শিক্ষার সঙ্গে প্রযুক্তি

শিক্ষার গ্রহণযোগ্যতায় বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার দৃশ্য সুস্পষ্ট ও দৃশ্যমান। প্রাইমারী শিক্ষা থেকে আরম্ভ করে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার হার বেড়ে যাওয়ার সুফল বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তে উঠে এসেছে। সমতাভিত্তিক প্রবৃদ্ধিতে ছাত্রছাত্রীর অবস্থান নজরকাড়া। উচ্চশিক্ষা এবং উচ্চতর গবেষণায় শিক্ষার্থীদের এগিয়ে যাওয়া বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থাপনার এক ইতিবাচক দিক। শিক্ষানগরী রাজশাহীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি আয়োজন করা হয় পঞ্চম সমাবর্তনের। রুয়েটের এই অনুষ্ঠানে সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ। সমাবর্তন ভাষণে তিনি শিক্ষার পাঠক্রমের সঙ্গে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সমন্বয়কে সমধিক গুরুত্ব দিয়ে বলেন, পুঁথিগত বিদ্যার সহযোগী শক্তি হিসেবে গবেষণা এবং আধুনিক বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারকে মেলাতে না পারলে যথার্থ জ্ঞানার্জনের ঘাটতি থেকে যাবে। যুগ আর সময়ের চাহিদায় শিক্ষা কার্যক্রমকে প্রযুক্তিনির্ভর করা বিদ্যার্জনের অন্যতম শর্ত হিসেবে বিবেচনায় আনা সঙ্গত। বাস্তবভিত্তিক প্রায়োগিক শিক্ষার ব্যাপারে আরও সচেতন এবং সজাগ থাকা বাঞ্ছনীয়। কারণ পাঠ্যপুস্তকে অর্জিত হয় তাত্ত্বিক জ্ঞান, যা মনন বিকাশকে নানা মাত্রিকে সমৃদ্ধ করে। তার প্রত্যক্ষ প্রয়োগ যদি ব্যবহারিক জীবনযাত্রায় প্রতিফলিত না হয় তা হলে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা আংশিক ও অর্ধেক হয়ে যেতে পারে। আর তাই পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা কার্যপরিধিতে নিত্যনতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন সঙ্গে বিজ্ঞানের বিজয়রথকে সম্পৃক্ত করাই হবে যথার্থ জ্ঞানার্জনের মূল ভিত্তি। দক্ষ মানবসম্পদের অপার সম্ভাবনার দেশ আমাদের। সেখানে কারিগরি আর প্রযুক্তিগত বিদ্যায় কিছুটা পিছিয়ে থাকার কারণে যথার্থ সমৃদ্ধির পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তেমন বাধাবিঘœকে অতিক্রম করতে প্রকৌশল বিদ্যার মতো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতেও সমান পারদর্শিকতা অর্জন দেশ ও নিজের স্বার্থে জরুরী। বর্তমান সরকার দেশের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন প্রক্রিয়ায় কারিগরি ও প্রযুক্তিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রেখে পাঠক্রমের আওতাধীন করেছে। আর সেটার শুরু হয়েছে একেবারে প্রাইমারী শিক্ষা কার্যপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে। টেকসই উন্নয়ন আর দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে শিক্ষাই একমাত্র পথ নয়। তার চেয়েও বেশি আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিদ্যায় সফলভাবে দক্ষ এবং পারদর্শী হওয়া।

উচ্চশিক্ষা কিংবা উন্নত গবেষণায় সম্পৃক্ত করতে দেশে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানের জ্ঞানচর্চায় বিশ্ব পরিসরে নিত্যনতুন বৈজ্ঞানিক শক্তিকেও শিক্ষার্থীদের হাতের নাগালে পৌঁছে দিতে সরকার বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিচ্ছে। এমন সব সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে ছাত্রছাত্রীরা দেশের যোগ্যতম নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠে বিশ্বসভায়ও তার স্থান মজবুত করবে। বিজ্ঞাননির্ভর অর্র্জিত জ্ঞানের বিকল্প অন্য কিছু হতে পারে না। প্রযুক্তিগত শিক্ষাকে আরও প্রায়োগিক করতে গবেষণাগারের প্রয়োজনকেও সমধিক গুরুত্ব দেয়া বাঞ্ছনীয়। যেখানে ছাত্রছাত্রীরা হাতে-কলমে তার অর্জিত জ্ঞানকে আরও বাস্তবসম্মত করতে পারদর্শী হবে। উন্নত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উচ্চশিক্ষার পীঠস্থানে বাজেট বরাদ্দের ব্যাপারেও সরকার আগ্রহী। এসবের সফল প্রয়োগ করে আধুনিক প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের অবিস্মরণীয় অগ্রযাত্রাকে উচ্চশিক্ষা এবং উচ্চতর গবেষণায় ব্যবহার করতে পারলেই শিক্ষার গুণগতমান বৃদ্ধি ছাড়াও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।