অভিযোগে অপরাধী, সহযোগী ও তথ্য গোপনকারীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়। আমরা আর্জেন্টিনার মাধ্যমে এটা করছি কারণ অন্য কোথাও এই অভিযোগ করার কোনও সম্ভাবনা নেই।

ওই মামলায় মিয়ানমারের সু চির মতো শীর্ষ রাজনীতিক ও সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাংয়ের মতো সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ওজিয়া আশা করছেন, এই মামলার পর তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হতে পারে।

বার্মিজ রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশন ইউকে এর প্রেসিডেন্ট তুন খিন বলেন, ‘দিনের পর দিন মিয়ানমার সরকার আমাদের উৎখাতে চেষ্টা করে গেছে। আমাদের হত্যা করা হয়েছে কিংবা দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে।’