মঙ্গলবার, জানুয়ারি ১৯
Shadow

সংবিধান অনুযায়ীই নির্বাচন, বিএনপির সঙ্গে আলোচনা নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক :

আগামী নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের অধীনে হবে। এ নিয়ে বিএনপির সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হবে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত স্মরণ সভায় দলটির নেতারা এ কথা জানান। স্মরণ সভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্ব করার কথা থাকলেও অসুস্থতার জন্য তিনি অংশ নেন নি। তার পরিবর্তে সভায় সভাপতিত্ব করেন দলটির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।

সভাপতির বক্তব্যে আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে আমির হোসেন আমু বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। অন্য কোনো পন্থায় নির্বাচন হবে না। ১৯৯৬ সালে তৎকালীন প্রেক্ষাপটে নির্বাচনকালীন সময়ের জন্য আওয়ামী লীগের তত্ত্বাবধায়ক সরকার দাবির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি করেছিল, খালেদা জিয়া তখন বলেছিলেন পাগল আর শিশু ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ নয়। এখন তিনি কোন মুখে আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার দাবি করেন। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচন হবে। আগামী নির্বাচনে জনগণের রায় নিয়ে আবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। আদালতের মাধ্যমে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হেনস্থা করা হচ্ছে, খালেদা জিয়া ও বিএনপির অভিযোগের জবাবে মতিয়া চৌধুরী বলেন, আপনি তো কোর্টকে হেনস্থা করছেন। ১৪৩ বার সময় নিয়েছেন। আপনার ভাষায় বলতে চাই আপনিই আদালতকে হেনস্থা করছেন। আদালত আপনাকে হেনস্থা করছে না। বিএনপির সহায়ক সরকারের দাবি প্রত্যাখান করে আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, কোনো সহায়ক সরকার হবে না, কোনো ভাবনার সরকার হবে না। আগামী নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী হবে। আপনারা আসলে আসবেন, না আসলে রাস্তায় গিয়ে চিৎকার করুন। আপনাদের সঙ্গে কোনো কথা হবে না। এরা ৭১ এর, ৭৫ এর খুনি। খুনিদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না। বিএনপিকে নির্বাচনে আনার দায়িত্ব আওয়ামী লীগের নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিএনপির আন্দোলনের হুমকির জবাবে আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, আবার মাথা ছাড়া দিয়ে উঠলে, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, জ্বালাও পোড়াও করলে ছাড় দেওয়া হবে না। মানবতাবিরোধী অপরাধে বিচার করা হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, সাংবাদিক ভাইদের বলছি লিখে রাখুন। আগামী নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী হবে। বিএনপির আন্দোলনের হুমকির জবাবে তিনি বলেন, আন্দোলন করে লাভ নেই। আওয়ামী লীগ আন্দোলনে চ্যাম্পিয়ন। আমরা মার খেয়ে মাঠে থেকেছি। আর বিএনপি..। বিএনপিকে জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, যদি সাহস থাকে আগামী নির্বাচনে আসেন। নির্বাচনের মাঠ থেকে পালাবেন না। দেখবো জনগণ কাকে চায়। মিথ্যাচার, মানুষ হত্যা, লুটপাট, ষড়যন্ত্রের রাজনীতির জন্য জনগণ বিএনপিকে প্রত্যাখান করবে। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ১৫ আগস্ট ও ৩ নভেম্বরের হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে যারা জড়িত তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। নইলে কলঙ্কিত ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হতে পারে। অসুস্থতার কারণে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে পারেন নি জানিয়ে তিনি বলেন, উনার অস্ত্রোপচারের পর যতোটুকু বিশ্রামে থাকার কথা ছিল উনি তা ছিলেন না। তিনি চাপ নিয়ে কাজ করেছেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, উনি এ রকম জাতীয় দিবসের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন নি এমনটা ঘটেনি। উনি অসুস্থতার কারণে আসতে পারেন নি। আগামী ৫ নভেম্বর কমনওয়েলথ পার্লামেন্টরি কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করবেন আশা করছি। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.